নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় ধর্ষণের শিকার এক তরুণীর কোল থেকে ছিনিয়ে নেওয়া নবজাতক সন্তানকে দীর্ঘ অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে। গত শুক্রবার হাসপাতালে জন্ম নেওয়ার পরপরই শিশুটিকে জোরপূর্বক সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। পরে পুলিশ গত রোববার রাতে অভিযান পরিচালনা করে শিশুটিকে অক্ষত অবস্থায় তার জননীর কাছে ফিরিয়ে দিতে সক্ষম হয়।
এই ঘটনার পেছনে জড়িত থাকার অভিযোগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোট চারজন ব্যক্তিকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করেছে। অভিযুক্ত যুবকের জন্মদাত্রী মা, তার চাচা, স্থানীয় একটি বেসরকারি ক্লিনিকের একজন সেবিকা এবং শিশুটি ক্রয়ের সাথে সম্পৃক্ত একজন ব্যক্তি এই আটকের তালিকায় রয়েছেন।
রোববার সন্ধ্যার পর বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হওয়ার পরপরই গোয়েন্দা শাখা এবং থানা পুলিশ যৌথভাবে তৎপরতা চালায়। মাত্র চার ঘণ্টার সংক্ষিপ্ত সময়ের ব্যবধানে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয় এবং বর্তমানে সে তার মায়ের নিরাপদ তত্ত্বাবধানে রয়েছে। পুরো ঘটনাটির নেপথ্যে থাকা অন্যান্য বিষয়গুলো খতিয়ে দেখতে নিবিড় তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
প্রারম্ভিক পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারণা ছিল যে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে শিশুটিকে কাউকে হস্তান্তর করা হতে পারে। তবে উদ্ধারের সময় ঘটনাস্থল থেকে একটি স্ট্যাম্প জব্দ করা হয়, যেখানে অর্থের বিনিময়ে শিশু হস্তান্তরের তথ্য স্পষ্ট ছিল। এই গুরুতর অপরাধের সত্যতা পাওয়ায় একটি মানব পাচার বিরোধী মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত বছরের ডিসেম্বর মাসে, যখন অসুস্থ আত্মীয়ের চিকিৎসার্থে তরুণীর মা রাজধানীতে অবস্থান করছিলেন। সেই সুযোগে নিজ বাসভবনে তরুণী নির্যাতনের শিকার হন এবং পরবর্তীতে গর্ভধারণ করেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, বিষয়টি জানাজানি হলে অভিযুক্তের পরিবার তা গোপনের নানা অপচেষ্টা চালায়। পরবর্তীতে স্থানীয়ভাবে একটি বিচারিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও সেখানে নির্ধারিত ক্ষতিপূরণের অর্থ পরিবারটি ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে।
নবজাতক বিক্রির সুনির্দিষ্ট অভিযোগে চৌদ্দগ্রাম থানায় একটি নতুন মামলা দায়ের করেছেন উপপরিদর্শক সাইফুর রহমান। এই আইনি পদক্ষেপে মূল অভিযুক্ত যুবককে প্রধান আসামি করে মোট আটটি নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং আরও অনেককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
গত শুক্রবার চৌদ্দগ্রামের একটি বেসরকারি চিকিৎসালয়ে পুত্রসন্তানের জন্ম দেন ওই তরুণী। সন্তানের পিতৃপরিচয়ের সত্যতা ঢাকতে অভিযুক্ত তরুণের আপনজন ও সহযোগীরা জন্মমুহূর্তেই শিশুটিকে হাসপাতাল চত্বর থেকে বলপূর্বক অপহরণ করে।
গোয়েন্দা তথ্য মতে, এই অপহরণের কার্যক্রমে ওই চিকিৎসা কেন্দ্রের একজন সেবিকা ও কয়েকজন ব্যবস্থাপক প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন। বাণিজ্যিকভাবে শিশু হস্তান্তরের এই ঘটনায় কারা নেপথ্যে কাজ করেছে, তা পুলিশ নিবিড়ভাবে অনুসন্ধান করছে।
ধর্ষণ এবং ঘটনা ধামাচাপার অপচেষ্টার অভিযোগে চৌদ্দগ্রাম থানায় আজ সোমবার আরও একটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভুক্তভোগী তরুণী নিজে বাদী হয়ে এই মামলাটি দায়ের করেন, যেখানে প্রধান অভিযুক্ত, তার মাতা, চাচা ও এক স্থানীয় মাতবরকে আসামি করা হয়েছে।
সবমিলিয়ে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় একাধিক মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। গ্রেপ্তারকৃতদের ইতোমধ্যে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং মূল অভিযুক্তসহ পলাতক অন্যদের ধরার জন্য অভিযান চলছে।
সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর