ঢাকা | বঙ্গাব্দ

প্রশাসনিক সংস্কারের আড়ালে যেভাবে ঠেকানো হলো পরিবর্তন

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Nov 4, 2026 ইং
প্রশাসনিক সংস্কারের আড়ালে যেভাবে ঠেকানো হলো পরিবর্তন ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

গত চব্বিশের জুলাই-আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর প্রশাসনের সংস্কার নিয়ে জনমনে সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি উঠেছে যে, কেন কাঙ্ক্ষিত সংস্কার সাধিত হলো না। আপাতদৃষ্টিতে মনে হতে পারে সংস্কারের আন্তরিক কোনো প্রচেষ্টা ছিল এবং তা কোনো কারণে ব্যর্থ হয়েছে, কিন্তু গত দুই বছরের ধারাবাহিক ঘটনাবলি সম্পূর্ণ ভিন্ন এক বাস্তবতার সাক্ষ্য বহন করে। মূলত সংস্কার এখানে ব্যর্থ হয়নি, বরং সুকৌশলে সংস্কার ঠেকানোর নির্দিষ্ট একটি প্রকল্প সফল হয়েছে। এই বাস্তবতায় এখন দুটি মৌলিক প্রশ্ন সামনে আসে যে, কারা এবং কোন প্রক্রিয়ায় এই সাফল্য নিশ্চিত করল এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে করণীয় বা কী হতে পারে।

চব্বিশের ৫ আগস্টের পর থেকে পুরো রাষ্ট্রযন্ত্র কার্যত এক চরম দিশাহারা অবস্থার মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হচ্ছিল। পরবর্তীতে ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করলেও তখনো তাদের সুনির্দিষ্ট নীতি, কর্মপরিকল্পনা, অগ্রাধিকার কিংবা জবাবদিহির কোনো স্থায়ী কাঠামো গড়ে ওঠেনি। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পুলিশ সদস্যরা মাঠে অনুপস্থিত ছিলেন এবং সচিবালয়ের ভেতরেও চরম বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছিল। এই প্রশাসনিক শূন্যতার সুযোগ নিয়ে সবচেয়ে দ্রুত ও সুসংগঠিতভাবে প্রতিক্রিয়া জানাল আমলাতন্ত্রের প্রভাবশালী একটি অংশ। ফলে ১৩ আগস্ট রাতের আঁধারে শতাধিক সিনিয়র সহকারী সচিবকে পদোন্নতি দিয়ে উপসচিব করা হয় এবং মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে দুই শতাধিক উপসচিবকে যুগ্ম সচিব পদে উন্নীত করা হয়।

পরবর্তীতে গত ২৫ আগস্ট আরও ১৩১ জন যুগ্ম সচিবকে অতিরিক্ত সচিব হিসেবে পদোন্নতি দেওয়া হয়। বিভিন্ন সরকারি প্রজ্ঞাপন বা গেজেট পর্যালোচনা করে দেখা গেছে যে, অন্তত ২৪ জন কর্মকর্তা মাত্র দুই সপ্তাহের স্বল্প ব্যবধানে তিন ধাপ অতিক্রম করে সিনিয়র সহকারী সচিব থেকে সরাসরি অতিরিক্ত সচিব পদে পৌঁছে গেছেন। এমনকি বহু বছর আগে অবসরোত্তর ছুটিতে যাওয়া কর্মকর্তাদেরও চুক্তিভিত্তিক সচিব হিসেবে পুনর্বহাল করা হয়েছে। এর পাশাপাশি 'বঞ্চিত' হিসেবে বিবেচনা করে ৭৬৪ জন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে ভূতাপেক্ষ বা পূর্ববর্তী তারিখ থেকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ১১৯ জনই ছিলেন সচিব পদমর্যাদার। এত সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে প্রায় দেড় হাজার কর্মকর্তার এই ঢালাও পদোন্নতির ঘটনা কেবল বাংলাদেশের প্রশাসনিক ইতিহাসেই নয়, বরং সমগ্র পৃথিবীর কোনো দেশের রাষ্ট্রীয় ইতিহাসে খুঁজে পাওয়া যাবে না।

অবশ্য দেড় দশকের শাসনামলে দলীয় আনুগত্যের মাপকাঠিতে বহু যোগ্য কর্মকর্তা যে বঞ্চনার শিকার হয়েছেন, পদোন্নতিবঞ্চিত হয়েছেন, ওএসডি বা বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হয়েছেন কিংবা বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে, সেই সত্যকে অস্বীকার করা যায় না। তবে এই বঞ্চনা দূর করার সঠিক পথ ছিল উন্মুক্ত ও স্বচ্ছ মানদণ্ড নির্ধারণ, স্বাধীন পর্যালোচনা কমিটি গঠন এবং নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা। এর পরিবর্তে সচিবালয়ের ভেতর দলবদ্ধ চাপ প্রয়োগ করে রাতারাতি সরকারি প্রজ্ঞাপন জারির সংস্কৃতি চালু করা হয়। একটি অনিয়মকে কখনোই আরেকটি নতুন অনিয়ম দিয়ে সংশোধন করা সম্ভব নয়, কারণ এতে কেবল ক্ষমতার সুবিধাভোগীদের মুখ বদলায় কিন্তু দুর্নীতিগ্রস্ত বা ত্রুটিপূর্ণ ব্যবস্থাটি সম্পূর্ণ অক্ষত থেকে যায়।

বিখ্যাত সমাজবিজ্ঞানী ম্যাক্স ওয়েবার আধুনিক আমলাতন্ত্রকে আইনি ও যৌক্তিক কর্তৃত্বের প্রধান বাহন হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেছিলেন, যা নৈর্ব্যক্তিক বিধিবিধান, লিখিত সরকারি নথিপত্র, যোগ্যতা এবং জ্যেষ্ঠতার ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়। শাসক পরিবর্তন হলেও এমন একটি নিরপেক্ষ প্রশাসন বিপ্লব বা পটপরিবর্তনের পরেও রাষ্ট্রের ধারাবাহিকতা অক্ষত রাখতে সাহায্য করে। তবে ম্যাক্স ওয়েবার নিজেই এ বিষয়ে সতর্ক করে গিয়েছিলেন যে, একবার পূর্ণাঙ্গভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেলে আমলাতন্ত্র প্রায় অবিনাশী রূপ ধারণ করে এবং যারাই এর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারে, এটি কেবল তাদেরই স্বার্থে কাজ করতে শুরু করে।

বাংলাদেশ যেন ম্যাক্স ওয়েবারের সেই দ্বিতীয় সতর্কবাণীটিকেই সত্য প্রমাণিত করেছে, তার প্রথম প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন ঘটাতে পারেনি। অভ্যুত্থানের পর আমলাতন্ত্র রাষ্ট্রের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রধান নোঙর হতে পারেনি, বরং রাষ্ট্রের সবচেয়ে দুর্বল মুহূর্তটিকে তারা নিজেদের মধ্যে সুযোগ ও সুবিধা পুনর্বণ্টনের মোক্ষম হাতিয়ার বানিয়েছে। সব ক্ষেত্রে কাগজে-কলমে নিয়ম রক্ষা করা হয়েছে, যার প্রমাণ হলো বিভিন্ন গেজেট, সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ড বা প্রজ্ঞাপন জারি করা। কিন্তু সেই নিয়মের মূল মর্মবাণী অর্থাৎ নৈর্ব্যক্তিকতা এবং প্রকৃত যোগ্যতা সম্পূর্ণ উধাও হয়ে গেছে। সংগঠন তত্ত্বের পরিভাষায় একে আমলাতান্ত্রিক ব্যাধি বা ব্যুরো-প্যাথোলজি বলা হয়, যেখানে কোনো প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত উপায় বা মাধ্যম তার মূল লক্ষ্যকে গ্রাস করে ফেলে এবং নাগরিক সেবা প্রদানের মতো আসল উদ্দেশ্যটি হারিয়ে যায়।

অভ্যুত্থান-পরবর্তী যেকোনো রাষ্ট্রের সামনেই মূলত একটি অভিন্ন উভয়সংকট বা দ্বিধা কাজ করে, যেখানে পুরোনো আমলাতন্ত্রকে সম্পূর্ণ ভেঙে ফেললে রাষ্ট্র পুরোপুরি অচল হয়ে পড়ে আবার তাদের অক্ষত রাখলে পুরোনো ক্ষমতা নতুন রূপ ধারণ করে ফিরে আসে। এই জটিল সমস্যার কোনো সহজ সমাধান গণছাঁটাই করা নয়, আবার তাদের প্রতি অন্ধ ও নিঃশর্ত আস্থাও রাখা যায় না। এর একমাত্র সমাধান হলো যথাযথ নিয়মের সঠিক পুনঃপ্রতিষ্ঠা, যাতে রাষ্ট্রের স্থিতি কোনো বিশেষ ব্যক্তির আনুগত্যের ওপর নির্ভর না করে বরং সম্পূর্ণ প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে। অথচ আমরা ঠিক এর বিপরীত কাজটি করেছি, যেখানে সঠিক প্রক্রিয়াটি স্থগিত রেখে কেবল কিছু মুখ বা ব্যক্তিকে পরিবর্তন করেছি।

প্রয়াত বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ আকবর আলি খান বাংলাদেশের আমলাতন্ত্রের চরিত্র ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মুদ্রা অর্থনীতির বিখ্যাত গ্রেসামের সূত্রের চমৎকার অবতারণা করেছিলেন। তাঁর সেই তত্ত্বে বলা হয়েছিল যে মন্দ মুদ্রা যেমন ভালো মুদ্রাকে বাজার থেকে তাড়িয়ে দেয়, তেমনই রাজনীতিকীকৃত ও দলীয়করণ করা প্রশাসনে অনুগত ও অযোগ্য ব্যক্তিরা ক্রমান্বয়ে যোগ্য ও স্বাধীনচেতা কর্মকর্তাদের কোণঠাসা করে ফেলে, যার ফলে পুরো প্রশাসনিক ব্যবস্থার মান নিম্নগামী হয়। চব্বিশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর আমরা যা প্রত্যক্ষ করেছি তা মূলত এই সিনড্রোমের কোনো স্থায়ী নিরাময় নয়, বরং এর একটি নতুন এবং আধুনিক সংস্করণ মাত্র। সেখানে আনুগত্যের দিক বা পক্ষ বদল হয়েছে ঠিকই, কিন্তু আনুগত্যের সেই পুরোনো অর্থনীতি বা ধারা একটুও বদলায়নি। যে কর্মকর্তা এত দিন নিয়ম মেনে ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করেছেন, তিনি আবারও পিছিয়ে পড়েছেন এবং যারা দলবদ্ধ হয়ে অনৈতিক চাপ সৃষ্টি করেছেন, তারাই এগিয়ে গেছেন। প্রণোদনার এই নেতিবাচক বার্তাটি প্রশাসনের পরবর্তী প্রজন্মের তরুণ কর্মকর্তারাতো ইতোমধ্যে স্পষ্টভাবে বুঝে গেছেন।

ড. আকবর আলি খানের সেই বিখ্যাত রূপকটিকে যদি একটু এগিয়ে নেওয়া হয়, তবে দেখা যাবে যে মন্দ মুদ্রা এবার অত্যন্ত চতুরতার সাথে ভালো মুদ্রার ছদ্মবেশ ধারণ করে 'বঞ্চিত' পরিচয়ে সরাসরি বাজারে প্রবেশ করেছে। এই সামগ্রিক প্রেক্ষাপটের ওপর ভিত্তি করে গঠিত জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে শতাধিক গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশমালা পেশ করেছিল। এই সুপারিশগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল পদোন্নতির ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয় যাচাই সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করা, সরকারি কর্মকর্তাদের যেকোনো রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সরাসরি অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করা, একটি যুগোপযোগী সিভিল সার্ভিস আচরণবিধি তৈরি করা, প্রশাসনিক ন্যায়পাল নিয়োগ এবং একটি স্থায়ী সংস্কার কমিশন গঠন করা।

সংস্কার কমিশন নিজেই সবাইকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছিল যে, দেশের স্বাধীনতার পর বিগত বছরগুলোতে গঠিত দুই ডজনেরও বেশি কমিশন বা কমিটির কোনো সুপারিশই দীর্ঘস্থায়ী বা টেকসই হতে পারেনি। দুর্ভাগ্যবশত এবারও ঠিক আগের ইতিহাসেরই পুনরাবৃত্তি ঘটেছে। মাত্র ১৮টি তথাকথিত ‘আশু বাস্তবায়নযোগ্য’ সুপারিশ বাছাই করা হলো, যার বাস্তব রূপ বলতে কেবল গণশুনানির আয়োজন কিংবা পাসপোর্টকে নাগরিক অধিকার হিসেবে ঘোষণার মতো কিছু নিরীহ বিষয় সামনে এল। বরং এর উল্টোটা দেখা গেল, কারণ কমিশন যে বাধ্যতামূলক অবসরের বিধানের তীব্র বিরোধিতা করেছিল, সেই বিধানের মাধ্যমেই কর্মকর্তাদের বিদায় করার প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখা হলো এবং সরকারি চাকরি আইন সংশোধন করার সময় সেবার মানসিকতার চেয়ে মূলত আনুগত্য ও শৃঙ্খলার ওপরই বেশি গুরুত্ব আরোপ করা হলো।

মূল্যস্ফীতির এই দীর্ঘ এক দশকে সরকারি কর্মচারীদের বেতন সমন্বয় করার যৌক্তিকতাটিকে আমরা সম্পূর্ণ অস্বীকার করছি না। মূল প্রশ্নটি আসলে অনুপাতের, কারণ বেতন বৃদ্ধির এই প্রক্রিয়ায় সর্বদলীয় ও সর্বক্যাডার একটি নীরব ঐকমত্য রয়েছে। অথচ সাধারণ মানুষের জন্য সরকারি সেবার মান বৃদ্ধি করার বিষয়ে সব পক্ষই পুরোপুরি নীরব ভূমিকা পালন করে চলেছে। কেন এমনটি ঘটছে, তার স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায় জনপ্রশাসনের নানা কার্যক্রমে। প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হওয়ার পরপরই প্রশাসন ক্যাডারের পক্ষ থেকে উপসচিব পদে ৫০ শতাংশ কোটা বহাল রাখার প্রস্তাবকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ষড়যন্ত্রমূলক বলে অভিহিত করা হয়।

দেশের ২৫টি ক্যাডারের সমন্বয়ে গঠিত পরিষদ স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয় যে তারা কোনো ধরনের কোটাব্যবস্থাই মেনে নেবে না এবং একই সঙ্গে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ক্যাডার থেকেও তীব্র আপত্তি জানানো হয়। এই পুরো লড়াইটিকে বাহ্যিকভাবে বিভিন্ন ক্যাডারের মধ্যকার বিভাজন বা বিরোধ বলে মনে হলেও কাঠামোগত দিক থেকে এটি মূলত এক ধরনের নেতিবাচক ঐকমত্য, যা মূলত সুযোগ-সুবিধা ভাগাভাগি নিয়ে দ্বন্দ্ব। অথচ প্রশাসনিক জবাবদিহি নিশ্চিত করা, কর্মদক্ষতা যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা এবং সাধারণ নাগরিকের কাছে দায়বদ্ধ থাকার মতো জরুরি বিষয়গুলোকে সুকৌশলে আলোচনার মূল এজেন্ডার বাইরে রাখা হয়েছে। প্রতিটি ক্যাডারই কেবল নিজেদের বঞ্চনা ও বৈষম্যের ভাষায় কথা বলেছে, কিন্তু দেশের মানুষকে সেবা প্রদানের মূল ভাষার কথা কেউ উচ্চারণ করেনি।

এই অসংগতির সবচেয়ে স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায় সরকারি কর্মচারীদের বেতন কাঠামোর ক্ষেত্রে। চলতি বছরের আগস্ট মাসের শেষ দিকে তৎকালীন নির্বাচিত সরকার নবম জাতীয় বেতনকাঠামো আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন করে, যার ফলে সর্বনিম্ন মূল বেতন প্রায় ১৪২ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। বেতন কমিশনের নিজস্ব হিসাব অনুযায়ীই এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে গিয়ে সরকারের ওপর অতিরিক্ত প্রায় এক লাখ ছয় হাজার কোটি টাকার আর্থিক দায়ভার তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ এক দশকের মূল্যস্ফীতির বাজারে সরকারি কর্মচারীদের বেতন সমন্বয় করার দাবিটিকে আমরা অমূলক বলছি না, কিন্তু মূল প্রশ্নটি হলো প্রাপ্ত সেবার সাথে ব্যয়ের অনুপাত কতটুকু।

কোনো ধরনের কর্মদক্ষতা চুক্তি নেই, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সেবা প্রদান করার কোনো বাধ্যতামূলক সময়সীমা নির্ধারিত নেই এবং সাধারণ নাগরিকের সন্তুষ্টি পরিমাপ করারও কোনো কার্যকর মাপকাঠি রাখা হয়নি। দেশের সাধারণ করদাতারা ঠিকই পণ্যের চড়া দাম পরিশোধ করছেন, কিন্তু তার বিনিময়ে তারা আসলে কী সেবা কিনছেন বা পাচ্ছেন, সে বিষয়ে পরিষ্কার করে কেউ কোনো কথা বলছে না। এভাবে মূল্যায়নের মাধ্যমে পদোন্নতি, সঠিক পদায়ন এবং উচ্চ বেতনের বিনিময়ে রাষ্ট্র মূলত একটি অনুগত প্রশাসন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়। রাজনৈতিক তাত্ত্বিক মুশতাক খান যাকে ‘রাজনৈতিক বন্দোবস্ত’ বলে অভিহিত করেছেন, এবারের অভ্যুত্থান সেই পুরোনো বন্দোবস্তকে ধ্বংস করতে পারেনি, বরং কেবল এর নতুন কিছু অংশীদার খুঁজে নিয়েছে। ফলে শেষ পর্যন্ত আমাদের কাঙ্ক্ষিত সংস্কার সেই পুরোনো বন্দোবস্তের কাছেই পরাজিত হয়ে বহাল তবিয়তে টিকে রইল।

সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
চক্রান্ত রাজপথেই প্রতিহত করা হবে: মামুনুল হক

চক্রান্ত রাজপথেই প্রতিহত করা হবে: মামুনুল হক