ঢাকা | বঙ্গাব্দ

বার্সেলোনা তারকার চমৎকার নামের পেছনের আসল রহস্য

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Nov 3, 2026 ইং
বার্সেলোনা তারকার চমৎকার নামের পেছনের আসল রহস্য ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

ম্যাচ বর্ণনাকারীদের নিজস্ব কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম ও ভঙ্গি রয়েছে। এমন কিছু খেলোয়াড়ের নাম রয়েছে যা এককভাবে উচ্চারণ করলে শ্রোতাদের কাছে কিছুটা অপূর্ণাঙ্গ বা অসম্পূর্ণ মনে হয়। বর্ণনাকারীদের স্বস্তির জন্য ওই সমস্ত নামের সঙ্গে অতিরিক্ত অংশ যুক্ত করা আবশ্যক হয়ে দাঁড়ায়।

ইংল্যান্ডের ঘরোয়া টুর্নামেন্টে এমন উপাধিউক্ত খেলোয়াড়ের কোনো ঘাটতি নেই। বিভিন্ন সময় মাইক্রোফোনে এই নামগুলো একত্রে উচ্চারিত হতে দেখা যায়। কেবল মার্চ নয়, সলি মার্চ। কেবল জেমস নয়, রিস জেমস। এই সংযোগগুলো দেখে মনে হয় যেন এগুলো শুধু পদবি নয়, বরং দুটি ভিন্ন নামের এক অবিচ্ছেদ্য বন্ধন।

এই বিশেষ নামের তালিকাটিতে অতি সম্প্রতি নতুন একজন যুক্ত হতে পারেন। তিনি হলেন বার্সেলোনার উদীয়মান প্রতিভা। এই নামকরণের পেছনের কারণটি অত্যন্ত চমৎকার।

কাতালুনিয়ার ক্লাবের এই অপ্রাপ্তবয়স্ক ফুটবলার অন্য সাধারণ ক্রীড়াবিদদের মতো নন। বয়ঃসন্ধি পার হওয়ার আগেই তিনি ব্যালন ডি’অরের সেরা তিনের তালিকায় দুবার নিজেদের স্থান পাকা করেছেন। ঝুলিতে পুরেছেন একাধিক ঘরোয়া লিগের ট্রফি। জাতীয় দলের জার্সিতে অর্জন করেছেন বৈশ্বিক ও মহাদেশীয় টুর্নামেন্টের সাফল্য। বর্তমান সময়ের এই ক্ষণজন্মা ফুটবলারকে যদি অন্য তারকারা নিজেদের মতো করে ডাকতে চান, তবে অবাক হওয়ার কিছু নেই।

তবে এক্ষেত্রে একটি বাস্তবসম্মত জটিলতাও রয়ে গেছে। ম্যাচ বর্ণনাকারীরা এখনো পুরোপুরি অভ্যস্ত হয়ে উঠতে পারেননি। কখনো শুধু উপাধি আবার কখনো শুধু প্রথম অংশ উচ্চারণ করে তারা কোনোমতে কাজ চালিয়ে নিচ্ছেন। রক্ষণভাগ ভেদ করে বল পায়ে তাঁর সেই দুর্দান্ত গতিতে এগিয়ে যাওয়ার সময় নামের অবশিষ্ট অংশটি হারিয়ে যায়। গতির সঙ্গে তাল মেলাতে গিয়ে ধারাভাষ্যকারদের পক্ষে পুরোটা উচ্চারণ করা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।

অবশ্য এই উদীয়মান তারকার নামকরণের পেছনের মূল রহস্যটি জানা থাকলে বর্ণনাকারীদের আর বেশি দিন বিভ্রান্তিতে থাকতে হবে না। এতদিন পর্যন্ত সাধারণ মানুষের ধারণা ছিল প্রথমোক্ত অংশটিই এই তারকার সম্পূর্ণ নাম। কিন্তু প্রকৃত সত্যটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। সম্প্রতি গণমাধ্যমের সামনে এই বিষয়টি পুনরায় স্পষ্ট করেছেন তাঁর পিতা মুনির নাসরাউই। ডিজিটাল মাধ্যমে প্রচারিত এক লাইভ অনুষ্ঠানে তিনি পরিষ্কার করে জানিয়েছেন যে দ্বিতীয় অংশটি তাঁর ছেলের কোনো পারিবারিক উপাধি নয়।

পিতা মুনির নাসরাউই আরও বলেন, সকলের উদ্দেশ্যে তিনি একটি বিষয় পরিষ্কার করতে চান। প্রথম দুটি অংশ মিলিয়েই তাঁর সন্তানের নাম রাখা হয়েছে।

পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে শেষাংশটি কোনো সাধারণ পদবি নয়। ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ীদের কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে যাতে এই বিষয়টি নিয়ে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি না ছড়ায়। ঠিক এই কারণেই তিনি নিজেই সব সময় ছেলেকে এই বিশেষ নামে সম্বোধন করেন।

গত বছর ইউরোপীয় টুর্নামেন্টে সাফল্যের সময় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম থেকেও জানানো হয়েছিল যে এই তারকার নামের সঙ্গে মাতা ও পিতার বংশের পদবি সংযুক্ত রয়েছে। অর্থাৎ তাঁর সম্পূর্ণ পরিচয় হলো অত্যন্ত দীর্ঘ একটি নামের সমাহার। এত দীর্ঘ নাম হওয়ায় ধারাভাষ্যকারদের আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে হয়। বল নিয়ে প্রতিপক্ষের সীমানায় পৌঁছানোর আগেই পুরো নাম শেষ করা সম্ভব হবে কি না, সেটাই এখন প্রধান পরীক্ষা।

কিন্তু এই দুটি বিশেষ নাম কীভাবে এল? তার পেছনেও রয়েছে এক মনোরম ইতিহাস। ওই তারকার জন্ম নেওয়ার পূর্বে তাঁর মাতা-পিতা বিশেষ এক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছিলেন তাঁদের দুই ঘনিষ্ঠ বন্ধুর কাছে। সেই দুই শুভানুধ্যায়ীর একজনের নাম ছিল প্রথম অংশটির মতো এবং অন্যজনের নাম ছিল দ্বিতীয় অংশটির মতো। ভাষাগত অর্থে প্রথম শব্দটির অর্থ বিশ্বস্ততা এবং দ্বিতীয় শব্দটির অর্থ সৌন্দর্য।

সে সময় চরম অর্থনৈতিক অনটনের মধ্য দিয়ে যাওয়া পিতা-মাতাকে বিশেষভাবে সহযোগিতা করেছিলেন সেই দুই বন্ধু। অত্যন্ত দুর্দিনে তাঁরা নিঃস্বার্থভাবে পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন। সেই গভীর কৃতজ্ঞতাবোধ থেকেই জন্ম নেয় বন্ধুত্বের এক অনন্য স্মারক। তাঁরা সিদ্ধান্ত নেন যে ভবিষ্যতে কখনো পুত্রসন্তান লাভ করলে সেই দুই বন্ধুর নামানুসারে নাম রাখা হবে।

দম্পতি তাঁদের সেই প্রতিশ্রুতি অক্ষরে অক্ষরে রক্ষা করেছিলেন। জন্ম নিলেন চার অংশের দীর্ঘ নামধারী সেই প্রতিভাবান কিশোর। বর্তমানের এই তরুণ যখন মাঠে বল নিয়ে কারিকুমা দেখান, তখন সবুজ গালিচার সৌন্দর্য এক নতুন মাত্রা লাভ করে। আর তাঁর সেই নামের ভেতরেই লুকিয়ে রয়েছে পুরনো দিনের এক কৃতজ্ঞতা ও বন্ধুত্বের অপূর্ব গল্প।

সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
কালিয়াকৈরে ব্যাংক কর্মকর্তার পাঁচ লাখ টাকা ছিনতাই

কালিয়াকৈরে ব্যাংক কর্মকর্তার পাঁচ লাখ টাকা ছিনতাই