ঢাকা | বঙ্গাব্দ

ডেঙ্গুতে এক দিনে রেকর্ড ২২২৯ রোগী ও ৭ জনের মৃত্যু

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 25, 2026 ইং
ডেঙ্গুতে এক দিনে রেকর্ড ২২২৯ রোগী ও ৭ জনের মৃত্যু ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে প্রকাশিত সাম্প্রতিক দৈনিক বুলেটিনে এডিস মশাবাহিত রোগটির ভয়াবহ বিস্তারের একটি উদ্বেগজনক ও বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের দেওয়া দাপ্তরিক হিসাব অনুযায়ী, বিগত চব্বিশ ঘণ্টার ব্যবধানে সারা দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে চিকিৎসাধীন হয়েছেন রেকর্ডসংখ্যক দুই হাজার দুইশ উনপঞ্চাশজন রোগী।

মৃতের সংখ্যায়ও এই সময়ে মারাত্মক অবনতি লক্ষ্য করা গেছে, কারণ নির্দিষ্ট এই দিনটিতে মরণব্যাধি এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন আরও সাতজন। এই মর্মান্তিক মৃত্যুর ফলে চলতি বছর দেশজুড়ে মশাবাহিত এই বিশেষ রোগটিতে মোট fatalities বা প্রাণহানির সংখ্যা বহুলাংশে বৃদ্ধি পেল।

প্রশাসনিক বিভাগভিত্তিক তথ্য বিশ্লেಷণ করলে দেখা যায় যে, বর্তমান সময়ে রাজধানী ঢাকার বাইরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তেই এই রোগের প্রকোপ অত্যন্ত তীব্র আকার ধারণ করেছে। প্রাপ্ত বিবরণ অনুযায়ী, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভাগীয় শহর খুলনায় এই একটিমাত্র দিনে সবচেয়ে বেশি দুইশ সাতানব্বই জন ডেঙ্গু রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে শুরু করেছেন।

খুলনা অঞ্চলের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ রাজশাহী বিভাগে এই সময়ে নতুন করে দুইশ চব্বিশজন ব্যক্তি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। অন্যদিকে বন্দরনগরী ও পাহাড়ি জনপদ সংলগ্ন চট্টগ্রাম বিভাগে এই চব্বিশ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে শরণাপন্ন হয়েছেন দুইশ সতেরোজন রুগী।

দক্ষিণাঞ্চলের নদীমাতৃক বরিশাল বিভাগেও পরিস্থিতি বেশ আশঙ্কাজনক রয়েছে, যেখানে নতুন করে দুইশ এগারোজন ব্যক্তি চিকিৎসাকেন্দ্রে ভর্তি হয়েছেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়াও ময়মনসিংহ বিভাগে একশ পঞ্চান্ন জন, উত্তরাঞ্চলীয় রংপুর বিভাগে বিরাশি জন এবং পাহাড়ি ও চা বাগান অধ্যুষিত সিলেট বিভাগে ত্রিশজন রোগী এই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দীর্ঘমেয়াদি ও মাসভিত্তিক পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করলে এই বছরের রোগটির সংক্রমণের একটি ধারাবাহিক ও ভয়ংকর চিত্র স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। তাদের রেকর্ড খাতা অনুযায়ী, বর্ষা বা তার আগের সময় অর্থাৎ চলতি বছরের একেবারে শুরুর দিককার মাস জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছিল মাত্র দুজন করে ব্যক্তি।

এরপর গ্রীষ্মের শেষভাগে এসে মে মাসে এই মরণব্যাধি রোগে মৃত্যুর সংখ্যা কিছুটা কমে একজনের ঘরে নেমে এসেছিল বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তবে বর্ষাকাল শুরু হওয়ার সাথে সাথেই পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে মোড় নেয় এবং জুনি মাসে মৃত্যুর সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে তেরো জনে গিয়ে ঠেকে।

বর্ষার ভরা মৌসুম অর্থাৎ জুলাই মাসজুড়ে এই ভাইরাসের ভয়াবহতা আরও বৃদ্ধি পায় এবং সে সময়ে মারা যায় ছত্রিশ জন ব্যক্তি। এরপর আগস্ট মাস অতিবাহিত হওয়ার সময় মৃত্যুর এই গ্রাফটি আরও খাড়া হয়ে দাঁড়ায় এবং মোট প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে এক লাফে হয় তেতাল্লিশ জন।

শরৎকালের প্রারম্ভে অর্থাৎ সেপ্টেম্বর মাসে ডেঙ্গু পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার উপক্রম হয় এবং এই একটিমাত্র মাসেই রেকর্ড সংখ্যক একশ আটচল্লিশ জন মানুষের প্রাণহানি ঘটে। সবশেষ বর্তমান মাস অর্থাৎ অক্টোবরে এসেও এই মরণব্যাধি সংক্রমণের ধারা অব্যাহত রয়েছে এবং এখন পর্যন্ত মোট একশ উনচল্লিশ জন রোগী মৃত্যুবরণ করেছেন।

সূত্র: আজকের পত্রিকা


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগারের শারীরিক বৈশিষ্ট্য ও জীবনচক্র

সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগারের শারীরিক বৈশিষ্ট্য ও জীবনচক্র