নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার একটি পল্লি এলাকায় আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডে ১৩টি বসতঘর সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়েছে। সোমবার রাতের এই সর্বগ্রাসী আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষগুলো তাদের সবকিছু হারিয়ে একেবারে শূন্যহাতে এসে দাঁড়িয়েছেন।
আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত এই পরিবারগুলোর সদস্যরা মূলত হতদরিদ্র কৃষক ও জেলের পেশার সঙ্গে যুক্ত। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কোনো প্রাণহানি বা হতাহতের মতো অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটেনি।
উপজেলার সরমঙ্গল ইউনিয়নের জারলিয়া গ্রামে এই দুর্ঘটনা ঘটে সোমবার রাতে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই দিন রাত আটটার দিকে গ্রামটিতে হঠাৎ করেই আগুনের শিখা দেখতে পান এলাকাবাসী।
দীর্ঘ প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে স্থানীয় সাধারণ মানুষের সম্মিলিত ও নিরলস প্রচেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। ততক্ষণে অবশ্য ১৩টি বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা রমা কান্ত দাস জানান, জারলিয়া গ্রামের বসতবাড়িগুলো একে অপরের অত্যন্ত কাছাকাছি ও লাগানো অবস্থায় নির্মিত।
রাত আটটার দিকে একটিমাত্র ঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে এবং মুহূর্তের মধ্যে তা আশপাশের অন্যান্য বসতঘরে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
গ্রামবাসী আপ্রাণ চেষ্টা চালালেও শেষরক্ষা করতে পারেননি। আসবাবপত্র ও পরিধেয় কাপড়ের পাশাপাশি অনেকের ঘরে থাকা ধানও পুড়ে গেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত ঘরগুলোর ওপর দিয়ে পল্লী বিদ্যুতের লাইন রয়েছে বলে জানান রমা কান্ত দাস। তবে ঠিক কী কারণে বা কীভাবে এই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
গ্রামের অপর এক বাসিন্দা এবং পেশায় জেলে ধীরেন্দ্র দাস তাদের চরম দুর্দিনের কথা তুলে ধরে আবেগঘন মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, তারা অত্যন্ত দরিদ্র শ্রেণির মানুষ এবং হাওরে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। কোনোমতে খেয়ে না খেয়ে দিনাতিপাত করতে হয় তাদের।
ধীরেন্দ্র দাস আরও জানান, রাতের আগুনে তাদের ঘরদুয়ার সব পুড়ে গেছে এবং পর্যাপ্ত সাহায্য না পেলে তারা নিজেরা আর ঘরবাড়ি নির্মাণ করতে পারবেন না।
এই সর্বস্বান্ত পরিবারগুলোর অধিকাংশই অত্যন্ত মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাদের কেউ পেশায় জেলে আবার কেউ কৃষিকাজ করেন।
দুর্ঘটনার পর পরই ক্ষতিগ্রস্ত এসব পরিবারের সার্বিক খোঁজখবর নেওয়া শুরু করেছেন সরমঙ্গল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন।
এদিকে খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সনজীব সরকার রাতেই সরেজমিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
ইউএনও জানান, অগ্নিকাণ্ডে মোট কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়েছে, বর্তমানে তার সঠিক নিরূপণ কাজ চলছে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারকে প্রয়োজনীয় সরকারি সহযোগিতা প্রদান করারও সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো হবে।
সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর