ঢাকা | বঙ্গাব্দ

ব্যাংক খাত বাঁচাতে ৫ বছরে লাগবে ৩ লাখ কোটি টাকা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Nov 2, 2026 ইং
ব্যাংক খাত বাঁচাতে ৫ বছরে লাগবে ৩ লাখ কোটি টাকা ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কর্মকর্তা প্রকাশ করেছেন যে, দেশের ব্যাংকিং খাতের বর্তমান ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার জন্য আসন্ন পাঁচ থেকে আট বছর ধরে প্রতি বছর জাতীয় তহবিল থেকে ৬০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া প্রয়োজন। তিনি কোনো রাখঢাক না রেখেই স্বীকার করেন যে, দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি দেখতে পেয়েছেন ব্যাংকগুলোর প্রায় এক তৃতীয়াংশ অর্থ কতিপয় ব্যক্তি চুরি করে নিয়ে গেছেন। তাঁর মতে, এটিকে কেবল মামুলি চুরি না বলে সরাসরি লুটপাট বলাই অধিক যুক্তিযুক্ত। মূলত ব্যাংক থেকে এই অর্থ লোপাট হওয়ার মধ্য দিয়েই আর্থিক খাতের অবনতির সূত্রপাত ঘটে, যাকে তিনি এই খাতের অন্যতম প্রধান সংকট হিসেবে সঠিকভাবে চিহ্নিত করেছেন।

আমাদের ব্যাংকগুলোতে যে বিশ্বরেকর্ড সৃষ্টিকারী খেলাপি ঋণ রয়েছে, তার পর্দার অন্তরালে যে বিশাল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে, এই সত্য প্রকাশ করে গভর্নর প্রকৃত অভিভাবকসুলভ দায়িত্ব পালন করেছেন। কারণ, ব্যাংক থেকে চুরি হওয়া বা লুট হওয়া অর্থকে কোনোভাবেই খেলাপি ঋণের ছদ্মবেশে লুকিয়ে রাখা যায় না। এই ধরনের লুটতরাজ সংঘটিত হয়েছে ব্যাংকিং খাতের যাবতীয় নিয়মকানুনের চরম লঙ্ঘন ঘটিয়ে এবং সম্পূর্ণ বেনামি কিংবা অস্তিত্বহীন গ্রাহকদের অনুকূলে ঋণ বিতরণের মাধ্যমে। আবার ব্যাংকের পক্ষ থেকে অবহেলা এবং দুর্বল ঋণ প্রদানের নীতিমালার কারণেও খেলাপির ভেতর সিঁধ কাটার মতো চুরির ঘটনাও রয়েছে।

এর ফলে ঋণের আড়ালে অর্থ লোপাট, চুরি, বেনামি ঋণ এবং সর্বোপরি ইচ্ছাকৃত ও অনিচ্ছাকৃত খেলাপি সব মিলিয়ে বর্তমানে আমাদের ব্যাংকিং খাতের আনুষ্ঠানিক খেলাপি ঋণের অনুপাত প্রায় ৩৩ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছে। বিশ্বজুড়ে এটিই বর্তমানে সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণের হার হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে, যেখানে তালিকার দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে আফ্রিকার চাদ ও নিরক্ষীয় গিনি। অবশ্য বাংলাদেশের এই পরিসংখ্যান প্রকৃত বাস্তবতার সঠিক চিত্র তুলে ধরে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়ে গেছে। কারণ দেশের প্রতিটি ব্যাংক যে ঋণ শ্রেণীকরণের সমস্ত মাপকাঠি যথাযথভাবে মেনে চলে, সে কথা অত্যন্ত জোর দিয়ে বলা সম্ভব নয়।

এ প্রসঙ্গে দ্বিতীয় আরেকটি প্রশ্ন অত্যন্ত জোরালোভাবে সামনে চলে আসে যে, প্রতি বছর রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যে ৬০ হাজার কোটি টাকা প্রদান করার কথা বলা হচ্ছে, তা ঠিক কোন শর্তের অধীনে দেওয়া হবে এবং সেই অর্থ পুনরুদ্ধারের সুনির্দিষ্ট কী ধরনের কৌশল বা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অতীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংকটাপন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য সে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ যে আর্থিক সহায়তা দিয়েছিল, তার একটি অংশ বাদে জেপি মর্গান চেজ, ওয়েলস ফারগো, ব্যাংক অব আমেরিকা ও সিটিকর্পের মতো বৃহৎ ব্যাংকগুলো অর্জিত সুদ ও লভ্যাংশসহ পুরো অর্থই রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দিয়েছিল।

ঋণের নামে অর্থ লোপাটের বিষয়টি কেবল স্বীকার করেই গভর্নর নিজের দায়িত্ব শেষ করে দেননি, বরং ব্যাংকিং খাতের এই গভীর ক্ষত সারাতে আগামী পাঁচ থেকে আট বছর ধরে জাতীয় বাজেট থেকে প্রতি বছর ৬০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের একটি খসড়া প্রস্তাব তিনি সরকারের বিবেচনার জন্য পেশ করেছেন। এর পাশাপাশি তিনি একটি অত্যন্ত অপ্রিয় সত্য কথাও উচ্চারণ করেছেন যে, যেসব অর্থ বেহাত হয়েছে, তার পুরোটাই এ দেশের সাধারণ জনগণের কষ্টার্জিত অর্থ। ফলশ্রুতিতে আজ সেই সাধারণ জনগণকেই আবার ওই অর্থের ক্ষতিপূরণ দিতে হচ্ছে। অর্থ লুটপাট করে নিয়ে গেছে গুটিকয়েক ব্যক্তি, অথচ তার জরিমানা গুনতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। এই সত্য কথাটি সাহসিকতার সঙ্গে জনসমক্ষে তুলে ধরার জন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানানো উচিত।

সরকারের নিকট জমাকৃত খসড়া হিসাব-নিকাশ অনুযায়ী, ব্যাংকিং খাতকে পুনরায় সচল করতে যদি টানা পাঁচ বছর ধরে বাজেট থেকে টাকা বরাদ্দ দিতে হয়, তবে তার মোটের পরিমাণ গিয়ে দাঁড়াবে ৩ লাখ কোটি টাকায়। আর যদি এই প্রক্রিয়াটি আট বছর ধরে অব্যাহত রাখতে হয়, তবে সর্বমোট অর্থের পরিমাণ পৌঁছে যাবে ৪ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকায়। এখানে আমাদের সামনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান অবশ্যই বিবেচনায় রাখতে হবে। যেমন—২০২৫-২৬ অর্থবছরে আমাদের মোট বার্ষিক রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ ছিল প্রায় ৪ লাখ কোটি টাকার কাছাকাছি। অথচ সর্বশেষ ঘোষিত বাজেটে রাজস্ব সংগ্রহের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে তা হলো ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা এবং সেখানে সম্ভাব্য বাজেট ঘাটতির পরিমাণ ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা।

আমাদের জাতীয় আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের এই টানাটানির বাজেট থেকে প্রতি বছর ৬০ হাজার কোটি টাকার বিশাল অংক কীভাবে জোগান দেওয়া হবে এবং তা প্রদান করতে গিয়ে রাষ্ট্রীয় ব্যয়ের কোন কোন গুরুত্বপূর্ণ খাতে টান পড়বে, সেই দীর্ঘ তত্ত্বে না গিয়েও প্রথমেই এটি স্বীকার করে নেওয়া ভালো যে, এ ছাড়া ব্যাংকিং খাতকে খাদের কিনারা থেকে ফিরিয়ে আনার অন্য কোনো বিকল্প পথ খোলা নেই। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সাবপ্রাইম সংকটের ধাক্কায় মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হওয়া তাদের দেশের আর্থিক খাতকে পুনরুজ্জীবিত করতে সে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ ৪৭ হাজার ৫০০ কোটি ডলার আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছিল। যদিও আমেরিকার সেসময়ের সার্বিক পরিস্থিতি ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট এবং বাংলাদেশের বর্তমান উদ্ভূত পরিস্থিতির উৎসের মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাত রয়েছে।

আমেরিকান ব্যাংকগুলো গভীর বিপদের মুখে পড়েছিল মূলত তাদের অতিরিক্ত লোভের কারণে, যেখানে আমাদের দেশের মতো এমন নির্বিচার ও ঢালাও লুটপাটের ঘটনা ঘটেনি। ২০০৭ সালের শেষভাগে এসে দেশের আবাসন খাতকে চাঙ্গা করে তোলা এবং আসন্ন অর্থনৈতিক মন্দার পরিস্থিতি মোকাবিলা করার উদ্দেশ্যে ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার কমাতে শুরু করলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ঋণ গ্রহণের প্রবণতা বহুগুণ বেড়ে যায়, বিশেষ করে খুব সহজ শর্তে বাড়ি ক্রয়ের জন্য ঋণ পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায়। ব্যাংকগুলো তখন এমন অনেক গ্রাহককে আবাসন ঋণ প্রদান করেছিল, যাদের সেই ঋণ পরিশোধ বা পাওয়ার ন্যূনতম কোনো যোগ্যতাই ছিল না। অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এই ঋণসমূহ পরবর্তীতে ‘সাবপ্রাইম মর্টগেজ’ নামে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি লাভ করে।

ঋণের সঙ্গে জড়িত এই অন্তর্নিহিত ঝুঁকি কমানোর উদ্দেশ্যে ব্যাংকগুলো আবার এই সমস্ত ঋণকে একত্রিত করে সম্পূর্ণ নতুন এক আর্থিক পণ্য বা প্রোডাক্ট হিসেবে বিভিন্ন বিনিয়োগকারী ও ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের কাছে পাইকারি দরে বিক্রি করে দিয়েছিল। এই সমস্ত ঋণ পোর্টফোলিওকে পরবর্তীতে আরও ছোট ছোট টুকরায় বিভক্ত করে অত্যন্ত আকর্ষণীয় ও মনভোলানো বাহারি নামে সাধারণ শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করার প্রক্রিয়া চলতে থাকে। এগুলো দেখতে অনেকটা মিউচুয়াল ফান্ডের মতোই কাজ করছিল। কিন্তু স্বল্প সুদের সেই সোনালি দিন খুব বেশি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। একপর্যায়ে সুদের হার বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হোম লোনের মাসিক কিস্তির পরিমাণও বহুগুণ বেড়ে গেল, যার ফলে স্বাভাবিকভাবেই ঋণ খেলাপি হওয়ার প্রবণতা বাড়তে শুরু করল।

খেলাপি হয়ে যাওয়া ঋণগুলো পুনরুদ্ধারের উপায় হিসেবে ব্যাংকগুলো তখন তাদের কাছে বন্ধক রাখা বাড়িগুলো একে একে বিক্রি করে দেওয়া শুরু করলে আবাসন বাজারে বড় ধরনের ধস নামে। এমনকি বাড়ি বিক্রি করার পরও ঋণের পুরো পাওনা টাকা আদায় হচ্ছিল না। একপর্যায়ে পুরো আবাসন বাজারটি সম্পূর্ণ ক্রেতাশূন্য হয়ে পড়ে। এর ফলশ্রুতিতে বিপুল পরিমাণ খেলাপি ঋণের বোঝা এবং শেয়ার বাজারের ভয়াবহ পতনের জেরে বিশ্বের বাঘা বাঘা সব বিনিয়োগ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান দেউলিয়া হয়ে যায়। কেবল ২০০৮ সাল জুড়েই ২৫টিরও বেশি মার্কিন ব্যাংক দেউলিয়া ঘোষিত হয় এবং এর ফলে গোটা আর্থিক ব্যবস্থার ভেতরে চরম তারল্য সংকট এবং গভীর অবিশ্বাসের বাতাবরণ তৈরি হয়।

অথচ বাংলাদেশের ব্যাংক খাতের অভ্যন্তরে কখনোই এ ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি। এখানে মূলত কিছু সংখ্যক ব্যাংক পরিচালক এবং প্রভাবশালী বড় ঋণগ্রহীতাদের পারস্পরিক যোগসাজশে ঋণের নামে অর্থ লুণ্ঠন এবং বেনামি ঋণ বিতরণের এক মহোৎসব চলেছে। ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংকগুলোর সার্বিক অবস্থা এবং সেগুলোকে সংকট থেকে উত্তরণের জন্য সে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নেওয়া উদ্যোগের সঙ্গে বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তব পরিস্থিতির বিন্দুমাত্র মিল খুঁজে পাওয়া যায় না। তা সত্ত্বেও এটি স্পষ্টভাবেই বলা যায় যে, আমাদের ব্যাংকগুলোকে রক্ষা করার জন্য আমেরিকার মতো একটি ‘বেইল আউট’ বা উদ্ধারমূলক পরিকল্পনা গ্রহণ করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প খোলা ছিল না।

তবে একই সঙ্গে অত্যন্ত জরুরি ভিত্তিতে একটি গুরুতর বিষয়ের স্থায়ী সমাধান করা উচিত। প্রথমত, আমরা যদি কোনো ঋণকে সরাসরি লুটপাটের সঙ্গে তুলনা করি, তবে সেটিকে সাধারণ ঋণের আড়ালে লুকিয়ে রাখার কোনো রূপ সুযোগ থাকতে পারে না। দ্বিতীয়ত, ব্যাংক থেকে অর্থ লুটপাট করা একটি সুস্পষ্ট ফৌজদারি অপরাধ।

সেই কারণে ঋণের নামে লোপাটকৃত অর্থ কিংবা সরাসরি লুণ্ঠিত অর্থ এবং বেনামি ঋণ হিসেবে প্রমাণিত হিসাবগুলোকে সাধারণ ও প্রকৃত খেলাপি হিসাব থেকে সম্পূর্ণ আলাদা করে ফেলতে হবে। প্রথমোক্ত এই দুই ক্যাটাগরির ঋণকে সাধারণ ঋণ না ধরে জালিয়াতি বা তছরুপ হিসেবে বিবেচনা করে ব্যাংকের মূল ব্যালান্স শিটের ভেতরে ‘প্রটেস্টেড বিল’ হিসেবে আলাদা করে সরিয়ে নেওয়া যেতে পারে, যা সাধারণত ব্যাংকের যেকোনো ধরনের জালিয়াতির ক্ষেত্রে নিয়ম অনুযায়ী করা হয়ে থাকে। এরপর এই সমস্ত লুণ্ঠন ও বেনামি ঋণের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ও কার্যকর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

এই নির্দিষ্ট পন্থার মাধ্যমে যতদূর সম্ভব লুণ্ঠিত অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফিরিয়ে আনতে হবে। আর বাকি অংশটুকু ধীরে ধীরে নিয়মানুযায়ী অবলোপন বা অবহেলা দূর করতে হবে। ঋণের নামে জনগণের অর্থ লুটপাটকারীদের বিরুদ্ধে ন্যূনতম কোনো আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ না করে সাধারণ মানুষের করের টাকায় ব্যাংকগুলোকে রক্ষা করার এই উদ্যোগ সম্পূর্ণভাবে সামাজিক ন্যায়বিচারের পরিপন্থী একটি কাজ হবে। এই সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে যদি প্রকৃত খেলাপি ঋণের হিসাব থেকে লুণ্ঠিত ও বেনামি ঋণগুলোকে আলাদা করা সম্ভব হয়, তবে কোনো ধরনের কারচুপি ছাড়াই আমাদের খেলাপি ঋণের পরিমাণ এবং হার দুটোই উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।

সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
ঠাকুরগাঁওয়ে এইচএসসি পরীক্ষায় ৯ প্রতিষ্ঠানে শূন্য পাস

ঠাকুরগাঁওয়ে এইচএসসি পরীক্ষায় ৯ প্রতিষ্ঠানে শূন্য পাস