ঢাকা | বঙ্গাব্দ

রিমান্ড শেষে কারাগারে ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের দিলীপ কুমার আগরওয়ালা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 28, 2026 ইং
রিমান্ড শেষে কারাগারে ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের দিলীপ কুমার আগরওয়ালা ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

জুলাই মাসের গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় আব্দুল জব্বার নামের এক শিক্ষার্থীকে গুলি চালিয়ে হত্যার চেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের কর্ণধার দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে বিচারিক আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মঙ্গলবার বিচারিক কার্যক্রম শেষে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইন এই কারাবাসের আদেশ দেন। দুই দফায় সবমিলিয়ে ছয় দিন পুলিশি রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ সম্পন্ন হওয়ার পর তাঁকে আদালতের কাঠগড়ায় হাজির করা হয়েছিল।

আদালতের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক হেলাল উদ্দিন গণমাধ্যমকে এই আইনি পদক্ষেপের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তদন্তকারী কর্মকর্তা ও উত্তরা পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক মো. সুমন মিয়া আসামিকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। বিচারক এই প্রার্থনা মঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

আদালতে এই শুনানিপর্ব চলার সময় আসামিপক্ষের কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না বলে জানা গেছে।

এর আগে গত ১৯ অক্টোবর রাজধানী ঢাকার বনানী এলাকা থেকে দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে গোয়েন্দা পুলিশ গ্রেপ্তার করে।

পরদিন ৬৭৮ কোটি ১৯ লাখ টাকার অবৈধ চোরাচালান ও অর্থপাচারের অভিযোগে দায়ের করা মানি লন্ডারিং মামলায় তাঁকে এক দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল।

২১ অক্টোবর সেই রিমান্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তাঁকে প্রথমবারের মতো কারাগারে পাঠানো হয়।

পরবর্তীতে শিক্ষার্থী আব্দুল জব্বারকে হত্যাচেষ্টার মামলায় তাঁকে পুনরায় রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সবমিলিয়ে দুই দফায় তাঁকে ছয় দিন রিমান্ডে রাখা হয়েছিল।

মামলার বিবরণী অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে উত্তরা পশ্চিম থানাধীন ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিএনএস সেন্টারের নিকটবর্তী স্থানে গুলিবিদ্ধ হন শিক্ষার্থী আ. জব্বার।

ওই বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থেকে চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করেন।

পরবর্তীতে কিছুটা সুস্থতা লাভ করে ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ তিনি নিজেই বাদী হয়ে উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি হত্যাচেষ্টার মামলা দায়ের করেন।

উক্ত মামলাটিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ৫০ জনের নাম সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া এই মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ১০০ থেকে ১৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরবর্তী সময়ে সোনা ও হীরা চোরাচালান, জালিয়াতি, প্রতারণা এবং অর্থ পাচারের গুরুতর অভিযোগে ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর তাঁকে আটক করেছিল র‍্যাব।

ওই দিন মধ্যরাতে রাজধানীর গুলশান এলাকায় অবস্থিত ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের প্রধান কার্যালয় ঘিরে দীর্ঘক্ষণ অভিযান পরিচালনা করে তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নেয় এলিট ফোর্সটি।

পরবর্তী সময়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর বাড্ডা এলাকায় কিশোর হৃদয় আহমেদ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা আরেকটি মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

ওই হত্যা মামলায় পুলিশ তাঁকে রিমান্ডে নিয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল।

পরবর্তী সময়ে তিনি আদালত থেকে জামিন লাভ করে মুক্তি পেয়েছিলেন।

সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করলেন পিএসসির দুই সদস্য

ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করলেন পিএসসির দুই সদস্য