ঢাকা | বঙ্গাব্দ

নস্টালজিয়ায় ঘেরা দ্য অ্যাসেন্ট অব ম্যান

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 28, 2026 ইং
নস্টালজিয়ায় ঘেরা দ্য অ্যাসেন্ট অব ম্যান ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

১৯৮৯ বা ১৯৯০ সালের সেই দিনগুলোর কথা স্মরণে করলে আজও অদ্ভুত এক নস্টালজিয়া কাজ করে। ১৯৮৫ সালে কার্ল সেগানের সাড়া জাগানো ‘কসমস’ দেখে আমরা সম্পূর্ণ বিমোহিত হয়ে পড়েছিলাম এবং অবিকล ওই রকমই আরেকটি মাস্টারপিসের খোঁজ করছিলাম আমরা। অবশেষে আমাদের সেই কাঙ্ক্ষিত আবিষ্কারের দেখা মিলল, তবে সেটি কোনো প্রচলিত বই ছিল না, বরং একটি দুর্দান্ত টিভি সিরিজ—যার নাম ‘দ্য অ্যাসেন্ট অব ম্যান’। ধারাবাহিকের একেকটি নতুন পর্ব প্রচার হওয়ার পর আমরা ভীষণ উত্তেজনার সঙ্গে তা নিয়ে আলোচনায় মেতে উঠতাম এবং কোনো কারণে কোনো পর্ব দেখা মিস হয়ে গেলে অন্যদের কাছ থেকে তা জেনে নিতাম। আমার সুনির্দিষ্টভাবে মনে আছে, গ্যালিলিও ও মহাবিশ্ব সম্পর্কিত অভিনব ধারণার ওপর ভিত্তি করে নির্মিত ৬ নম্বর পর্বটি—যার শিরোনাম ছিল ‘দ্য স্ট্যারি মেসেঞ্জার’—আমার দেখা হয়ে ওঠেনি।

সেই সময় প্রতি শুক্রবার কিংবা সোমবার আমরা কতিপয় বন্ধু মিলে নারায়ণগঞ্জে নিয়মিত আড্ডা দিতাম, আবার ঢাকা থেকেও তিন-চারজন বন্ধু সেখানে এসে যোগ দিত। আমাদের বসার নির্দিষ্ট কোনো স্থান ছিল না; কখনো আমরা কোনো বন্ধুর বাসায় মিলিত হতাম, কখনো বা ৫ নম্বর ঘাটের নদীপারে মুক্ত বাতাসে হাঁটাহাঁটি করতাম, কিংবা বোস কেবিন ও ক্যাফে মোগল রেস্তোরাঁয় গিয়ে বসতাম। নির্দিষ্ট সেই দিনটিতে আমাদের সঙ্গে কেবল সুব্রত মজুমদার এসেছিলেন। দুপুরের দিকে ক্যাফে মোগল রেস্তোরাঁর টেবিলে বসে আমি অত্যন্ত তন্ময় হয়ে তাঁর মুখ থেকে মিস হয়ে যাওয়া সেই পর্বের পুরো কাহিনি শুনছিলাম আর ফাঁকে ফাঁকে চায়ের কাপে চুমুক দিচ্ছিলাম; চমৎকার সেই স্মৃতিবিজড়িত দৃশ্যটি আজও আমার চোখের সামনে স্পষ্ট ভেসে ওঠে।

পরবর্তীতে যখন এই বিষয় নিয়ে আরও গভীরভাবে পড়াশোনা ও ঘাঁটাঘাঁটি শুরু করলাম, তখন দেখতে পেলাম বিখ্যাত বিজ্ঞানী কার্ল সেগান তাঁর ‘দ্য ড্রাগনস অব ইডেন’ গ্রন্থের প্রারম্ভিকায় এই টিভি সিরিজের নেপথ্য কারিগর জ্যাকব ব্রোনোস্কির প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। কার্ল সেগানের এই লেখা পড়ার পরই জ্যাকব ব্রোনোস্কি এবং তাঁর এই কালজয়ী সৃষ্টি ‘দ্য অ্যাসেন্ট অব ম্যান’ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত ও পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে জানার তীব্র আকাঙ্ক্ষা আমার মনের ভেতর বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছিল।

জ্যাকব ব্রোনোস্কির অমর সৃষ্টি এই ‘দ্য অ্যাসেন্ট অব ম্যান’ একই সঙ্গে যেমন একটি বিখ্যাত ও জনপ্রিয় টিভি সিরিজ, তেমনই একটি কালজয়ী গ্রন্থ। বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী জ্যাকব ব্রোনোস্কি পেশাগত জীবনে একাধারে একজন প্রথিতযশা গণিতবিদ এবং বিশিষ্ট জীববিজ্ঞানী হিসেবে বিশ্বজুড়ে পরিচিত ছিলেন।

বিজ্ঞানকে উপজীব্য করে ব্রিটিশ ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশন বা বিবিসির পক্ষ থেকে একটি মেগা-সিরিজ নির্মাণের এই চিন্তাভাবনাটি তাত্ত্বিকভাবে অত্যন্ত ইতিবাচক হলেও, এর বাস্তবায়ন করা আদতে মোটেও সহজ কোনো কাজ ছিল না। কারণ চিত্রকর্মের ক্যানভাস বা পাথরের ভাস্কর্যের মতো বিজ্ঞানের বিভিন্ন মৌলিক ধারণাগুলো তো আর দৃশ্যমান কোনো উপাদাননির্ভর বিষয় নয়; বিজ্ঞান মূলত বিভিন্ন জটিল তত্ত্ব ও বিমূর্ত ধারণার ওপর প্রতিষ্ঠিত। বিজ্ঞানভিত্তিক এই বিশেষ মেগা-সিরিজটি পরিচালনার জন্য ডেভিড অ্যাটেনবরো এবং অব্রি সিঙ্গার যৌথভাবে জ্যাকব ব্রোনোস্কিকে উপযুক্ত ব্যক্তি হিসেবে নির্বাচিত করেছিলেন। শারীরিক গঠনে জ্যাকব ব্রোনোস্কি অত্যন্ত খর্বকায় একজন মানুষ ছিলেন, কিন্তু তাঁর সমগ্র অবয়বে প্রকাশ পেত অন্য রকম এক দৃঢ় শক্তিমত্তা—তাঁির দুই চোখে জ্বলজ্বল করত জ্ঞানের তীব্র অগ্নিস্ফুলিঙ্গ এবং কণ্ঠে থাকত অপরিসীম নিষ্ঠা ও গভীর ভাবাবেগ। তিনি কেবল একজন খ্যাতনামা গণিতবিদ কিংবা বিজ্ঞানের ইতিহাসবিদই ছিলেন না, বরং একাধারে একজন কবি, প্রাজ্ঞ সাহিত্যসমালোচক এবং বিখ্যাত কবি উইলিয়াম ব্লেকের কাব্যের ওপর একজন প্রখ্যাত গবেষকও ছিলেন।

জ্যাকব ব্রোনোস্কির কালজয়ী গ্রন্থ হিসেবে পরিচিত এই ‘দ্য অ্যাসেন্ট অব ম্যান’ একই সঙ্গে একটি বিখ্যাত টিভি সিরিজও বটে। একাধারে একজন গণিতবিদ ও জীববিজ্ঞানী হিসেবে খ্যাতি অর্জনকারী ব্রোনোস্কি এই সিরিজের মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছেন যে, আবহমানকাল থেকে এই পৃথিবীর সাধারণ মানুষ তাদের সভ্যতার নানা প্রয়োজনে, শিল্প-সংস্কৃতিতে কিংবা প্রাণের স্বতঃস্ফূর্ত প্রকাশে কীভাবে ও কতটা গভীরভাবে বৈজ্ঞানিক চেতনার সঙ্গে মিশে গেছে। সমগ্র প্রকৃতি-জগৎ কীভাবে মৌলিক যুক্তিসম্পন্ন বৈজ্ঞানিক প্রবাহধারার ভেতর নিমজ্জিত থেকে অবিরত স্পন্দিত হচ্ছে—এই সমস্ত বিষয় অত্যন্ত সুচারুভাবে তুলে ধরাই ছিল এই গ্রন্থটির মূল উদ্দেশ্য। এই অনন্য গ্রন্থ এবং সংশ্লিষ্ট টিভি সিরিজ দুটিতেই সমানসংখ্যক অর্থাৎ ১৩টি করে অধ্যায় ও পর্ব রয়েছে। প্রামাণ্যচিত্রটি চিত্রায়িত হয়েছিল ১৯৭১ সালের জুলাই মাস থেকে ১৯৭২ সালের ডিসেম্বর মাসের মধ্যবর্তী সময়ে। পরবর্তীতে ১৯৭৩ সালে সিরিজটি প্রথম টেলিভিশনে প্রচারিত হয় এবং ঠিক একই বছর এটি একটি পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থ হিসেবেও প্রকাশিত হয়।

‘দ্য অ্যাসেন্ট অব ম্যান’ সিরিজে মানব প্রজাতি হিসেবে এবং নিজস্ব পারিপার্শ্বিক পরিবেশের সুনির্দিষ্ট কাঠামোর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে মানুষের সাংস্কৃতিক বিকাশের একটি অত্যন্ত দীর্ঘ ও বর্ণিল পথরেখাকে জ্যাকব ব্রোনোস্কি অত্যন্ত চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তুলেছিলেন।

দৈহিক গঠনে জ্যাকব ব্রোনোস্কি অত্যন্ত খর্বকায় একজন মানুষ হলেও, তাঁর বাহ্যিক অবয়বে লুকিয়ে থাকত অন্য রকম এক অনন্য শক্তিমত্তা; তাঁর দুই চোখে সবসময় জ্বলজ্বল করত জ্ঞানের তীব্র অগ্নিস্ফুলিঙ্গ এবং তাঁর কণ্ঠস্বরে ফুটে উঠত অপরিসীম নিষ্ঠা ও গভীর ভাবাবেগ।

প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকে শুরু করে একদম আধুনিক সময় পর্যন্ত মানব ইতিহাসে বিজ্ঞানের এক অনবদ্য ও প্রামাণ্য ইতিহাসও বটে এই সৃষ্টি। কীভাবে মানবজাতি এবং মানবমস্তিষ্ক যৌথভাবে পারস্পরিক প্রক্রিয়ায় ক্রমবিকাশ লাভ করেছিল, তারও এক বিশদ ও সুললিত বর্ণনা এই বইটিতে রয়েছে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন বিটিভির কল্যাণে নব্বইয়ের দশকের সময়টাতে আমাদের পক্ষেও এই বিখ্যাত টিভি সিরিজটি উপভোগ করা সম্ভব হয়েছিল। বিংশ শতাব্দীতে মানবসভ্যতার মুখোমুখি হওয়া দুটি অত্যন্ত বিপর্যয়কর ঘটনার প্রতি জোরালো ইঙ্গিত করে তিনি এই সত্য তুলে ধরেছেন যে, বিজ্ঞানকে যত্রতত্র কেবল ভোগের বস্তুতে পরিণত করা হলেও সমাজে তাকে সঠিকভাবে আত্তীকরণ করা সম্ভব হয়নি। আর এর ফলে সাধারণ মানুষের সঙ্গে বিজ্ঞানের কোনো স্থায়ী সমঝোতাও গড়ে উঠতে পারেনি। এই বইটি পাঠ করে গভীরভাবে উদ্দীপ্ত ও অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানী কার্ল সেগান। মূলত এই বইটির পরোক্ষ প্রেরণাতেই তিনি তাঁর বিখ্যাত ‘কসমস’ রচনা করেছিলেন এবং সেটিকে পরবর্তীতে ১৩ পর্বের একটি তাক লাগানো টিভি সিরিজে রূপ দিয়েছিলেন।

এই কালজয়ী বইটি প্রখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী স্টিফেন হকিংকেও দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল; তিনি গভীর মনোযোগ দিয়ে মানবজাতির এই দীর্ঘ চড়াই-উতরাইয়ের কষ্টকর পথপরিক্রমার কথা চিন্তা করেছিলেন। তাছাড়া, এটি গভীরভাবে আলোড়িত করেছিল গণিতবিদ রজার পেনরোজকে, যিনি পরম মগ্নতার সঙ্গে তাঁর নিজস্ব বৈজ্ঞানিক ভাবনাগুলোকে নতুন করে সাজিয়েছিলেন। কার্ল সেগান তাঁর ‘দ্য ড্রাগনস অব ইডেন’ গ্রন্থের ভূমিকায় জ্যাকব ব্রোনোস্কিকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেছেন। তিনি সেখানে লিখেছেন যে, এই বইটি বিশেষভাবে ব্রোনোস্কির পবিত্র স্মৃতিকে উৎসর্গ করা হয়েছে, কারণ ব্রোনোস্কি ছিলেন এমন একজন দূরদর্শী চিন্তাবিদ যিনি বিজ্ঞান, মানবতা ও সংস্কৃতিকে অত্যন্ত সফলভাবে একসঙ্গে যুক্ত করতে পেরেছিলেন। সেগান দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতেন যে, মানব বুদ্ধিমত্তার বিবর্তন নিয়ে তাঁর নিজস্ব বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান মূলত ব্রোনোস্কির কাজেরই একটি স্বাভাবিক ধারাবাহিকতা মাত্র।

জ্যাকব ব্রোনোস্কির ‘দ্য অ্যাসেন্ট অব ম্যান’ গ্রন্থটির মুখবন্ধটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই মুখবন্ধেই তিনি বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেছেন যে কেন তিনি এত বড় এবং বিশাল একটি প্রজেক্ট নিজ কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন এবং এর পেছনের মূল দর্শনটি ঠিক কী ছিল।

বইটি মূলত মানবসভ্যতার দীর্ঘ ইতিহাসের একটি চমৎকার ও জীবন্ত ‘জীবনী’। এই গ্রন্থে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে দেখানো হয়েছে বিজ্ঞানের অবিরাম ক্রমবিকাশ—প্রকৃতিতে মানুষের আগুন আবিষ্কারের সেই আদিম পর্যায় থেকে শুরু করে ডিএনএর রহস্য উন্মোচন কিংবা কোয়ান্টাম ফিজিকসের উচ্চমার্গীয় ক্ষেত্র পর্যন্ত বিজ্ঞানের এক অভাবনীয় ক্রমবিকাশ। এর পাশাপাশি বইটিতে মানুষের সাংস্কৃতিক ক্রমবিকাশের কথাও অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে স্থান পেয়েছে—যেখানে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে মানুষ কীভাবে যাযাবর জীবনের গণ্ডি পেরিয়ে ধীরে ধীরে কৃষি ও স্থায়ী সভ্যতার দিকে এগিয়ে গেছে। আরও রয়েছে স্থাপত্য ও শিল্পের অত্যন্ত সুদৃশ্য বর্ণনা—প্রাচীন মিশরের পিরামিড নির্মাণ থেকে শুরু করে রেনেসাঁ যুগের বিশ্বখ্যাত শিল্পকর্মগুলোর নেপথ্যে যে বৈজ্ঞানিক জ্ঞান কাজ করেছে, তারও বিশদ আলোচনা এখানে করা হয়েছে। আর সর্বোপরি, এই পুরো আলোচনার মধ্য দিয়ে অত্যন্ত জোরালোভাবে উঠে এসেছে দর্শন ও সুনির্দিষ্ট নৈতিকতার প্রশ্নগুলো।

বিজ্ঞানের যত্রতত্র অপব্যবহার, বিশেষ করে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ধ্বংসাত্মক পরমাণু বোমা ব্যবহারের মতো ঘটনাগুলো নিয়ে ব্রোনোস্কি তাঁর লেখায় গভীর নৈতিক উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এই গ্রন্থটি রচনার নেপথ্যে তাঁর কিছু ব্যক্তিগত জীবনের মর্মান্তিক সংযোগও অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে কাজ করেছিল। কারণ জ্যাকব ব্রোনোস্কি নিজেই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতার সময় নাৎসি বাহিনীর নির্মম অত্যাচারে তাঁর পরিবারের অনেক প্রিয় সদস্যকে চিরতরে হারিয়েছিলেন। আউশভিৎজ কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পের সেই ভয়াল প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে তিনি যে ঐতিহাসিক বক্তব্য রেখেছিলেন, তা মানব ইতিহাসের অন্যতম সেরা ও বিবেকবান মুহূর্ত হিসেবে সারাবিশ্বে গণ্য করা হয়, যেখানে তিনি অন্ধ ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন বিশ্বাসের পরিবর্তে সব সময় অকাট্য প্রমাণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার জোরালো আহ্বান জানিয়েছিলেন।

জ্যাকব ব্রোনোস্কির ‘দ্য অ্যাসেন্ট অব ম্যান’ বইটির মুখবন্ধটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অর্থবহ। কারণ এই মুখবন্ধেই তিনি বিশদভাবে ব্যাখ্যা করেছেন ঠিক কী কারণে তিনি এই বিশাল ও চ্যালেঞ্জিং প্রজেক্টটি হাতে নিয়েছিলেন এবং এর পেছনের মূল দর্শনটি আসলে কী ছিল। এই বইটির মুখবন্ধের অন্যতম প্রধান ও উল্লেখযোগ্য দিক হচ্ছে বিজ্ঞানের একটি মানবিক চেহারার উন্মোচন। ব্রোনোস্কি তাঁর এই মুখবন্ধে অত্যন্ত দ্ব্যর্থহীন ভাষায় স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন যে, বিজ্ঞান কোনো যান্ত্রিক বা প্রাণহীন নিছক কোনো বিষয় নয়; এটি মূলত মানুষের অদম্য চিন্তাশক্তি এবং সৃজনশীলতার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। তিনি বিজ্ঞানকে মানবজীবনের মূল দর্শন হিসেবে তুলে ধরতে চেয়েছিলেন। তাঁর সুচিন্তিত মতে, বিজ্ঞানের প্রকৃত ইতিহাস মানেই হলো সার্বিকভাবে মানুষের অগ্রগতির ইতিহাস।

বিজ্ঞানের অপব্যবহার এবং বিশেষ করে পরমাণু বোমা তৈরির মতো ধ্বংসাত্মক পরিণতি সম্পর্কে ব্রোনোস্কি তাঁর রচনার মাধ্যমে অত্যন্ত গভীর নৈতিক উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এই গুরুত্বপূর্ণ বইটি রচনার নেপথ্যে তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের কিছু দুঃখজনক ঘটনা ও সংযোগও অতপ্রোতভাবে জড়িত ছিল।

সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
২২ বছর পর নাসার সুইফট মহাকাশ অভিযানের সমাপ্তি

২২ বছর পর নাসার সুইফট মহাকাশ অভিযানের সমাপ্তি