ঢাকা | বঙ্গাব্দ

সাফ শুরুর দুদিন বাকি, ৭৫% টিকিট এখনো অবিক্রীত

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Nov 3, 2026 ইং
সাফ শুরুর দুদিন বাকি, ৭৫% টিকিট এখনো অবিক্রীত ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

মাঠ পুরোপুরি প্রস্তুত হয়ে গেছে এবং বিভিন্ন দলগুলোও ইতোমধ্যে ঢাকায় পা রাখতে শুরু করেছে। আর মাত্র দুই দিন বাকি থাকতেই রাজধানী ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে শুরু হতে চলেছে দক্ষিণ এশিয়ান ফুটবলের সবথেকে বড় এবং মর্যাদাপূর্ণ আসর সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। কিন্তু এই টুর্নামেন্টকে কেন্দ্র করে শহরজুড়ে যে ধরনের জাঁকজমকপূর্ণ উৎসবের আমেজ থাকার কথা ছিল, তার লেশমাত্রও বাস্তবে দেখা যাচ্ছে না। অত্যন্ত চড়া দামের টিকিট এবং আয়োজকদের চরম সমন্বয়হীনতার কারণে সাফ টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই সার্বিক আয়োজনের সেই জৌলুশ অনেকটাই ম্লান হয়ে পড়েছে। আজ দুপুরের তথ্য অনুযায়ী উদ্বোধনী দিনের সাধারণ গ্যালারির প্রায় ৭৫ শতাংশ টিকিটই এখনো পুরোপুরি অবিক্রীত রয়ে গেছে। অথচ অত্যন্ত আনন্দের বিষয় হলো, এই উদ্বোধনী দিনেই মাঠে নামবে লাল-সবুজের স্বাগতিক বাংলাদেশ দল।

জাতীয় স্টেডিয়ামে দর্শকদের বসার জন্য মোট আসনসংখ্যা প্রায় ২২ হাজার। এর মধ্যে শুধুমাত্র সাধারণ গ্যালারির আসনসংখ্যা হচ্ছে ১৮ হাজার ৩০০। টিকিট বিক্রির সার্বিক দায়িত্বে নিয়োজিত টিকিফাই নামক ওয়েবসাইটের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আজ বেলা ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত উদ্বোধনী দিনের ১৩ হাজার ৭৩৬টি টিকিট সম্পূর্ণ অবিক্রীত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।

আগামী বৃহস্পতিবার সাফের উদ্বোধনী দিনে মোট চার দল মাঠে লড়াই করবে। সেদিন বেলা সাড়ে তিনটায় প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি লড়াইয়ে নামবে ভারত ও পাকিস্তান। এরপর একই দিন রাত আটটায় স্বাগতিক বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ হিসেবে মাঠে নামবে ভুটান। একই দিনে দর্শকরা দুটি আকর্ষণীয় ম্যাচ সরাসরি উপভোগ করার সুযোগ পেলেও, টিকিট কাটার ব্যাপারে সাধারণ ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে তেমন কোনো আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না। সাধারণ গ্যালারির প্রতিটি টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে এক হাজার টাকা। একটিমাত্র টিকিটের মাধ্যমেই দিনের দুটি ম্যাচ একসঙ্গে উপভোগ করা যাবে—এটাই টিকিটের দাম নির্ধারণের পেছনে আয়োজকদের মূল যুক্তি। কিন্তু দেশের সাধারণ ফুটবলপ্রেমী মানুষের আর্থিক সামর্থ্যের কথা বিবেচনা করলে এক হাজার টাকার এই অঙ্কটা একেবারেই কম নয়। কোনো ব্যক্তি যদি তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে মাঠে খেলা দেখতে আসেন, তবে তার জন্য খরচ আরও বহুগুণ বেড়ে যাবে। ফলস্বরূপ, টিকিটের এই চড়া দাম নির্ধারণের সময় সাধারণ দর্শকদের আর্থিক সক্ষমতার বিষয়টি কতটা গুরুত্ব সহকারে ভাবা হয়েছিল, তা নিয়ে এখন বড় ধরনের প্রশ্ন উঠছে।

টিকিটের দাম অতিরিক্ত বেশি হওয়ার পাশাপাশি দর্শক টানার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় প্রচার-প্রচারণার ঘাটতিও অত্যন্ত স্পষ্ট। এই মানের একটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা আয়োজনের প্রাক্কালে যে ধরনের নিবিড় ও ব্যাপক প্রচারণা চালানো দরকার, তার ধারেকাছেও আয়োজকদের দেখা যাচ্ছে না। অথচ অতীতে বিশেষ করে ২০০৩ কিংবা ২০১৮ সালে ঢাকায় সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের যতগুলো আয়োজন হয়েছিল, সেগুলোর রূপ ছিল অত্যন্ত বর্ণাঢ্য।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, স্বাগতিক দেশ হিসেবে সাফ কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশকে ৫০ লাখ টাকা প্রদান করেছে। তবে ঢাকায় চলমান এই টুর্নামেন্টের পুরো আয়োজন নিজেদের ব্যবস্থাপনায় সম্পন্ন করার জন্য দক্ষিণ এশীয় ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে চুক্তি করেছে বাফুফে। যার ফলে আয়োজনের সার্বিক পরিস্থিতি বাফুফে এখন অনেকটা দূর থেকেই নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

এ সমস্ত বিষয় নিয়ে সাফের কর্তাব্যক্তিদের সঙ্গে ইতোমধ্যে একাধিক বৈঠক করেছেন বাফুফের কম্পিটিশন কমিটির চেয়ারম্যান গোলাম গাউস। সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে তিনিও নিজের গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেছেন, এবার সাফ নিজেরাই সবকিছু পরিচালনা করছে। আমাদের কোনো কথাই তারা সেভাবে গুরুত্ব দিয়ে শুনছে না। আমরা কিছু জানতে চাইলে তারা শুধু বলছে সবকিছু নির্দিষ্ট সময়মতো হয়ে যাবে। অথচ উদ্বেগের বিষয় হলো, খেলা শুরু হতে এখন আর মাত্র দুই দিন বাকি রয়েছে।

গোলাম গাউস এহেন মন্তব্য করার পর স্বভাবতই একটি প্রশ্ন সামনে চলে আসছে যে, স্বাগতিক দেশ হিসেবে এই টুর্নামেন্টকে আকর্ষণীয় ও সফল করে তোলার ক্ষেত্রে বাফুফের কি সুনির্দিষ্ট কোনো দায়িত্ব বা কর্তব্য নেই? এখন পর্যন্ত বাফুফেপক্ষ থেকেও খুব একটা সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে দেখা যাচ্ছে না। আয়োজনের সবকিছুর মূল দায়িত্ব তারা সম্পূর্ণভাবে ছেড়ে দিয়েছে সাফের নিজস্ব কোর্টেই। যার ফলে এবারের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ শুরুর আগে এটি এখন পর্যন্ত সাধারণ মানুষের মনে কোনো উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পেরেছে বলে মনে হচ্ছে না।

এই টুর্নামেন্টের আয়োজনে দুর্বলতা কেবল টিকিট বিক্রির ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং সঠিক ও সময়মতো তথ্য সরবরাহের ক্ষেত্রেও মারাত্মক ঘাটতি রয়েছে। কোন দল ঠিক কখন ঢাকায় এসে পৌঁছাবে, তারা কোথায় অনুশীলন করবে, কিংবা তাদের অনুশীলনের নির্দিষ্ট সময়সূচি কী—এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সাফের পক্ষ থেকে নিয়মিত এবং স্পষ্ট কোনো তথ্যই পাওয়া যাচ্ছে না।

ইতিমধ্যে বিভিন্ন দলগুলোর ঢাকায় এসে পৌঁছানো আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়ে গেছে। দলগুলোর মধ্যে সবার আগে ঢাকায় এসে পৌঁছেছে ভুটান। আজ তাদের পথ ধরে ঢাকায় এসে পৌঁছাল ভারত ও শ্রীলঙ্কা দল। এছাড়াও পাকিস্তান দলও আজকেই ঢাকায় এসে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। যখন এই দলগুলো টুর্নামেন্টের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নিয়ে চরম ব্যস্ত সময় পার করছে, তখন আয়োজকদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে দেশের ক্রীড়া সাংবাদিকদের রীতিমতো গলদঘর্ম অবস্থা পোহাতে হচ্ছে।

সাফের সুদীর্ঘ ইতিহাসে বাংলাদেশের আবেগ ও প্রত্যাশার মাত্রা সবসময়ই অনেক উঁচুতে অবস্থান করেছে। ১৯৯৩ সালে যাত্রা শুরু হওয়া এই প্রতিযোগিতায় সবচেয়ে সফল দল হিসেবে শীর্ষে রয়েছে ভারত, যারা এখন পর্যন্ত রেকর্ড নয়বার শিরোপা ঘরে তুলেছে। অন্যদিকে মালদ্বীপের নামের পাশে রয়েছে দুটি শিরোপা। এছাড়া আফগানিস্তান ও শ্রীলঙ্কা একবার করে এই টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। বাংলাদেশের একমাত্র সাফল্য অর্জিত হয়েছিল ২০০৩ সালে। সেবার তৎকালীন সময়ে ঢাকায় অনুষ্ঠিত ফাইনাল ম্যাচে মালদ্বীপকে টাইব্রেকারে পরাজিত করে প্রথমবারের মতো সাফ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বাদ পেয়েছিল বাংলাদেশ। দীর্ঘ ২৩ বছর পর আরও একবার ঘরের মাঠে বসে ট্রফি জয়ের স্বপ্ন দেখছে গোটা বাংলাদেশের মানুষ।

তবে বর্তমান বাস্তবতায় এবারও শিরোপা জয়ের অন্যতম প্রধান দাবিদার হিসেবে অবতীর্ণ হয়েছে শক্তিশালী ভারত। পাশাপাশি অন্য দলগুলোর সামনেও নিজেদের যোগ্যতা ও সামর্থ্য প্রমাণ করার সমান সুযোগ রয়েছে। মাঠের ভেতরে ছয়টি দলের এই লড়াই বেশ জমে উঠতে পারে। কিন্তু মাঠের ভেতরের সেই তীব্র লড়াইয়ের উত্তেজনা ও উত্তাপ গ্যালারির দর্শকদের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার মতো কোনো দৃশ্যমান প্রস্তুতি এখন পর্যন্ত লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।

একটি আন্তর্জাতিক মানের টুর্নামেন্টের প্রকৃত সাফল্য কেবল মাঠের খেলার ফলাফল দিয়ে বিচার করা সম্ভব নয়। স্টেডিয়ামে সাধারণ দর্শকের উপস্থিতি, ব্যাপক প্রচার, সঠিক ব্যবস্থাপনা এবং ক্রীড়া সাংবাদিকদের সঙ্গে সুসমন্বয়—এই সবকিছু মিলিয়েই মূলত একটি আন্তর্জাতিক আসরের আসল জৌলুশ গড়ে ওঠে। কিন্তু সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ শুরু হওয়ার আগেই এই সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে নানাবিধ ঘাটতি অত্যন্ত স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এক হাজার টাকার চড়া মূল্যের টিকিট, প্রচার-প্রচারণার চরম অভাব এবং তথ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে চরম উদাসীনতা—এই সবকিছু মিলিয়ে আয়োজকেরা সাধারণ দর্শকদের সঙ্গে এক ধরনের দূরত্ব তৈরি করে ফেলেছেন।

অবশ্য খেলা শুরুর শেষ মুহূর্তে এসে যদি প্রচারের মাত্রা বাড়ানো যায় এবং টিকিট বিক্রির ক্ষেত্রে বিশেষ কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়, তবে পরিস্থিতির কিছুটা ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটানোর সুযোগ এখনো ফুরিয়ে যায়নি। কিন্তু সামগ্রিক আয়োজনের প্রস্তুতিতে যেভাবে বড় ধরনের ঘাটতি দৃশ্যমান হচ্ছে, তাতে উদ্বোধনী দিনেও স্টেডিয়ামের গ্যালারির বড় একটা অংশ ফাঁকা পড়ে থাকার আশঙ্কা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। সাফের বর্ণিল মঞ্চ প্রস্তুত করা হলেও সাধারণ দর্শকদের জন্য সেই মঞ্চ কতখানি উৎসবমুখর করে তুলতে পেরেছেন আয়োজকরা—সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
উপসচিব পুলের তালিকা তৈরিতে অনিয়মের অভিযোগ

উপসচিব পুলের তালিকা তৈরিতে অনিয়মের অভিযোগ