নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল আসার জেরে এক গ্রাহকের বাড়িতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। মোহনগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অন্তর্ভুক্ত আদর্শনগর অভিযোগ কেন্দ্রের কর্মী রাশেদ মিয়ার কাছে এই বেশি বিল আসার প্রসঙ্গটি তুলেছিলেন গ্রাহক। এরপর বিষয়টি জানানো হয় ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার বা ডিজিএম ইমদাদুল হককে। পরবর্তী সময়ে ওই কর্মকর্তার নির্দেশক্রমেই সেদিন বিকেলে স্বপন মিয়ার বাসাবাড়ির বিদ্যুৎ লাইন কেটে দেওয়া হয়।
এই ঘটনার শিকার আসমা আক্তার নিজের সংকটের কথা তুলে ধরে জানান যে, তিনি গত সেপ্টেম্বর মাসে তিন মাসের বিল একসঙ্গে তিন হাজার একশ টাকা পরিশোধ করেছিলেন। অথচ এর পরের মাস অর্থাৎ অক্টোবরেও তার প্রায় নয়শ টাকা বিদ্যুৎ বিল এসেছে। তার ভাষ্যমতে, সারা দিনে সেখানে মোটে কয়েকটি ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকে, আর বাসায় সাকুল্যে একটি ফ্রিজ ও দুটি বৈদ্যুতিক পাখা চলে। এত কম ব্যবহার সত্ত্বেও এত বেশি বিল আসার কারণ কী, সেটিই তিনি জানতে চেয়েছিলেন।
শুধু নিজের পরিবারই নয়, বরং আশেপাশের অন্য বাসিন্দারাও অতিরিক্ত বিলের এই সমস্যা নিয়ে অভিযোগ করছেন বলে দাবি করেন আসমা আক্তার। তিনি জানান, বিলের বিষয়ে কথা বলার সময় বিদ্যুতের সেই কর্মী তাকে শাসিয়ে বলেছিলেন যে তিনি বেশি কথা বললে মিটারটিই খুলে নিয়ে যাওয়া হবে। এর কিছুক্ষণ বাদেই মোটরসাইকেলে চেপে দুজন ব্যক্তি এসে সরাসরি বিদ্যুৎ সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করে দিয়ে চলে যান।
সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার কারণে বাসায় থাকা ফ্রিজে রক্ষিত মাছ ও মাংস নষ্ট হয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী নারী। তিনি জানান যে ইতিমধ্যে তাদের গত দুটি রাত সম্পূর্ণ অন্ধকারের মধ্যে কাটাতে হয়েছে। একদিকে বিদ্যুৎ থাকে না, অন্যদিকে বিল আসে অতিরিক্ত—এমন পরিস্থিতিতে গ্রাহকরা তো দু-চারটি কথা বলতেই পারেন বলে মন্তব্য করেন তিনি। কেবল এই কারণে সংযোগ কেটে দেওয়াটা সমীচীন হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন যে বর্তমানে তারা চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন।
অন্যদিকে ভিন্ন কথা বলেছেন আদর্শনগর অভিযোগ কেন্দ্রের ইনচার্জ হামিদুর রহমান। তার দাবি অনুযায়ী, বিল পরিশোধের জন্য গেলেই ওই গ্রাহক প্রতিবার তাদের মাঠকর্মী রাশেদ মিয়াকে অত্যন্ত অশালীন ভাষায় গালাগাল করে থাকেন। এমনকি খোদ ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজারের হাত কেটে ফেলার মতো গুরুতর হুমকিও প্রদান করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
হামিদুর রহমান আরও স্পষ্ট করেন যে মিটারে কোনো রকম ত্রুটি বা অন্য কোনো অভিযোগ থাকলে তা জানালে তারা তাৎক্ষণিকভাবে সমাধানের উদ্যোগ নিয়ে থাকেন। কিন্তু নির্দিষ্ট ওই গ্রাহক কোনো ধরনের সমস্যার কথা না জানিয়ে কেবল গালাগাল করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। পুরো বিষয়টি ডিজিএম মহোদয়কে অবগত করার পরই তার সুনির্দিষ্ট নির্দেশনায় সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে বলে জানান এই ইনচার্জ।
ডিজিএম ইমদাদুল হক সংবাদমাধ্যমকে জানান যে ওই গ্রাহকের বিদ্যুৎ মিটার কিংবা বিলের রিডিংয়ে কোনো ধরনের ত্রুটি বা সমস্যা নেই। তা সত্ত্বেও বিলের টাকা পরিশোধ করতে গেলেই কর্মীদের অশ্রাব্য ভাষায় গালমন্দ করা হয় এবং তাকে নিজে হাত কেটে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়েছে মর্মে তিনি অভিযোগ পেয়েছেন। মূলত এসব বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির কারণেই লাইনটি বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। তবে স্থানীয় মান্যগণ্য ব্যক্তিরা বিষয়টি মীমাংসার জন্য বৈঠকে বসবেন এবং ভবিষ্যতে এমন আচরণ করবেন না বলে মুচলেকা বা নিশ্চয়তা পাওয়া গেলে সংযোগটি আবার চালু করে দেওয়া হবে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর