ঢাকা | বঙ্গাব্দ

রামলীলা ময়দানের জমায়েতে এআই কারসাজির অভিযোগ বিজেপির

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Nov 2, 2026 ইং
রামলীলা ময়দানের জমায়েতে এআই কারসাজির অভিযোগ বিজেপির ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির ঐতিহাসিক রামলীলা ময়দানে অনুষ্ঠিত বিরোধী জোটের বিশাল জনসভা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বাদানুবাদ ও বিতর্ক শুরু হয়েছে। এই সমাবেশে অংশগ্রহণকারী মানুষের প্রকৃত সংখ্যা এবং জমায়েতের সত্যতা নিয়ে ঘোর আপত্তি জানিয়েছে ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টি। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন যে, বিরোধী দল কংগ্রেস নিজেদের পক্ষে জনসমর্থন বেশি দেখানোর অসৎ উদ্দেশ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তা নিয়েছে। কিন্তু তাঁর দাবি অনুযায়ী, প্রতিপক্ষ সেই ডিজিটাল কারসাজি করতে গিয়েও বড় ধরনের ভুল করেছে এবং তা সফলভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারেনি।

কিরেন রিজিজু তাঁর এই বক্তব্যের সমর্থনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ছবি তুলে ধরেছেন এবং বিরোধী নেতাদের তীব্র ভাষায় উপহাস করেছেন। শুধু এই মন্ত্রীই একা নন, বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র সম্বিত পাত্রও গত রবিবার এক সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে উপস্থিতির সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, বিরোধী শিবির থেকে দশ লাখ মানুষের সমাগমের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও আদতে সেখানে মাত্র আঠাশ হাজারের মতো মানুষ উপস্থিত হয়েছিল।

নিজের দাবির সত্যতা প্রমাণ করতে বিজেপি মুখপাত্র সাংবাদিকদের সামনে একটি ভিডিও প্রদর্শন করেন। ওই ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, সাদা কাপড়ে আবৃত শয়ে শয়ে চেয়ার সম্পূর্ণ খালি পড়ে রয়েছে এবং গুটিকয়েক মানুষ অলস ভঙ্গিতে ঘোরাফেরা করছেন। ভিডিওর পারিপার্শ্বিক দৃশ্য দেখে স্পষ্ট প্রতীয়মান হচ্ছিল যে সেটি সন্ধ্যার সময় ধারণ করা হয়েছিল। অথচ দিল্লি পুলিশের স্পষ্ট নির্দেশনা ছিল যে বিকেল পাঁচটার মধ্যে রামলীলা ময়দান সম্পূর্ণ খালি করে দিতে হবে এবং রাতে সেখানে কোনো মানুষের অবস্থান করার অনুমতি নেই।

যে ছবিটি নিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু আঙুল তুলেছেন, সেটি মূলত গত রবিবার রাতে সামাজিক মাধ্যম এক্সে প্রকাশ করেছিলেন গুজরাটের সাবেক কংগ্রেস সংসদ সদস্য জগদীশ ঠাকুর এবং তেলেঙ্গানার সংসদ সদস্য বামসি গদ্দামসহ বেশ কয়েকজন নেতা। প্রকাশিত সেই ছবিতে দেখা যায়, বিশাল জনসভার মঞ্চের দুই পাশে সোনিয়া গান্ধী ও রাহুল গান্ধীর সুবৃহৎ প্রতিকৃতি টাঙানো রয়েছে।

তবে কিরেন রিজিজুর মূল আপত্তি ছিল অন্য জায়গায়। তাঁর মতে, রোববারের আসল রামলীলা মঞ্চের দৃশ্য ভিন্ন ছিল, যেখানে ইন্ডিয়া জোটের শরিক দলগুলোর নানা রঙের পতাকা হাতে সমর্থকরা যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু ওই ডিজিটাল ছবিতে কেবল কংগ্রেসের নিজস্ব পতাকা দেখা গেছে। এই অমিল তুলে ধরেই রিজিজু ব্যঙ্গ করে বলেছেন যে কংগ্রেস দলটি নকল জমায়েত তৈরি করার কাজটিও নিখুঁতভাবে করতে পারেনি।

বিপরীতে, বিজেপির এই আক্রমণ এবং সমালোচিত ছবিগুলো নিয়ে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। এমনকি রবিবার বিক্ষোভ প্রদর্শনে লোকের ঘাটতি থাকার অভিযোগও তারা সোপরে অস্বীকার করেছে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ড্রোন ক্যামেরার সাহায্যে ধারণ করা একটি সুবিশাল জনসমাবেশের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করেছেন। গণতন্ত্র এবং সত্যের জয় সুনিশ্চিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি রেকর্ড পরিমাণ মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতির জন্য সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

যদিও রাহুল গান্ধীর এই পোস্টের পর তাঁকে ছাড়েননি বিজেপি মুখপাত্র সম্বিত পাত্র। তিনি তীব্র ভাষায় কটাক্ষ করে মন্তব্য করেন যে কেবল ছবি তোলার বিভিন্ন কারসাজি করে কখনো দেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়া সম্ভব নয়।

এদিকে রোববারের এই প্রতিবাদ সমাবেশটি সার্বিক দিক থেকে বেশ বর্ণাঢ্য ও প্রাণবন্ত ছিল। দেশের প্রধান গণমাধ্যমগুলোর সরাসরি সম্প্রচারে দেখা গেছে যে রামলীলা ময়দান কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে গিয়েছিল এবং মাঠের নিরাপত্তা বলয়ের বাইরেও হাজার হাজার মানুষ জমায়েত হয়ে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন।

ইংরেজি দৈনিক হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সফল করতে কংগ্রেস নেতৃত্ব অনেক আগে থেকেই ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছিল। তেলেঙ্গানার এক কংগ্রেস নেতার ভাষ্যমতে, রাজ্যের প্রতিটি ইউনিটকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যেন তারা অন্তত একশ জন করে কর্মী সমর্থক রাজধানীতে নিয়ে আসেন। এমনকি তাঁদের থাকার জন্য রাজধানীর বিভিন্ন হোটেলেও আগে থেকে বুকিং করা হয়েছিল।

গত রবিবার কনট প্লেস ও মিন্টো রোডের সংযোগস্থল থেকে শুরু করে রামলীলা ময়দানের দিকে যাওয়ার দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ পথটি দুই ঘণ্টা ধরে এক বর্ণিল রূপ ধারণ করে। ঐতিহ্যবাহী রঙিন পতাকার পাশাপাশি নারী ও পুরুষ কর্মীরা তাঁদের নিজ নিজ রাজ্যের নিজস্ব সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য সকলের সামনে তুলে ধরেন। ঝাড়খন্ড, ছত্তিশগড়, মধ্যপ্রদেশ ও গুজরাট থেকে আগত আদিবাসী জনগোষ্ঠী তাদের ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সজ্জিত হয়ে ঢাকঢোল বাজিয়ে এবং বাঁশির সুরে গান গেয়ে মিছিলে অংশ নেন।

ছত্তিশগড়ের নেতা রামনারায়ণ সিং রাথিয়া গণমাধ্যমকে জানান যে তাঁদের দলের এই আদিবাসী কর্মীরা অনেক আগেই রাজধানীতে এসে পৌঁছেছিলেন। শোভাযাত্রা সহকারে রামলীলা ময়দানে যাওয়ার পাশাপাশি তাঁরা পুরো দিল্লি শহর ঘুরে দেখার সুযোগও পেয়েছেন, যার মধ্যে অধিকাংশের জন্যই রাজধানীতে এটি ছিল প্রথম ভ্রমণ।

বিশ্লেষকদের মতে, জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং এসআইআর প্রক্রিয়া বাতিলের মূল দাবি আদায়ের লক্ষ্যে গঠিত ইন্ডিয়া জোটের এই সমাবেশকে সফল করতে কংগ্রেস চেষ্টার কোনো ত্রুটি রাখেনি। এই উদ্দেশ্যে প্রতিটি রাজ্যের দলীয় নেতৃত্বকে বাড়তি দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছিল। এই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে কংগ্রেস নেতৃত্ব তাদের তৃণমূল স্তরের বিভিন্ন শাখাকেও নতুন করে উজ্জীবিত করে তুলেছে।

দীর্ঘ একটি সময় পর এই রাজনৈতিক সমাবেশকে কেন্দ্র করে কংগ্রেস সেবাদলের সক্রিয় উপস্থিতি সবার নজর কেড়েছে। জোটের পরিকল্পনা অনুযায়ী এমন ধরনের জনসভা আগামী দিনে দেশের অন্যান্য রাজ্যেও আয়োজিত হবে। নিয়ম অনুযায়ী যে রাজ্যে যেই দল তুলনামূলকভাবে বেশি শক্তিশালী, সেই জনসমাবেশের প্রধান সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করবে সেই দলই। সেই নীতি মেনেই দিল্লির রামলীলা ময়দানের এই বড় সভার আয়োজনের মূল দায়িত্ব পালন করেছে কংগ্রেস।

সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
দাবানলের ধোঁয়া থেকে বাঁচতে ইন্দোনেশিয়ায় চালু হলো অক্সিজেন বা

দাবানলের ধোঁয়া থেকে বাঁচতে ইন্দোনেশিয়ায় চালু হলো অক্সিজেন বা