নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লুলার বিপক্ষে লড়ে হেরে যাওয়ার পরই দেশ ছেড়ে মার্কিন মুলুকে পাড়ি জমিয়েছেন সিনেটর ফ্ল্যাভিও বলসোনারো। গত ২৫ অক্টোবরের ওই প্রেসিডেন্ট লড়াইয়ে লুলার কাছে পরাজয় বরণ করেন সাবেক ব্রাজিলীয় প্রেসিডেন্ট জায়ার বলসোনারোর এই পুত্র। এই জয়ের মধ্য দিয়ে চতুর্থবারের মতো ব্রাজিলের শীর্ষ রাষ্ট্রীয় আসনে প্রত্যাবর্তন ঘটেছে লুলার।
বর্তমান সিনেটর ফ্ল্যাভিওর বিরুদ্ধে নিজ দেশে অর্থ পাচার, দুর্নীতি ও কর ফাঁকি দেওয়ার মতো গুরুতর সব অপরাধে একাধিক বিচারিক অনুসন্ধান চলমান রয়েছে। ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলার সুনির্দিষ্ট দাবি, আইনি প্রক্রিয়া এড়িয়ে চলা এবং মার্কিন ভূমিতে নিরাপত্তা খোঁজার অংশ হিসেবেই ফ্ল্যাভিও ফ্লোরিডার মায়ামিতে গিয়ে আত্মগোপন করেছেন।
ফ্ল্যাভিওকে অত্যন্ত কঠোর ভাষায় সতর্ক করে লুলা গণমাধ্যমের সামনে বলেন যে, ওই ব্যক্তি সেখানে আশ্রয়ের সন্ধান করছেন। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি কেমন নিরাপত্তা পান, সেটাই দেখার বিষয়। তাকে যেকোনো মূল্যে নিজ মাতৃভূমিতে ফিরে আসতে হবে এবং আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে আইনি জবাবদিহির মুখে পড়তে হবে।
লুলার এমন তীব্র ও বিদ্রূপাত্মক মন্তব্যটি প্রকাশ পায় গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্তর্বর্তীকালীন নির্বাচনের ফলাফল চূড়ান্তভাবে পরিষ্কার হওয়ার পরপরই। ওই মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—উভয় বিভাগেই নিজেদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে ডেমোক্র্যাটরা।
মার্কিন নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের এই আধিপত্যকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার দল রিপাবলিকান পার্টির জন্য একটি মারাত্মক ও বড় ধরনের রাজনৈতিক বিপর্যয় বলে বিবেচনা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লুলার কাছে শোচনীয়ভাবে হেরে যাওয়ার পর থেকে ফ্ল্যাভিও বলসোনারো এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক পরাজয় স্বীকার করেননি। এমনকি কোনো রকম শক্ত ও সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই তিনি বারবার ওই ব্রাজিলীয় নির্বাচনে ভোট জালিয়াতির ভুয়া অভিযোগ তুলে যাচ্ছেন।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর