ঢাকা | বঙ্গাব্দ

মিরপুরে শ্রমিক আন্দোলনে নাশকতার ছক, গ্রেপ্তার ২৯

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Nov 1, 2026 ইং
মিরপুরে শ্রমিক আন্দোলনে নাশকতার ছক, গ্রেপ্তার ২৯ ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

রাজধানীর মিরপুর এলাকায় তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের চলমান বিক্ষোভের আড়ালে সহিংসতা ও নাশকতার কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার গুরুতর অভিযোগে মোট ঊনত্রিশ ব্যক্তিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গ্রেপ্তার করেছে। রোববার দুপুরের দিকে মিরপুরের বেশ কয়েকটি স্থান থেকে এই ব্যক্তিদের নিজেদের হেফাজতে নেওয়া হয়। প্রতিমাসে ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা বেতন নির্ধারণ করার সুনির্দিষ্ট দাবিতে এদিন এই এলাকায় শ্রমিকেরা পথে নেমে অবস্থান নেন এবং যানবাহন চলাচলে বাধা সৃষ্টি করেন।

তদন্তকারী সূত্রের দাবি অনুযায়ী, এই আন্দোলনের নেপথ্যে রাজনৈতিক যোগসাজশ রয়েছে। মিরপুরের সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস মোল্লার ভাগ্নে আলিফ মোল্লার সরাসরি নির্দেশনায় শতাধিক ব্যক্তিকে একত্র করে এই শ্রমিক অসন্তোষের মধ্যে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছিল। মূলত এই সুসংগঠিত দলটির মাধ্যমেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ এবং ভাঙচুরের মতো ধ্বংসাত্মক ঘটনা ঘটানো হয়।

গ্রেপ্তার হওয়া মোট ব্যক্তিদের মধ্যে এগারো জনকে গোয়েন্দা পুলিশের মিরপুর জোন আটক করেছে। বাকিদের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন থানা পুলিশ বিভিন্ন স্থান থেকে আটক করেছে। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে যে, শ্রমিকদের যৌক্তিক দাবির আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে নাশকতার ছক কষা হয়েছিল এবং এর সঙ্গে নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিলেছে।

গোয়েন্দা পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার মোহাম্মদ রাকিব খাঁন সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, আটককৃত সবাই সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস মোল্লার অনুসারী হিসেবে পরিচিত এবং এদের কয়েকজনের সুনির্দিষ্ট সাংগঠনিক পদ-পদবিও রয়েছে। তাঁর ভাষ্যমতে, আলিফ মোল্লার নেতৃত্বে শতাধিক ব্যক্তি শ্রমিকদের মিছিলে ঢুকে পড়ে এবং সুপরিকল্পিতভাবে গাড়িতে আগুন ও ভাঙচুর চালায়।

গোয়েন্দা সূত্রের আরও দাবি, এই চক্রটি ইন্টারনেটের বিভিন্ন অনলাইন গ্রুপের মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা করত এবং একত্রিত হতো। শ্রমিকদের এই আন্দোলনকে হাতিয়ার বানিয়ে বড় ধরনের কোনো নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ঘটানোর গোপন অভিসন্ধি ছিল তাদের।

বেতন বৃদ্ধির দাবিতে এদিন সকালের দিকে মিরপুর এলাকার বিভিন্ন সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন পোশাক শ্রমিকেরা। সকাল এগারোটা থেকে দুপুর একটা পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে শ্রমিকদের কয়েক দফা সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া চলতে থাকে। একপর্যায়ে মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে থাকা পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও উত্তেজনার জেরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়। এর ফলে দুপুর বারোটা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত মিরপুর-১০, মিরপুর-১১ এবং পল্লবী মেট্রোরেল স্টেশনে ট্রেন চলাচল ও যাত্রী প্রবেশ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।

অন্যদিকে, ঢাকার বাইরে গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে আরও নয়জনকে আটক করা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্যমতে, গাজীপুরের এই শ্রমিক আন্দোলনে উসকানি দেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দল ও তার অঙ্গসংগঠনের এই নয় নেতাকর্মীকে ভোরের দিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
মির্জা ফখরুলের ডিবি হেফাজতে থাকার দুঃসহ স্মৃতি জানালেন কন্যা

মির্জা ফখরুলের ডিবি হেফাজতে থাকার দুঃসহ স্মৃতি জানালেন কন্যা