নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
শারজায় আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়ের মধ্যকার দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে চারিত্রিক ও পরিসংখ্যানগত দিক থেকে একের পর এক নজির সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে দুই দল মিলে মোট ৪২৩ রান সংগ্রহ করেছে। এই ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে আফগানিস্তান নির্ধারিত ওভারে ৭ উইকেটে ২২১ রান সংগ্রহ করে এবং জবাবে জিম্বাবুয়ে সম্পূর্ণ ২০ ওভার খেলে ৫ উইকেটে ২০২ রানে ইনিংস শেষ করে।
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসে এটিই সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহের ম্যাচ হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে। পাশাপাশি, সংযুক্ত আরব আমিরাতের মাটিতে আয়োজিত যেকোনো টি-টোয়েন্টি ম্যাচের ক্ষেত্রেও এটি সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড।
এর আগের এই রেকর্ডটি গত বছর শারজাতেই বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যকার একটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচের দখলে ছিল, যেখানে দুই দল মিলিয়ে মোট ৪১১ রান এসেছিল এবং সেদিন ৩৯.৫ ওভার খেলা হয়েছিল।
এই প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে শারজার মাঠে জিম্বাবুয়ের সিকান্দার রাজা নিজের আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় শতকটি অর্জন করেছেন। ম্যাচ চলাকালীন তার বয়স ছিল ৪০ বছর ১৮৮ দিন, যা তাকে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসে সেঞ্চুরি করা সবচেয়ে বয়স্ক খেলোয়াড়ে পরিণত করেছে।
জিম্বাবুয়ের এই অভিজ্ঞ অধিনায়ক মাত্র ৫৬ বল মোকাবিলা করে ৫টি চার ও ৯টি ছক্কার সাহায্যে ১০৬ রানের অপরাজিত একটি নান্দনিক ইনিংস খেলেন। যদিও তার এই অসাধারণ সেঞ্চুরিটি শেষ পর্যন্ত দলের পরাজয়ের ব্যবধান কমাতেই কেবল সহায়তা করেছিল।
তার বয়স্ক সেঞ্চুরির এই কীর্তি গড়ার আগে রেকর্ডটি ছিল জিব্রাল্টারের অবিনাশ পাইয়ের দখলে। তিনি ২০২১ সালে বুলগেরিয়ার বিপক্ষে ৩৯ বছর ২৭২ দিন বয়সে ১০৭ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে এই মাইলফলক স্পর্শ করেছিলেন।
আফগানিস্তানের ইনিংসের শুরুর দিকে শারজায় টস জিতে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেয় জিম্বাবুয়ে। ম্যাচের শুরুতে দারুণ বোলিং করে আফগানদের মাত্র ৫ রানের মধ্যেই ৪টি উইকেট তুলে নেয় জিম্বাবুইয়ান বোলাররা।
প্রাথমিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েও আফগানিস্তান দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় এবং শেষ পর্যন্ত ৭ উইকেটে ২২১ রানের বিশাল সংগ্রহ গড়ে তোলে। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ২৫ রানের কম রানে ৪ উইকেট হারানোর পর দলীয় সর্বোচ্চ রানের বিশ্বরেকর্ড এখন আফগানিস্তানের।
এর আগে এই বিশেষ কীর্তিটি ভারতীয় দলের দখলে ছিল। ২০২৪ সালে বেঙ্গালুরুতে আফগানিস্তানের বিপক্ষেই ম্যাচ খেলার সময় ভারত ২২ রানে ৪ উইকেট হারিয়েও স্কোরবোর্ডে ৪ উইকেটে ২১২ রান তুলেছিল।
আফগান ইনিংসের বিপর্যয় সামাল দিতে ষষ্ঠ উইকেটে আজমতউল্লাহ ওমরজাই ও ইজাজ আহমদ আহমদজাই জুটি বাঁধেন। এই দুই ব্যাটার মিলে মাত্র ৫৯ বল স্থায়ী জুটিতে ১৪২ রান সংগ্রহ করেন, যা আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ষষ্ঠ বা তার নিচের উইকেটে সর্বকালের সর্বোচ্চ রানের জুটি।
এই জুটির বিশ্বরেকর্ড গড়ার আগে বিগত সর্বোচ্চ রানটি ছিল আন্দ্রে রাসেল ও শারফেন রাদারফোর্ডের। তাঁরা ২০২৪ সালে পার্থে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের সময় ষষ্ঠ উইকেটে একত্রে ১৩৯ রান যোগ করেছিলেন।
উক্ত জুটির একজন আজমতউল্লাহ ওমরজাই জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে ছয় নম্বর পজিশনে ব্যাটিংয়ে নেমে তাণ্ডব চালান। তিনি মাত্র ৫০ বল খেলে ৫টি চার ও ১২টি বিশাল ছক্কার সাহায্যে ১১৬ রানের একটি দারুণ ইনিংস উপহার দেন।
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে ছয় নম্বর বা তার নিচের পজিশনে নেমে ব্যাট করতে গিয়ে এটি তৃতীয় সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসের রেকর্ড। এই ক্যাটাগরিতে তালিকার শীর্ষস্থানে অবস্থান করছেন বেলজিয়ামের শাহরিয়ার বাট।
শাহরিয়ার বাট ২০২০ সালে চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ১২৫ রান করে অপরাজিত থেকেছিলেন। এছাড়া তালিকায় ২০২৫ সালে সার্বিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে স্লোভেনিয়ার ইজাজ আলীও ১১৮ রান করার কৃতিত্ব দেখিয়েছেন।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর