নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
পাপকাজ থেকে রক্ষা পেতে এবং আত্মশুদ্ধি লাভে নীরবতা অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করে থাকে। মানুষের মুখ থেকে উচ্চারিত বিভিন্ন গুরুতর গুনাহ যেমন গিবত, অন্যের নিন্দা করা, মিথ্যা বলা এবং গালমন্দ করার মতো অপরাধগুলো মূলত জিহ্বার মাধ্যমেই ঘটে থাকে। ফলস্বরূপ, অপ্রয়োজনীয় কথা বলা থেকে বিরত থাকলে খুব সহজেই এই ভয়াবহ পাপগুলো থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকা সম্ভব হয়।
শয়তানের প্ররোচনা থেকে দূরে থাকার ক্ষেত্রেও নীরবতার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। এ প্রসঙ্গে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) সাহাবি হজরত আবু গিফারি (রা.)-কে উপদেশ দিয়ে ইরশাদ করেছিলেন যে, তুমি চুপ থাকো, কেননা নীরবতা শয়তানকে দূরীভূত করে। প্রখ্যাত হাদিস গ্রন্থ সুনানে বায়হাকিতে এই অমূল্য নির্দেশনাটি বর্ণিত হয়েছে।
নীরবতা অনুশীলনের মাধ্যমে মানুষের অন্তরে বিশেষ এক ধরনের আত্মিক শক্তি কিংবা নুরের সৃষ্টি হয়। এই অভ্যন্তরীণ আলো বা শক্তি পরবর্তীতে মুমিন বান্দাকে অন্যান্য ইবাদত-বন্দেগি সঠিকভাবে পালন করার ক্ষেত্রে দারুণভাবে সহায়তা করে থাকে।
হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, কোনো ধরনের অপ্রয়োজনীয় কথা না বলে মৌনতা অবলম্বন করা বহু বছরের ইবাদতের চেয়েও শ্রেষ্ঠ হতে পারে। বিশেষ করে, অপ্রয়োজনীয় বাক্যালাপ বর্জন করে চুপ থাকলে তা বান্দার আমলনামায় ৬০ বছরের নফল ইবাদতের চেয়েও অধিক মর্যাদা বয়ে আনতে পারে।
ইসলামি স্কলারগণের মতে, বুদ্ধিমান মানুষের অন্যতম প্রধান সৌন্দর্য হলো তার নীরবতা বজায় রাখার গুণ। এই বিষয়ে একটি প্রচলিত প্রজ্ঞাপূর্ণ তুলনামূলক বাণীর উল্লেখ করে বলা হয় যে, কথা বলা যদি রুপার মতো মূল্যবান হয়, তবে চুপ থাকা স্বর্ণের মতো অধিক মূল্যবান।
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর