ঢাকা | বঙ্গাব্দ

১৬ বছর বয়সে পদার্থবিজ্ঞানে ফেল, হতাশা থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Nov 1, 2026 ইং
১৬ বছর বয়সে পদার্থবিজ্ঞানে ফেল, হতাশা থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

হায়ার সেকেন্ডারি পরীক্ষার একটি বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ার তীব্র শঙ্কা কিশোর মনে গভীর অন্ধকার ডেকে এনেছিল। মনে হচ্ছিল, এত অল্প বয়সে বুঝি আমার জীবনের সব অধ্যায় শেষ হয়ে গেল। মা–বাবার অমূল্য প্রত্যাশা, পারিবারিক সম্মানহানি এবং প্রতিবেশীদের নিষ্ঠুর দৃষ্টিতে ছোট হয়ে যাওয়ার ভয় এমনভাবে চেপে বসেছিল যে, জীবনের সব ছোট্ট আনন্দ এক নিমেষে বিবর্ণ হয়ে গিয়েছিল। অবশেষে সেই আশঙ্কাই সত্যি হলো এবং আমি সত্যিই এক বিষয়ে ফেল করলাম। তবে সেই বিপর্যয়ই জীবনের শেষ পরিণতি ছিল না, বরং দুই দশক পর অতীতে তাকিয়ে পরিষ্কার বুঝতে পারি যে, একটি মাত্র পরীক্ষার ফল কখনোই কোনো মানুষের গোটা জীবনের সঠিক মাপকাঠি হতে পারে না।

২০০৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসের শুরু থেকেই আমার পেটের ভেতর এক অজানা আশঙ্কায় খামচে ধরত। এই ভীতি একেবারেই অমূলক ছিল না। পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্রের প্রশ্নপত্র হাতে পাওয়ার পর এবং পরীক্ষা শেষ হওয়ার ঠিক পরপরই আমি প্রায় নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিলাম যে, রূপকথার আলিফ লায়লার কোনো কাল্পনিক দৈত্য-দানবের জাদুকরী সাহায্য ছাড়া উত্তরণের কোনো পথ খোলা নেই। দুই দশক আগের সেই সময়ে বাংলাদেশের সাধারণ মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর কাছে পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল ছিল এক বিরাট ও মর্যাদাপূর্ণ বিষয়। পঞ্চম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষা থেকে শুরু করে প্রতিটি পরীক্ষার আগে ও পরে একটাই কথা শুনতে হতো যে, এই নির্দিষ্ট পরীক্ষার ফলাফলের ওপরই সম্পূর্ণ ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে। এর মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার চারপাশ ঘিরে প্রত্যাশার তীব্র পারদ সব সময় সর্বোচ্চ সীমায় অবস্থান করত।

ফলাফল প্রকাশের নির্ধারিত দিনটি ঠিক করা হয়েছিল ২৭ সেপ্টেম্বর। ওই বিশেষ দিনটি যত দ্রুত ঘনিয়ে আসতে লাগল, ততই আমার বুকের ভেতর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বহুগুণ বৃদ্ধি পেতে থাকল। গভীর রাতে হঠাৎ ঘুম ভেঙে বাথরুমে গিয়ে পদার্থবিজ্ঞানের দুটি পত্রের কঠিন প্রশ্নপত্রগুলো বারবার মিলিয়ে দেখতাম। খাতার মার্জিনে যোগ-বিয়োগ করে নিজের পাস নম্বর হিসাব করার চেষ্টা করতাম। দিনেরবেলাতেও সবার অগোচরে অত্যন্ত গোপনে একই কাজ বারবার করতাম। কিন্তু কোনোভাবেই দুই পত্রের নম্বর যোগ করে পাস করার মতো নির্দিষ্ট নম্বরে পৌঁছাতে সক্ষম হচ্ছিলাম না। পদার্থবিজ্ঞানের কয়েকটি গাণিতিক সমস্যার সমাধান নিয়ে মনের কোণে সামান্য কিছু আশা জেগেছিল, যদি পরীক্ষক দয়া করে সেখানে এক বা দুই নম্বর বাড়িয়ে দেন! কিন্তু কঠিন বিজ্ঞান তো কখনো আবেগ বোঝে না, বিজ্ঞান কেবল নির্ভুল সমাধান দেখতে চায়। গাণিতিক সমাধান যদি শেষ পর্যন্ত না মেলে, তবে কাঙ্ক্ষিত নম্বর পাওয়ার আশাও ক্ষীণ হয়ে আসে।

সেই দিনগুলোতে আমার বয়স ছিল মাত্র ষোলো বছর। আর সেই কম বয়সেই আমার মনে হতে বাধ্য হয়েছিল যে, জীবনের সবচেয়ে ভয়ংকর ও বড় কোনো বিপর্যয় বুঝি আমার সামনে এসে অপেক্ষা করছে। সেই নব্বইয়ের দশকের কঠিন অর্থনৈতিক বাস্তবতায় দেশের সামগ্রিক অবস্থা খুব একটা সন্তোষজনক ছিল না। প্রতিবছর নিয়মিতভাবে পত্রিকার পাতায় মঙ্গার কষ্টের খবর প্রকাশিত হতো। নিম্নমধ্যবিত্ত ও দরিদ্র পরিবারের বহু মা–বাবার কাছে একটিমাত্র শিক্ষিত সন্তানই ছিল তাদের চিরন্তন দারিদ্র্য থেকে মুক্তি পাওয়ার সবচেয়ে বড় ও একমাত্র আশ্রয়। নিজেরা অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটিয়ে, পুরোনো কিংবা তালি দেওয়া ছেঁড়া জামাকাপড় পরে তাঁরা সন্তানদের পড়াশোনার যাবতীয় খরচ জোগাড় করতেন। এর বিনিময়ে সন্তানদের কাছে তাঁদের একমাত্র প্রাপ্তি ও প্রত্যাশা ছিল চমৎকার একটি ভালো ফল।

আমার নিজের পরিবারেও এই নিয়মের কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি। আমার কাঁধের ওপরও চেপে বসেছিল তীব্র দারিদ্র্যের করুণ গল্প, মা–বাবার সুপ্ত স্বপ্ন এবং বিশাল সব প্রত্যাশার ভারী বোঝা। কিন্তু সেই আমিই কি না শেষ পর্যন্ত পরীক্ষায় ফেল করতে বসেছিলাম! নব্বইয়ের দশকে বেড়ে ওঠা আমার সমবয়সী বহু তরুণের মতো আমাদের পড়াশোনার একমাত্র প্রধান লক্ষ্যই ছিল মা–বাবার বুকের স্বপ্নগুলো সফলভাবে বাস্তবায়ন করা। নিজেদের সুপ্ত মন কী চায় বা না চায়, তা হয়তো আমরা কখনো গভীরভাবে ভেবেই দেখতাম না। আমরা শুধু এটুকু ভালো করেই জানতাম যে, যেভাবেই হোক ভালো ফলাফল অর্জন করতে হবে এবং পরবর্তীতে একটি ভালো চাকরি নিশ্চিত করতে হবে। সেই চাকরির সামান্য বেতনে নিজের জীবনযাত্রার চাকা সচল রাখতে হবে এবং পুরো পরিবারকে আর্থিকভাবে সাহায্য করতে হবে।

স্কুলের খাতার ‘আমার জীবনের লক্ষ্য’ নামক রচনাটিতে যা-ই লিখে থাকি না কেন, বাস্তব জীবনে আমাদের একমাত্র আসল লক্ষ্যই ছিল মা–বাবাকে পরম আনন্দে খুশি রাখা। সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহের দিনগুলোতে মাঝেমধ্যে মনে হতো, যদি কোনো দূরদূরান্তে পালিয়ে যেতে পারতাম, তবে হয়তো এই যন্ত্রণা থেকে বাঁচতাম। শৈশবের একটি সময়ে ঢাকায় আসার পথে ফরিদগঞ্জ লঞ্চঘাটে একবার সত্যি সত্যিই হারিয়ে গিয়েছিলাম। সেই উৎকণ্ঠার দিনগুলোতে বারবার মনে হতো, সেদিন মা–বাবা যদি আমাকে আর কোনো দিন খুঁজে না পেতেন, তবে হয়তো সেটাই আমার জন্য অনেক ভালো হতো! মনে মনে ভাবতাম, আমার চারপাশের মানুষগুলো তখন কী মন্তব্য করবে? বাবা পরদিন সকালে অফিসে গিয়ে তাঁর সহকর্মীদের কাছে কী জবাব দেবেন? মা কীভাবে পাড়ার প্রতিবেশীদের মুখোমুখি দাঁড়াবেন? পুরো পরিবারের মধ্যে আমিই হতে যাচ্ছি প্রথম ফেল করা হতভাগ্য শিক্ষার্থী। আমার অত্যন্ত রাগী বাবার সামাজিক সম্মান ও মর্যাদা কি এতে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হবে না?

ওই সময়ে পাবলিক পরীক্ষার ফল প্রকাশের দিনটিতে আশপাশের বহু পরিবারে আনন্দের আতিশয্যে মিষ্টি বিতরণ করা হতো। ভালো ফলাফলের সেই মিষ্টি আনন্দ সবার মাঝে ভাগ করে নিতে আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে মিষ্টি মুখ করানো হতো। আর যদি কোনো কারণে সেই বাড়িতে মিষ্টি না পৌঁছাত, তবে সবাই আপনাআপনি বুঝে নিত যে, সেই নির্দিষ্ট ঘরের ছেলে কিংবা মেয়ের পরীক্ষার ফল ভালো হয়নি। ব্যর্থতার সেই বেদনাদায়ক খবর যেন মুহূর্তের মধ্যে সবার অজানা থেকে আর থাকত না। ২৭ সেপ্টেম্বর তারিখটি যত সামনে এগিয়ে আসছিল, ততই আমি চরম মানসিক অস্থিরতায় ভুগতে শুরু করতাম। পবিত্র নামাজ আদায় শেষ করে জায়নামাজে বসে দীর্ঘ সময় ধরে আল্লাহর দরবারে মোনাজাত করতাম। আমরা তো রূপকথার সিন্দাবাদ আর আলিফ লায়লার রোমাঞ্চকর গল্প শুনে বড় হয়েছি। সেই গল্পের বীর চরিত্রগুলো কতবার নিশ্চিত বিপদ থেকে অলৌকিক উপায়ে বেঁচে ফিরেছে! আমার অবুঝ মনে বারবার প্রশ্ন জাগত, কোনো কাল্পনিক দৈত্য-দানব কি এবারও আমাকে এই চরম বিপদ থেকে বাঁচাতে পারবে না?

সেপ্টেম্বরের পঁচিশ তারিখের দিকে আমার মাথায় আরও অনেক বেশি ভয়ংকর ও অন্ধকার চিন্তা আসতে শুরু করেছিল। অবশ্য আত্মহত্যা করার মতো অতিমানবিক সাহস কিংবা বিন্দুমাত্র ইচ্ছা আমার মধ্যে কোনো কালেই ছিল না। খোলা মাঠে বন্ধুদের সঙ্গে জমজমাট ক্রিকেট খেলা, বিকেলে সমবয়সীদের সঙ্গে আড্ডা দেওয়া, মনে ভাসা প্রথম প্রেমের মিষ্টি অনুভূতি, আর ছুটির দিনে মায়ের হাতের বিশেষ মটন কষা রান্না—জীবনের এই অতি সাধারণ ও ছোট ছোট আনন্দগুলো আমার কাছে ভীষণ প্রিয় ছিল। আমাদের বাড়ির ঠিক পাশ ঘেঁज़েই চলে গেছে ব্যস্ত রেললাইন। সেখান দিয়ে নিয়ম করে প্রতি ঘণ্টায় ট্রেন চলাচল করত। একপর্যায়ে আমার উন্মাদের মতো মনে হয়েছিল, যদি কোনো দুর্ঘটনায় ট্রেনের আঘাতে গুরুতরভাবে আহত হতে পারতাম, তবে হয়তো সবাই পরীক্ষার খারাপ ফলের কথা চিরতরে ভুলে যেত। শুধু রক্তাক্ত আমাকে নিয়েই সবাই ব্যস্ত থাকত। কিন্তু সেই চরম চিন্তার মধ্যেও আমার ভেতরে কাজ করছিল তীব্র ভয়। আজ দীর্ঘ এত বছর পর পেছনে ফিরে তাকালে শিউরে উঠতে হয় যে, মাত্র ষোলো বছর বয়সে একটি মাত্র পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার নিছক আশঙ্কা আমাকে ভেতর থেকে কতটা অসহায় ও দিশেহারা করে তুলেছিল।

অবশেষে বহু প্রতীক্ষিত সেই ফলাফল প্রকাশিত হলো ২৭ সেপ্টেম্বর। আমার মনের আশঙ্কাটাই শেষ পর্যন্ত পুরোপুরি সত্যি হলো। পদার্থবিজ্ঞানের একটি মাত্র বিষয়ে আমি অকৃতকার্য হলাম। ফলাফল জানার সঙ্গে সঙ্গেই সবার আগে আমার মমতাময়ী মা–বাবার আদুরে মুখদুটি আমার চোখের সামনে ভেসে উঠল। আমি কোন মুখে এখন নিজ বাড়িতে ফিরে যাব? পরীক্ষায় ফেল করার দুঃখের চেয়েও আমার মনে অনেক বেশি কষ্ট হচ্ছিল এই ভেবে যে, কেবল আমার এই ব্যর্থতার কারণে সবাইকে সমাজে অপ্রস্তুত ও বিব্রত হতে হবে। নিজেকে তখন এই ভরা পরিবারের কাছে একটি মস্ত বড় বোঝা ছাড়া আর কিছুই মনে হচ্ছিল না। আমার বিশ্বস্ত বন্ধু জিটু সেদিন অত্যন্ত দয়া করে আমাকে সঙ্গে নিয়ে নিজ বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছিল। পরবর্তী সময়ে আমরা দুজনেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একই বিভাগের সহপাঠী হিসেবে একসঙ্গে পড়াশোনা করেছি। সেদিন আমার চোখের অঝোর ধারা না থামা পর্যন্ত সে আমার পাশেই বসে ছিল। জিটুও স্বভাবগতভাবে অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র ছিল, কিন্তু সেদিন কাকতালীয়ভাবে তার ফলাফলও তার নিজস্ব প্রত্যাশা অনুযায়ী ভালো হয়নি।

বাড়িতে ফিরে এসে দেখলাম, ঘরের কেউ কোনো ধরনের উচ্চবাচ্য করছেন না। পুরো বাড়ি জুড়ে নেমে এসেছে এক অদ্ভুত ও ভীতিপ্রদ নীরবতা। দুটিমাত্র ছোট কক্ষের সেই ছোট্ট বাসায় আমরা সব মিলিয়ে ছয়জন মানুষ একসঙ্গে বসবাস করতাম। সেদিন রাতে পেটে এক দানাও কিছু না খেয়ে ঘরের এক কোণে অত্যন্ত গুটিসুটি মেরে শুয়ে পড়েছিলাম। পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর বেশ কিছু দিন আমি নিজেকে স্বেচ্ছায় ঘরবন্দী করে রেখেছিলাম। কিন্তু তাতেও সমাজের নিষ্ঠুর দৃষ্টি থেকে আমার কোনো নিস্তার মেলেনি। পাড়ার বিভিন্ন প্রতিবেশীরা খোঁজ নিতে ও দেখতে আসতেন। তাঁদের কেউ কেউ আমাদের প্রতি কৃত্রিম সহানুভূতি প্রকাশ করেছেন, আবার তাঁদেরই অনেকের নির্মম কথায় আমার মনের ক্ষত আরও গভীর হয়েছে।

আমাদের এক প্রতিবেশী সেদিন এসে আমার মা–বাবাকে অত্যন্ত নিষ্ঠুর এক পরামর্শ দিয়েছিলেন যে, ‘ওরে ভালো করে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলায়া পিটান, দেখবেন সব ঠিক হয়ে গেছে।’ আবার সেই সময়ে কম বয়সের কিছু ছোট স্বজনের অবুঝ কথাবার্তাও আমার আজও স্পষ্ট মনে আছে। পাঁচ থেকে ছয় বছর বয়সি দুটি শিশু অন্য ঘরের ভেতরে দাঁড়িয়ে নিজেদের মধ্যে ফিসফিস করে বলছিল, ‘বড় ভাইয়া পরীক্ষায় ফেল করছে, ওই রুমে কেউ যাস না।’ অবুঝ শিশুগুলোর এই কথাগুলো হয়তো তারা না বুঝেই অবলীলায় বলে ফেলেছিল। কিন্তু আমার কিশোর মনে তখন তীব্রভাবে অনুভূত হয়েছিল যে, ফেল করার এই অপরাধের মাধ্যমে আমি যেন সমাজের একদম তলানিতে গিয়ে ঠেকেছি। বাসার বড়রা সবাই যখন ড্রয়িংরুমে বসে শান্ত মনে টেলিভিশন দেখছিলেন, সেখানে গিয়ে আমি যদি ভুলবশত দুই মিনিটও বসতাম, তবে সঙ্গে সঙ্গে কেউ না কেউ বলে উঠতেন, ‘ছেলেটা ফেল করছে আবার কোনো লজ্জায় টিভি দেখছে!’

ঠিক এক সপ্তাহ পর যখন প্রথমবারের মতো সাহস করে বাড়ির বাইরে পা রাখলাম, তখন আমার মনে হচ্ছিল রাস্তার দুই পাশের সকল মানুষের জোলো দৃষ্টি কেবল আমারই ওপর নিবদ্ধ রয়েছে। সবাই যেন আমাকে দেখে মনে মনে হাসাহাসি করছে। হয়তো বাস্তবিকভাবে সেদিন কেউ আমার দিকে তাকায়নি বা পাত্তাও দেয়নি। কিন্তু নিজের মনের ভেতরে তখন এমন এক তীব্র লজ্জা ও হীনম্মন্যতার অন্ধকার বাসা বেঁধেছিল, যা থেকে বের হয়ে আসার কোনো উপায় আমার জানা ছিল না।

সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
রাত ১০টা থেকে তিন দিন ইন্টারনেটে ধীরগতি হতে পারে

রাত ১০টা থেকে তিন দিন ইন্টারনেটে ধীরগতি হতে পারে