নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
চলতি বছরে হাম রোগ এবং এর উপসর্গজনিত বিভিন্ন জটিলতার কারণে প্রাণহানির ঘটনা বেশ উদ্বেজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। স্বাস্থ্যসংক্রান্ত পরিসংখ্যানে প্রকাশ পেয়েছে যে, নির্দিষ্ট এই সময়সীমার মধ্যে হামের প্রাথমিক উপসর্গ ও লক্ষণ নিয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন ঠিক ১ হাজার ১৫২ জন সংবেদনশীল রোগী।
অন্যদিকে, ল্যাবরেটরি পরীক্ষা ও চিকিৎসকদের পর্যালোচনায় সুনির্দিষ্টভাবে হামে আক্রান্ত নিশ্চিত হওয়ার পর মারা গেছেন আরও ১০৫ জন সংক্রামিত ব্যক্তি। উপসর্গজনিত ও নিশ্চিত মৃত্যুর এই দুটি ভিন্ন পরিসংখ্যান যোগ করলে বর্তমান বছরজুড়ে হাম সংশ্লিষ্ট কারণে মোট প্রাণহানির সংখ্যা পৌঁছেছে ১ হাজার ২৫৭ জনে।
দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় অঞ্চলের প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এই মারাত্মক রোগের প্রাদুর্ভাব ও এর উপসর্গ সবচেয়ে বেশি প্রাণ কেড়ে নিয়েছে রাজধানী ঢাকা বিভাগে। জনবহুল এই বিভাগটিতে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত মানুষের সংখ্যা ৫১২ জনে গিয়ে ঠেকেছে।
ঢাকার পরেই মৃত্যুর দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সিলেট বিভাগ, যেখানে বিভিন্ন বয়সের ২০৩ জন মানুষ মৃত্যুবরণ করেছেন। বন্দরনগরী ও পাহাড়ি এলাকা নিয়ে গঠিত চট্টগ্রাম বিভাগে এই সংখ্যাটি ১১২ জনে দাঁড়িয়েছে।
এছাড়া উত্তরবঙ্গের রাজশাহী বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন মোট ৯৩ জন সংক্রামিত রোগী। ময়মনসিংহ অঞ্চলে এই মৃত্যুর সংখ্যাটি কিছুটা কমে ৮৯ জনে এসে ঠেকেছে এবং দক্ষিণাঞ্চলের বরিশাল বিভাগে মারা গেছেন ৬৯ জন।
তুলনামূলকভাবে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খুলনা বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর পরিমাণ কিছুটা কম, যেখানে মারা গেছে ৫৬ জন ব্যক্তি। সবচেয়ে কম প্রাণহানির ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে উত্তর জনপদের রংপুর বিভাগে, যেখানকার পরিসংখ্যানে মাত্র ১৮ জনের মৃত্যুর তথ্য উঠে এসেছে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর