নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে সহকর্মীর ছুরিকাঘাতে মর্মান্তিক মৃত্যুর শিকার হয়েছেন পুলক নাথ নামের এক প্রবাসী বাংলাদেশি যুবক। তুচ্ছ একটি আর্থিক বিরোধকে কেন্দ্র করে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটেছে বলে জানা গেছে। নিহত পুলক তাঁর পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন। ঘটনার পর থেকে শোকে স্তব্ধ ও অথর্ব হয়ে পড়েছে তাঁর পুরো পরিবার।
নিহতের ছোট ভাই অলক নাথ জানিয়েছেন, তাঁর ভাইয়ের সঙ্গে একটি ঘরে এক মিসরীয় নাগরিক বসবাস করতেন। সেই রুমমেট বিভিন্ন সময়ে পুলকের কাছে ২০ দিরহাম অর্থ দাবি করেছিলেন। কিন্তু সেই টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানো বা প্রদানে ব্যর্থ হওয়ার ক্ষোভে পুলকের বুকে সরাসরি ছুরিকাঘাত করা হয়। গুরুতর জখম অবস্থায় দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় পুলকের জীবন প্রদীপ নিভে যায়।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে বিলাপ করতে করতে নিহতের মা রানী বালা দেবী জানান, তাঁদের পরিবারে পুলকই ছিলেন একমাত্র আয়ের চালিকাশক্তি। তাঁর ছোট আরেকটি ছেলে শারীরিক প্রতিবন্ধী। এমন পরিস্থিতিতে পরিবারের পুরো দায়িত্ব একা কাঁধে নিয়েছিলেন পুলক। এখন উপার্জনের একমাত্র অবলম্বন হারিয়ে পরিবারটি চরম অনিশ্চয়তা ও দুশ্চিন্তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
হতভাগ্য এই যুবকের বোন চুমকি দেবী জানান, সব ঠিকঠাক থাকলে আগামী শুক্রবার, অর্থাৎ ৬ নভেম্বর তাঁর নিজ দেশে ফিরে আসার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই এমন একটি হৃদয়বিদারক ঘটনার বলি হতে হবে ভাইটিকে, তা তাঁরা পরিবারের কেউ কোনো দিন কল্পনাও করতে পারেননি। এই আকস্মিক আঘাতে তাঁদের পরিবারের সব স্বপ্ন চিরতরে ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে।
এদিকে শোকার্ত মা রানী বালা দেবী তাঁর আদরের সন্তানের হত্যাকাণ্ডের তীব্র বিচার দাবি করেছেন। পাশাপাশি, তাঁর ছেলের মরদেহ দ্রুততম সময়ে নিজ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে যথাযথ সহায়তার জন্য সরকারের কাছে আন্তরিক অনুরোধ জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক মন্তব্য করেছেন যে, কূটনৈতিক মিশন বা দূতাবাসের মাধ্যমে প্রবাসীর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে যদি আইনগত বা পুলিশের কোনো ধরনের সহযোগিতার প্রয়োজন দেখা দেয়, তবে তা নিশ্চিত করা হবে বলে তিনি জানান।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর