নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
সোমবার সকাল সাতটার টার্নিং পয়েন্টে রাজধানী ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন ব্যাংক কর্মকর্তা বাহাউদ্দিন। তিনি তখন অবস্থান করছিলেন ভাঙ্গা উপজেলার দক্ষিণপাড় বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এবং গন্তব্যে পৌঁছানোর বাহন খুঁজছিলেন।
ঠিক ওই মুহূর্তে একটি সন্দেহভাজন প্রাইভেট কার তাঁর সামনে এসে থামে। গাড়িটির চালক তাঁকে ঢাকায় পৌঁছে দেওয়ার চমৎকার প্রস্তাব দিলে, ভেতরের সিটে বসা আরও তিন ব্যক্তিকে সাধারণ যাত্রী হিসেবে ভেবে তিনি কোনো দ্বিধা ছাড়াই ভেতরে গিয়ে বসেন।
কিন্তু গাড়ির দরজা বন্ধ হওয়ার মাত্র দুই মিনিটের মধ্যে পরিস্থিতি মোড় নেয় বিপদের দিকে। ওঁৎ পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা আকস্মিকভাবে তাঁর মুখ শক্ত করে বেঁধে ফেলে এবং বেপরোয়াভাবে শারীরিক নির্যাতন চালাতে শুরু করে।
অপহরণকারীরা নৃশংসতার মাত্রা বাড়িয়ে তাঁকে হাতুড়ি দিয়ে উপর্যুপরি পেটায় এবং ধারালো অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করে। এই অবরুদ্ধ পরিস্থিতিতে তারা তাঁর মুঠোফোন ব্যবহার করে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং এক লাখ টাকা মুক্তিপণ হিসেবে দাবি করে।
পরিবারের পক্ষ থেকে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস বিকাশের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত ওই টাকা পরিশোধ করার সঙ্গে সঙ্গেই অপরাধীরা তাদের নিষ্ঠুরতা প্রদর্শন করে। তারা গুরুতর জখম ও রক্তাক্ত অবস্থায় বাহাউদ্দিনকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের কিনারায় ফেলে রেখে দ্রুত গাড়ি চালিয়ে পালিয়ে যায়।
পরবর্তীতে ওই মহাসড়কের পাশ দিয়ে যাওয়া সচেতন ও স্থানীয় লোকজন তাঁকে অচেতন ও আহত অবস্থায় দেখতে পান। তাঁরা দ্রুত এগিয়ে এসে তাঁকে উদ্ধার করেন এবং চিকিৎসার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করান।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর