নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
আসন্ন ফরাসি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে শীর্ষস্থানে থাকা প্রার্থী মেরিন লো পেন ভোটারদের সামনে ঘোষণা দিয়েছেন যে, কেবল তাঁর রাজনৈতিক দলই দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম। অন্যদিকে স্পেনের উগ্র ডানপন্থী দল ভক্সের ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য হোর্হে মার্তিন ফ্রিয়াস তীব্র সমালোচনা করে অভিযোগ করেছেন যে, ইউরোপের প্রচলিত মূলধারার রাজনীতিকেরা অহংকারের অন্ধকূপে ডুবে থেকে সাধারণ জনগণের কথা সম্পূর্ণ ভুলে গেছেন।
ফরাসি সরকারের নীতিনির্ধারক ও ডানপন্থী নেতারা সরাসরি আঙুল তুলছেন সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী এবং উগ্র বামপন্থী রাজনীতিক জঁ-লুক মেলঁশেঁর বিরুদ্ধে। তাঁদের অভিযোগ, চলমান বিক্ষোভ ও আন্দোলন শুরু হওয়ার পর থেকেই তিনি রাজনৈতিক ফায়দা তোলার অসৎ উদ্দেশ্যে শিক্ষার্থীদের রাজপথে উসকে দিচ্ছেন। তবে সাম্প্রতিক দাঙ্গা ও সহিংসতার ঘটনার পর প্রকাশিত বিভিন্ন জনমত জরিপে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে মেলঁশেঁর জনপ্রিয়তায় বিন্দুমাত্র ভাটা পড়ার লক্ষণ নেই।
ইতালির বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করলে দেখা যায়, রাজনৈতিক মতাদর্শের ব্যবধান সত্ত্বেও দেশটির প্রায় সব শিবিরের নেতৃত্বকেই অভিন্ন ও তীব্র চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। দেশটির উত্তরাঞ্চলে জর্জিয়া মেলোনির ডানপন্থী সরকারকে কঠোর হাতে সামলাতে হচ্ছে তরুণ প্রজন্মের লাগাতার বিক্ষোভ। ঠিক একই সময়ে ইতালির দক্ষিণাঞ্চলে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে মহাসড়কের প্রবেশমুখগুলোতে অবস্থান নিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করেছেন ট্রাকচালক ও কৃষকেরা।
স্পেনে আসন্ন আগাম নির্বাচনে রক্ষণশীল পিপলস পার্টি পর্যাপ্ত সংখ্যক আসনে জয়লাভ করে উগ্র ডানপন্থী দল ভক্সের সঙ্গে মিলে নতুন একটি জোট সরকার গঠন করতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা ধারণা করছেন। দেশের দীর্ঘদিনের আবাসনসংকট সমাধানের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বেশ কিছু পদক্ষেপের প্রস্তাব করেছিলেন, কিন্তু দীর্ঘসূত্রতার পর দেশের আইনপ্রণেতারা সেই প্রস্তাবগুলো সরাসরি নাকচ করে দেন।
জনরোষ দমনের উদ্দেশ্যে গৃহীত সেই সরকারি উদ্যোগগুলো প্রত্যাখ্যাত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই প্রধানমন্ত্রী সানচেজ বাধ্য হয়ে আগাম জাতীয় নির্বাচনের ঘোষণা দেন। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটি বড় অংশ মনে করেন যে কেবল একটি নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেই স্পেনের সাধারণ মানুষের মনে রাজনৈতিক নেতৃত্বের ওপর জমে থাকা ক্ষোভ ও অসন্তোষ দূর হয়ে যাবে না।
এদিকে ইউরোপজুড়ে ধীরে ধীরে তাপমাত্রা কমতে শুরু করেছে এবং পাল্লা দিয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে জ্বালানি শক্তির দাম। শীতকাল যত বেশি ঘনিয়ে আসবে, জার্মানির সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ততই গভীর চাপের মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। জ্যাক দেলর ইনস্টিটিউটের এনার্জি সেন্টারের প্রধান ফুক-ভিন নগুয়েন জানিয়েছেন যে, মধ্যপ্রাচ্যের ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির অভিঘাত থেকে সাধারণ পরিবারগুলোকে রক্ষা করতে সরকার কিছু সাময়িক পদক্ষেপ নিয়েছিল।
বর্তমানে সেই সুরক্ষা ব্যবস্থার মেয়াদ ফুরিয়ে আসায় জার্মানিজুড়ে নতুন করে জনঅসন্তোষ ও তীব্র আন্দোলনের পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে। বর্তমানের এই বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক বাস্তবতায় ইউরোপের কোনো দেশই সম্পূর্ণ নিরাপদ নয়, তবে আসন্ন শীত মৌসুমে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ রাষ্ট্রগুলোর তালিকায় শীর্ষে রয়েছে জার্মানি।
বিশেষজ্ঞ ফুক-ভিন নগুয়েন আরও উল্লেখ করেছেন যে, বর্তমানে জার্মানির নিজস্ব গ্যাসের মজুত ফুরিয়ে গিয়ে সর্বনিম্ন সীমার কাছাকাছি এসে ঠেকেছে। এর সরাসরি অর্থ হলো, আন্তর্জাতিক বাজারে গ্যাসের দাম বাড়লে জার্মান পরিবারগুলোকে তাদের ঘরবাড়ি গরম রাখার জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ অতিরিক্ত ব্যয় করতে হবে।
গ্যাসের আন্তর্জাতিক বাজারের এই চরম অস্থিরতার নেতিবাচক প্রভাব সরাসরি পড়তে পারে বিদ্যুৎ খাতের ওপরেও, যা পরবর্তীতে সীমান্ত পেরিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। জার্মান অর্থনীতিবিদ ব্রজেস্কিও একই ধরনের আশঙ্কার কথা ব্যক্ত করে সতর্ক করে বলেছেন যে, বর্তমানে ফ্রান্সে যে ধরনের অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে, তার পুনরাবৃত্তি আগামী কয়েক বছরের মধ্যে জার্মানিটেও খুব সহজেই ঘটে যেতে পারে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর