নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
একই জমির দলিল বন্ধক রেখে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার মতো নানা ধরনের দুর্নীতি ও অনিয়ম রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সংসদীয় কমিটি। একই সঙ্গে ব্যাংকিং খাতের সঙ্গে তথ্যের সঠিক ও সমন্বিত আদান-প্রদান নিশ্চিত করার একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের ওপরও বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।
বিভিন্ন এলাকার জমির বাস্তবভিত্তিক প্রকৃত বাজারদর নির্ধারণ করা জরুরি বলে মনে করে কমিটি। এ ছাড়া স্থাবর সম্পত্তি হাতবদল বা হস্তান্তরের মূল্য বর্তমান বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা, রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত বিভিন্ন ফি কমানো এবং গেইন ট্যাক্স বা মূলধনী লাভ কর যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনার সুপারিশ করা হয়েছে।
জমির মালিকানা নিয়ে সমাজে তৈরি হওয়া বড় ধরনের বিরোধ ও সংঘাত দূর করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, স্বচ্ছ ও ন্যায়ানুগ ভূমি উন্নয়ন কর আদায় এবং সাধারণ নাগরিকদের জন্য ভূমি সেবা আরও সহজ করার লক্ষ্যে বর্তমান প্রশাসনকে একটি সমন্বিত ডিজিটাল ব্যবস্থায় রূপান্তরিত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
‘বাংলাদেশ সার্ভে অ্যান্ড সেটেলমেন্ট ও ভূমি প্রশাসন প্রশিক্ষণ একাডেমি স্থাপন’ প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের প্রশিক্ষণের জন্য একটি আধুনিক ও স্থায়ী একাডেমি প্রতিষ্ঠার লক্ষে খাসজমি বাছাইয়ের প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার কথা বলা হয়েছে।
মাঠপর্যায়ে অনিয়ম ও দুর্নীতি কঠোর হাতে দমন করার জন্য নির্দিষ্ট কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। বিশেষ করে সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসি ল্যান্ডের কার্যালয়, ভূমি অধিগ্রহণ বা এলএ শাখা এবং কানুনগো অফিসে সাধারণ মানুষ যাতে কোনো ধরনের ভোগান্তির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। এছাড়া এসব কার্যালয়কে সম্পূর্ণ দালালমুক্ত করে জনবান্ধব সেবা প্রদান নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর