নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
গতকাল বিকেল সাড়ে চারটার দিকে প্রবাসীর জমি কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে হামলার ঘটনা ঘটে। এই মারামারির সময় মধ্যস্থতাকারী এক ব্যক্তির প্রাণহানি ঘটে এবং গুরুতর আহত হন তাঁর ভাই।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে যখন জাহাঙ্গীরের চাচাতো ভাই সাহেল জমি ক্রয়ের উদ্দেশ্যে দুজন ক্রেতাকে ঘটনাস্থলে নিয়ে আসেন। সেই আলোচনায় অংশ নেওয়ার জন্য জাহাঙ্গীরের বড় ভাই জহিরুল ইসলাম জসিমকে সেখানে ডেকে পাঠানো হয়।
জসিম ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর প্রতিপক্ষ দল জমি বিক্রয় কার্যক্রমে জোরালো বাধা প্রদান করে। এই পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র বাক্বিতণ্ডা শুরু হয় এবং একপর্যায়ে জসিমের মাথায় মারাত্মক আঘাত করা হয়।
নিজের ভাইয়ের ওপর হামলার খবর পেয়ে জাহাঙ্গীর দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। সেখানে পৌঁছানোর পর তাঁকেও একইভাবে মাথায় আঘাত করা হয়, যার ফলে তিনি গুরুতর জখম হন।
পরবর্তীতে স্থানীয় বাসিন্দারা এগিয়ে এসে দুই ভাইকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেন। দ্রুত তাঁদের চিকিৎসার জন্য সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় রাতেই পরিস্থিতি অবনতি ঘটে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত দুইটার দিকে জাহাঙ্গীর মারা যান বলে হাসপাতাল সূত্র নিশ্চিত করে।
নিহতের চাচা সুন্দর আলী এই মর্মান্তিক ঘটনা প্রসঙ্গে একটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, পূর্বপরিকল্পিত চক্রান্তের মাধ্যমেই তাঁর ভাতিজাকে ঠান্ডা মাথায় হত্যা করা হয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই হামলায় ব্যবহার করার জন্য দা ও লাঠির মতো দেশীয় অস্ত্রগুলো পূর্ব থেকেই প্রস্তুত করে রাখা হয়েছিল।
মামুন, মাহমুদ ও ময়নুল নামের তিন ভাই এবং তাদের ভাগনে সামি ও ভগ্নিপতি খয়ের একসঙ্গে মিলে এই হামলা চালায় বলে তিনি অভিযোগ করেন। তারা সবাই মিলে তাঁর ভাই ও ভাতিজাদের ওপর চড়াও হয়।
কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কমর উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নিহতের পিতার পক্ষ থেকে দেওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে ময়নুল হক নামের একজনকে ইতোমধ্যে আটক করা হয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই নৃশংস হত্যাকাড়ার সঙ্গে জড়িত বাকি পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করার জন্য পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর