নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
বাংলাদেশের পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য এক মারাত্মক নীরব হুমকি হয়ে দেখা দিয়েছে পিএফএএস বা ফরএভার কেমিক্যালস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো এই ভয়ংকর রাসায়নিকের উপস্থিতি আমাদের দেশেও অত্যন্ত ব্যাপক আকারে বিরাজমান রয়েছে।
পোশাক ও টেক্সটাইল খাতের প্রধান রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে আমাদের এখানে কাপড়ে ওয়াটারপ্রুফ বা দাগপ্রতিরোধক প্রলেপ যুক্ত করতে, ডাইং কার্যক্রমে, চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণে এবং নানা প্লাস্টিক কারখানায় এই ক্ষতিকর কেমিক্যালের প্রচুর ব্যবহার হয়ে থাকে।
রাজধানী ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী টেক্সটাইলশিল্প অঞ্চলের ভূ-উপরিস্থ জলাশয় বা নদীর ৮৭ শতাংশ এবং ট্যাপের পানির ৭৫ শতাংশ নমুনায় এই পিএফএএসের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে তুরাগ ও কর্ণফুলীর মতো গুরুত্বপূর্ণ নদীতে এর মাত্রা অত্যন্ত বেশি রয়েছে।
শুধু নদী বা জলাশয় নয়, ঢাকার বিভিন্ন বাসাবাড়িতে সরবরাহ করা ট্যাপের পানি, বাজারে বাণিজ্যিক ব্র্যান্ডের পোশাক এবং চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের উপকূলীয় এলাকার মাছেও এই বিপজ্জনক উপাদানের অস্তিত্ব মিলেছে বলে জানা গেছে।
উন্নত বিশ্বে এই ক্ষতিকর উপাদানটির ওপর কঠোর নীতিমালা থাকলেও বাংলাদেশে তা নিয়ন্ত্রণ কিংবা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার কোনো পূর্ণাঙ্গ আইন এখনো তৈরি হয়নি, যা পরিস্থিতিকে আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে।
আমাদের দেশে বহুল প্রচলিত সাধারণ ফিল্টার যেমন পানি ফোটানো কিংবা সাধারণ ক্যান্ডেল ও মেমব্রেন ফিল্টার ব্যবহার করে এই ভয়ংকর উপাদান কোনোভাবেই দূর করা সম্ভব নয় বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।
পানিতে থাকা এই বিষাক্ত পিএফএএস দূর করতে হলে অবশ্যই হাই-গ্রেড রিভার্স অসমোসিস পদ্ধতি অথবা অ্যাক্টিভেটেড কার্বন ফিল্টারের মতো উন্নত শোধন ব্যবস্থা ব্যবহার করা প্রয়োজন।
পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষই তাদের জীবনের কোনো না কোনো নির্দিষ্ট পর্যায়ে এই স্থায়ী রাসায়নিক বা কেমিক্যালের সংস্পর্শে এসে থাকেন, যা শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।
অন্যান্য সাধারণ রোগের পাশাপাশি এই কেমিক্যাল মানুষের শরীরে টেস্টিকুলার বা অণ্ডকোষের ক্যানসার এবং কিডনি ক্যানসারের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে সক্ষম।
এটি মানুষের নারী প্রজনন অঙ্গ, স্তন এবং থাইরয়েড টিস্যুকে সরাসরি প্রভাবিত করে থাকে এবং ডিম্বাশয়ের নানা জটিলতা যেমন পিএমওএসের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে।
এই অদৃশ্য ও মারাত্মক ঝুঁকি থেকে রক্ষা পেতে হলে বর্তমান সময়ে এখনই সঠিক সচেতনতা এবং অত্যন্ত কার্যকর পানি শোধন পদ্ধতি ব্যবহার করা জরুরি।
নিজের এবং পরিবারের প্রতিটি সদস্যের সার্বিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এই বিষাক্ত কেমিক্যাল সম্পর্কে এখনই সচেতন হওয়া অত্যন্ত আবশ্যক বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর