ঢাকা | বঙ্গাব্দ

লাদাখ সংঘাতের ছয় বছর পরেও ভারত চীন সীমান্তে টানাপোড়েন

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 27, 2026 ইং
লাদাখ সংঘাতের ছয় বছর পরেও ভারত চীন সীমান্তে টানাপোড়েন ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় ভারত ও চীনের সামরিক বাহিনীর মধ্যে প্রাণঘাতী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল ২০২০ সালের জুন মাসে। এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতে অন্তত বিশজন ভারতীয় জওয়ান প্রাণ হারিয়েছিলেন। অন্যদিকে বেইজিং কেবল চারজন সেনাসদস্যের মৃত্যুর তথ্য স্বীকার করেছিল। ঘটনার পরবর্তীতে বিভিন্ন নিরাপত্তা সূত্র এবং উপগ্রহের ছবি থেকে বিতর্কিত অঞ্চলে চীনাদের আধিপত্য বৃদ্ধির চিত্র স্পষ্ট হলেও, দিল্লি সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ভূখণ্ড হারানোর কথা আনুষ্ঠানিকভাবে মানা হয়নি।

আন্তর্জাতিক ক্রাইসিস গ্রুপের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক প্রবীণ ডোন্থির মূল্যায়ন অনুযায়ী, দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক মেরামতের নানা কূটনৈতিক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও সীমান্তে চলমান এই টানাপোড়েন আসলে বেইজিংয়ের একধরনের কৌশলগত চাপ প্রয়োগের মাধ্যম হতে পারে। তাঁর অভিমত, সীমান্ত রেখা সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত না থাকার কারণে এই অঞ্চলে প্রায়শই এ ধরনের অচলাবস্থা সৃষ্টির ঝুঁকি থেকেই যায়।

২০২০ সালের ওই গালওয়ান সংঘাতের পরবর্তী সময়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রশাসনের নীতিগত স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিয়ে কঠোর প্রশ্ন তুলেছিল দেশের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো। বিশেষ করে চীনা সেনাদের অনুপ্রবেশ এবং সামগ্রিক সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে সরকারি তরফ থেকে দেওয়া বিভিন্ন বিবৃতির মধ্যে অমিল থাকায় তীব্র রাজনৈতিক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল।

সংঘর্ষের ঠিক পরপরই ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছিল যে, গালওয়ান উপত্যকায় প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা লঙ্ঘন করে ভারতীয় অংশে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা চালিয়েছিল চীনা বাহিনী এবং তাদের সুপরিকল্পিত উসকানিমূলক পদক্ষেপের কারণেই এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটেছিল।

তবে এই ঘটনার মাত্র দুই দিন পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বার্তা প্রকাশ করে দাবি করেন যে, ভারতের সার্বভৌম ভূখণ্ডে কেউ অনধিকার প্রবেশ করেনি এবং বর্তমানে সেখানে বিদেশি কোনো বাহিনী অবস্থানও করছে না। মোদির এই দ্বিমুখী বক্তব্যের কারণে সরকার পক্ষ বিরোধীদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিল।

এদিকে অরুণাচল প্রদেশের কংগ্রেস নেতা বসিরাম সিরাম চাঞ্চল্যকর দাবি করে বলেছেন যে, চীনা সেনারা দেশটির আপার সুবানসিরি অঞ্চলের প্রায় পঞ্চাশ কিলোমিটার অভ্যন্তরে অবস্থান গ্রহণ করেছে। তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, ভৌগোলিক সুবিধাজনক অবস্থানে থেকে চীনা সেনারা পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থান করছে, আর ভারতীয় জওয়ানদের অবস্থান রয়েছে পাহাড়ি উপত্যকার নিচের অংশে। যদিও এই নির্দিষ্ট অভিযোগগুলোর কোনো স্বাধীন ও নিরপেক্ষ সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

অন্যদিকে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, চীনা সামরিক বাহিনী তাদের সুপ্রতিষ্ঠিত ও প্রচলিত টহলব্যবস্থা থেকে সরে আসার কারণে মাঝেমধ্যে সীমান্তবর্তী এলাকার শান্ত পরিবেশ বিঘ্নিত হয়। তবে চলমান এই মুখোমুখি সামরিক অবস্থান সম্পর্কে তিনি অতিরিক্ত বা বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করতে বিরত থেকেছেন।

সূত্র: আজকের পত্রিকা


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
দুদক কমিশন কি বিদায় নিচ্ছে?

দুদক কমিশন কি বিদায় নিচ্ছে?