নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
নগরীর গোমস্তাপাড়া এলাকার বাসিন্দা আবুল হোসেন সিটি করপোরেশন থেকে মার্কেটে মোট ছয়টি দোকান বরাদ্দ নিয়েছিলেন। কিন্তু চরম দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, তিনি সেখানে কোনো ধরনের ব্যবসা পরিচালনা করতে সক্ষম হননি। এমনকি তাঁর দোকানগুলোর কোনো ভাড়াও কেউ কখনো গ্রহণ করেনি। সামগ্রিকভাবে সেখানে ব্যবসার উপযোগী কোনো পরিবেশই বিদ্যমান নেই, বরং পুরো মার্কেটজুড়েই সব দোকানপাট সম্পূর্ণ বন্ধ পড়ে রয়েছে। আবুল হোসেন প্রশ্ন রেখে বলেন, সিটি করপোরেশনকে কীভাবে টাকা প্রদান করবেন, কারণ কেউ তো তাঁর কাছে কোনো টাকা দাবিও করেনি।
মার্কেটের সভাপতি মো. রিপন সিকদার জানিয়েছেন, অনেকেই দোকান বরাদ্দ গ্রহণ করে পরবর্তীতে দারুণভাবে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ নিজেদের পৈত্রিক বা ব্যক্তিগত জমিজমা বিক্রি করেও দোকান নিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে ব্যবসার উপযুক্ত পরিবেশ না থাকায় তাদের অনেকেই বাধ্য হয়ে ভিন্ন পেশায় বা অন্য কিছু করছেন। তিনি আরও জানান যে, বিগত মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা মার্কেটটিকে ছয়তলা বিশিষ্ট ভবনে রূপান্তর করার পাশাপাশি এর সামনের অংশ উন্মুক্ত রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলেন। এ বিষয়ে অতীতে প্রয়োজনীয় আলোচনা ও সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তবে দুর্ভাগ্যবশত তাঁর নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষ হওয়ার পর এই প্রকল্পের কাজ আর সামনে এগোয়নি।
এই সার্বিক বিষয় সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে যোগাযোগ করা হলে রংপুর সিটি করপোরেশনের (রসিক) প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা রুবেল রানা জানান, সম্প্রতি প্রশাসক মহোদয় মার্কেটটির সামগ্রিক পরিস্থিতি সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন। বৈধ প্রক্রিয়ায় দোকান বরাদ্দ প্রাপ্ত ব্যবসায়ী এবং সংশ্লিষ্ট মালিক সমিতির সঙ্গে বসে মার্কেটটি কীভাবে পুনরায় চালু করা সম্ভব, সে ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণের জোরালো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত ভাড়া পরিশোধ না করে যারা সম্পূর্ণ অবৈধভাবে দোকানগুলো দখল করে আছেন, তাদের অবিলম্বে দোকানগুলো ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে। পাশাপাশি, অব্যবহৃত হকার সেটের চারপাশের জায়গা পরিষ্কার করা এবং সেখানে ভবিষ্যতে কী ধরনের উন্নয়নমূলক কাজ করা যায়, সে বিষয়ে করপোরেশনের প্রকৌশল শাখা বর্তমানে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
রংপুরের প্রশাসক মাহফুজ উন নবী ডন এ প্রসঙ্গে সংক্ষিপ্ত অথচ গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করে বলেন যে, তিনি নিজে মার্কেটটি সশরীরে পরিদর্শন করেছেন এবং এটি পুনরায় সচল করতে বর্তমানে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে।
এদিকে, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর রংপুর মহানগর কমিটির সহসাধারণ সম্পাদক জাকির আহমদ মনে করেন, প্রধান সড়ক থেকে অবৈধ হকারদের উচ্ছেদ করার জন্য সিটি করপোরেশনের নেওয়া বর্তমান উদ্যোগটি অত্যন্ত প্রশংসনীয়। নগরীর সার্বিক স্বার্থে সাধারণ নগরবাসীকেও এই ইতিবাচক উদ্যোগে পূর্ণ সমর্থন প্রদান করা উচিত, যেন কোনোভাবেই পুনরায় সড়কে হকাররা বসতে না পারে। হকারদের নির্দিষ্ট নেতাদের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে যদি তাদের এই বন্ধ মার্কেটে পুনর্বাসন বা স্থানান্তর করা সম্ভব হয়, তবে একদিকে যেমন তাদের জন্য নতুন ব্যবসার সুযোগ সৃষ্টি হবে, অন্যদিকে পুরো নগরীও থাকবে সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর