নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
ফ্লোরিডায় যৌন অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত জেফরি এপস্টিন ২০০৮ সালে অপ্রাপ্তবয়স্ক এক কিশোরীর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কের উদ্দেশ্যে অর্থ দেওয়ার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন। এই অপরাধের কারণে তাঁকে ১৩ মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হয়। পরবর্তী সময়ে ২০১৯ সালে তাঁর বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে যৌন পাচারের অভিযোগ আনা হলেও, বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগেই নিউইয়র্কের একটি কারাগারের নির্জন প্রকোষ্ঠে তাঁকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। কারা কর্তৃপক্ষের তদন্তে তাঁর মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও, মামলাটির সঙ্গে যুক্ত আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মীদের জোরালো ধারণা অনুযায়ী এপস্টিনের লালসার শিকার হয়েছিলেন কয়েক শ নারী ও কিশোরী।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনকে সম্পূর্ণ ‘মিথ্যা, বিদ্বেষপূর্ণ ও মানহানিকর’ বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই প্রেক্ষাপটে ২০২৫ সালের ১৮ জুলাই তিনি মিয়ামির ফেডারেল আদালতে সংবাদমাধ্যমটির বিরুদ্ধে একটি আইনি লড়াই শুরু করেন। দায়ের করা ওই মামলায় ট্রাম্প অভিযোগ তোলেন যে, অভিযুক্ত গণমাধ্যম ও এর সঙ্গে জড়িত সাংবাদিকেরা ‘জেনেশুনে এবং বেপরোয়াভাবে’ তাঁর সম্মানহানি করার উদ্দেশ্যে অসংখ্য অসত্য ও অবমাননাকর তথ্য জনসমক্ষে এনেছেন।
আইনি নথিপত্রে আরও দাবি করা হয় যে, ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের ওই সংবাদের কারণে ডোনাল্ড ট্রাম্পের আর্থিক খাত এবং সামাজিক সুনামের ক্ষেত্রে অপূরণীয় ও ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। আলোচিত এই মামলায় সংবাদমাধ্যমের পাশাপাশি ওই প্রতিবেদনের প্রস্তুতকারক দুই সাংবাদিককেও বিবাদী বা আসামি করা হয়েছিল।
এর পূর্বে চলতি বছরের এপ্রিল মাসের দিকে বিচারক গেইলস প্রথম দফায় মামলাটি খারিজ করে দিয়েছিলেন। সেই রায়ের সময় তিনি পর্যবেক্ষণ দেন যে, সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনটি যে প্রকৃত বিদ্বেষ বা শত্রুতা থেকেই প্রকাশ করা হয়েছিল, তা প্রমাণ করতে ট্রাম্পের আইনজীবীরা ব্যর্থ হয়েছেন। তবে সে সময় আদালতের পক্ষ থেকে ট্রাম্পকে একটি সংশোধিত অভিযোগপত্র দাখিল করার মাধ্যমে পুনরায় মামলাটি আদালতে তোলার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।
আদালতের সেই নির্দেশনার ধারাবাহিকতায় গত মে মাসে ডোনাল্ড ট্রাম্প পূর্বের সুযোগটি পুরোপুরি কাজে লাগিয়ে নতুন করে সংশোধিত মামলাটি আদালতে দাখিল করেন। তবে সর্বশেষ আইনি পদক্ষেপে সেই মামলাটিও স্থায়ীভাবে খারিজ করে দেওয়া হলো, যার ফলে আইনি লড়াইয়ে বড় ধরনের ধাক্কা খেলেন ট্রাম্প।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর