ঢাকা | বঙ্গাব্দ

বিশ্বজুড়ে পালিত হয় সাতটি রহস্যময় ও ভৌতিক উৎসব

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 31, 2026 ইং
বিশ্বজুড়ে পালিত হয় সাতটি রহস্যময় ও ভৌতিক উৎসব ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

অতিপ্রাকৃত বিশ্বাস, মৃত মানুষের আত্মা এবং পূর্বপুরুষদের স্মৃতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে নানা ধরনের প্রাচীন ঐতিহ্য। বর্তমান পৃথিবীতে ভূতকেন্দ্রিক অনুষ্ঠানগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় হলো হ্যালোউইন। প্রতি বছরের ৩১ অক্টোবর তারিখে সারা পৃথিবী জুড়েই এই বিশেষ দিবসটি উদযাপনের জন্য নানা ধরনের বর্ণিল প্রস্তুতি নেওয়া হয়।

যদিও এই উৎসবটি আধুনিক যুগে সর্বাধিক পরিচিত, তবে মানবসভ্যতার ইতিহাসে মৃতদের স্মরণ করার ভিন্ন রূপ পৃথিবীর নানা প্রান্তে যুগ যুগ ধরে প্রচলিত আছে। কোথাও সাধারণ মানুষ অশুভ শক্তির মতো পোশাক পরে আনন্দ করে, কোথাও আবার আপনজনদের স্মরণে বিশেষ বেদি সাজানো হয়। আবার কোথাও আত্মার শান্তি কামনায় লণ্ঠন জ্বালানোর মতো প্রথাও চালু রয়েছে।

উত্তর আমেরিকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ অনেক পশ্চিমা রাষ্ট্রে অক্টোবরের শেষ দিনে হ্যালোউইন পালনের প্রচলন রয়েছে। ইতিহাসবিদদের মতে, প্রাচীন কেল্টিকদের ঐতিহ্যবাহী 'সামহাইন' উৎসব থেকে এর সূচনা হয়েছিল। সেই প্রাচীন জনগোষ্ঠীর বিশ্বাস ছিল যে বছরের এই বিশেষ রাতে দুই জগতের মধ্যকার অদৃশ্য পর্দা পাতলা হয়ে যায়।

বর্তমান সময়ে এই বিশেষ দিনটিতে মানুষ বিভিন্ন ধরনের ভৌতিক পোশাক পরিধান করে এবং শিশুদের জন্য 'ট্রিক অর ট্রিট' নামক মজার খেলা অনুষ্ঠিত হয়।

ইউরোপ মহাদেশের বিভিন্ন রাষ্ট্রে ১ নভেম্বর অল সেইন্টস ডে এবং পরের দিন ২ নভেম্বর অল সোলস ডে পালন করা হয়। এই বিশেষ সময়ে সাধারণ পরিবারগুলো তাদের মৃত আত্মীয়দের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে থাকে। শোকার্ত মানুষেরা সমাধিক্ষেত্রে উপস্থিত হয়ে মোমবাতি প্রজ্বলন করেন এবং বিদেহী আত্মার চিরশান্তির জন্য প্রার্থনা নিবেদন করেন।

চীন দেশ এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে চন্দ্রপঞ্জিকার সপ্তম মাস অনুযায়ী হাংরি ঘোস্ট ফেস্টিভ্যাল উদযাপিত হয়, যা সাধারণত আগস্ট কিংবা সেপ্টেম্বর মাসে পড়ে। লোকসংস্কৃতির বিশ্বাস অনুযায়ী, এই বিশেষ সময়ে অতৃপ্ত আত্মারা মানুষের ধরাধামে ফিরে আসে। তাদের সন্তুষ্ট করার উদ্দেশ্যে নানা ধরনের সুস্বাদু খাবার, ধূপকাঠি এবং নানাবিধ উপচার নিবেদন করা হয়। অনেক স্থানে কাগজের তৈরি প্রতীকী মুদ্রা ও জিনিসপত্র পুড়িয়ে দেওয়ার রীতি রয়েছে।

জাপানি সংস্কৃতির অত্যন্ত পরিচিত ওবোন উৎসবটি সাধারণত জুলাই কিংবা আগস্ট মাসের দিকে পালন করা হয়ে থাকে। স্থানীয় লোকবিশ্বাস অনুসারে, মৃত পূর্বপুরুষদের আত্মা এই নির্দিষ্ট সময়ে নিজেদের পরিবারের সদস্যদের কাছে ফিরে আসে। তাঁদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানোর জন্য গৃহকোণে বিভিন্ন ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়। পরবর্তীতে তাদের বিদায় জানানোর উদ্দেশ্যে নদী কিংবা সমুদ্রের জলে ছোট ছোট লণ্ঠন ভাসিয়ে দেওয়া হয়, যা স্থানীয়ভাবে 'তোরো নাগাসি' নামে পরিচিত।

আমাদের উপমহাদেশে বিশেষ করে ভারত ও বাংলাদেশের কোনো কোনো অঞ্চলে দীপাবলি বা কালীপূজার আগের সন্ধ্যায় ভূত চতুর্দশী পালিত হয়। সনাতন ধর্মাবলম্বী অনেক বাঙালি পরিবারে এই প্রথাটি বেশ জনপ্রিয়। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এই বিশেষ রাতে চৌদ্দ পুরুষের বিদেহী আত্মারা পৃথিবীতে নেমে আসেন। তাদের সঠিক পথ দেখানোর উদ্দেশ্যেই বাড়িতে চৌদ্দটি মাটির প্রদীপ প্রজ্বলন করা হয়। এছাড়া এই বিশেষ তিথিতে চৌদ্দ রকমের শাক খাওয়ার প্রাচীন নিয়ম রয়েছে।

মধ্য আমেরিকার মেক্সিকোতে অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে পালিত হয় দিয়া দে লস মুয়ের্তোস, যার সরল বাংলা অর্থ হলো 'মৃতদের দিবস'। প্রতি বছর নভেম্বর মাসের প্রথম দুই দিনে এই উৎসবটি মহাসমারোহে উদযাপিত হয়। এটি মূলত প্রিয়জনদের স্মরণ করার একটি আনন্দঘন উপলক্ষ, কোনো শোকের অনুষ্ঠান নয়। পরিবারের সকলে মিলে প্রয়াত স্বজনদের ছবি, তাদের পছন্দের খাদ্যসামগ্রী, উজ্জ্বল গাঁদা ফুল এবং খুলির আদলে তৈরি মিষ্টি দিয়ে বিশেষ বেদি সাজিয়ে তোলেন। 'ওফ্রেন্দা' নামে পরিচিত এই বেদিতে মৃত আত্মারা ফিরে আসেন বলে বিশ্বাস করা হয়।

ক্যারিবীয় অঞ্চলের হাইতিতে নভেম্বরের শুরুর দিকে ঐতিহ্যবাহী ফেত গেদে উৎসবের আয়োজন করা হয়। মৃতদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে আয়োজিত এই বর্ণিল উৎসবে সাধারণ মানুষ নানা ধরনের শোভাযাত্রা, গান ও নাচে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। অনেক অংশগ্রহণকারী নিজেদের মুখে সাদা পাউডার মেখে এবং কালো কিংবা বেগুনি রঙের পোশাক পরে অংশ নেন। ভুডু ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে জড়িত মৃত্যুর দেবতা ব্যারন সেমেদির উদ্দেশ্যেও নানা আচার-অনুষ্ঠান পালন করা হয়।

মূলত পৃথিবীর সব প্রান্তের মানুষের অবচেতন মনেই পরকাল, মৃত মানুষের আত্মা এবং অতিপ্রাকৃত বিষয় নিয়ে নানা ধরনের কৌতূহল ও সংস্কার কাজ করে। বছরের এই নির্দিষ্ট সময়ে হিমশীতল আবহাওয়া এবং রাতের দীর্ঘ সময় এই ধরণের চিন্তাভাবনাগুলোকে আরও বেশি প্রগাঢ় করে তোলে। এই কারণেই কেবল হ্যালোউইন নয়, বরং বৈচিত্র্যময় এই পৃথিবীতে যুগ যুগ ধরে নানা ভৌতিক উৎসবের প্রচলন বজায় রয়েছে।

সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
মুন্সিগঞ্জে অস্ত্র ও গুলিসহ সাদ্দাম মাঝি আটক

মুন্সিগঞ্জে অস্ত্র ও গুলিসহ সাদ্দাম মাঝি আটক