নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
তীব্র গরমে দেশের বিদ্যুতের ওপর চাপ কমাতে আধুনিক ও উন্নত প্রযুক্তির বিএলডিসি ফ্যান ব্যবহারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণা প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু কৌশল সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলে গরমের সময়ে জাতীয় গ্রিড থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থাৎ প্রায় দুই হাজার পাঁচশ নব্বই মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বাঁচানো যেতে পারে।
এই লক্ষ্য অর্জনে সর্বপ্রথমে একটি সমন্বিত জাতীয় কর্মসূচি প্রণয়ন করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে এই পরিকল্পনা সফলভাবে মাঠে নামানোর জন্য একটি বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান হিসেবে ‘সুপার এসকো’ গঠনের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
সাধারণ মানুষকে এই আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করতে ব্যাপক প্রচারণা চালানোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ ও আর্থিক সাশ্রয়ের সুফলগুলো প্রচারের মাধ্যমে সচেতনতা তৈরি করা সম্ভব বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পণ্যের মান নিশ্চিত করতে জ্বালানি খাতের নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা স্রেডার মাধ্যমে নির্দিষ্ট মানদণ্ড নির্ধারণ এবং স্টার লেবেলিংয়ের প্রক্রিয়া দ্রুত চূড়ান্ত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে একত্রে বিশাল পরিমাণে এই ফ্যান ক্রয়ের মাধ্যমে উৎপাদন খরচ কমিয়ে আনার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক অঙ্গনের কার্বন রাজস্ব তহবিল ব্যবহার করে সাধারণ ও কম আয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে এর দাম নিয়ে আসা সম্ভব।
ক্রেতাদের জন্য সহজ কিস্তি বা অর্থায়নের ব্যবস্থা চালুর কথা বলা হয়েছে। বিশেষ করে বিদ্যুৎ বিলের সঙ্গে যুক্ত করে কিস্তিতে মূল্য পরিশোধের সুযোগ থাকলে মানুষ সহজেই এই ফ্যান কিনতে পারবে।
সুপার এসকোর সরাসরি তত্ত্বাবধানে পুরো উদ্যোগটি দ্রুত সময়ের মধ্যে মাঠে বাস্তবায়ন করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। বাজার মনিটরিং জোরদার করে পণ্যের মান বজায় রাখার কথা বলা হয়েছে।
শফিকুল আলম মনে করেন, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা এবং পাইকারি ক্রয়ের মাধ্যমে বিএলডিসি ফ্যানের দাম কমানো গেলে নিম্নআয়ের মানুষের অতিরিক্ত অর্থ তুলে নেওয়ার সময়সীমা কমে চার দশমিক আট বছরে নেমে আসতে পারে।
দেশের জ্বালানি খাতের বর্তমানের কঠিন পরিস্থিতি সামাল দিতে দীর্ঘমেয়াদী বড় প্রকল্পের চেয়ে বরং বিদ্যুৎ চাহিদা দ্রুত কমিয়ে আনার পদ্ধতিগুলোতে বেশি জোর দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর