ঢাকা | বঙ্গাব্দ

জমি ও গরুর ব্যবসা নিয়ে প্রতারণা: ঘোড়াঘাটে আটক রাজনৈতিক নেতা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Nov 3, 2026 ইং
জমি ও গরুর ব্যবসা নিয়ে প্রতারণা: ঘোড়াঘাটে আটক রাজনৈতিক নেতা ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলায় প্রায় চৌদ্দ লক্ষাধিক নয় বরং সর্বমোট চৌান্ন লক্ষ টাকা প্রতারণামূলক উপায়ে হাতিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগে উজ্জ্বল মিয়া নামের এক রাজনৈতিক নেতাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আটক করেছে। অভিযুক্ত একচল্লিশ বছর বয়সী উজ্জ্বল মিয়া স্থানীয় যুবদলের উপজেলা শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং তিনি মৃত ইউনুস আলীর সন্তান। গত সোমবার দিবাগত রাতে দিবাগত সময় প্রায় দুইটার দিকে ঘোড়াঘাট পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ তাঁকে পাকড়াও করতে সক্ষম হয়।

ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহমুদ হাসান সংবাদমাধ্যমকে এই আটকের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান যে, পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আজ মঙ্গলবার অভিযুক্ত উজ্জ্বল মিয়াকে আদালতে প্রেরণ করা হবে। জানা গেছে, আটককৃত ব্যক্তির স্থায়ী ঠিকানা ঘোড়াঘাট উপজেলার ওসমানপুর ছয়ঘট্টি গ্রাম।

এই ঘটনার সূত্রপাত ঘটে মূলত জমি কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে, যা নিয়ে উপজেলার কাশিয়াতলা শিধলগ্রামের বাসিন্দা রিফাত কবীর গতকাল রাতে থানায় একটি প্রতারণার মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহার সূত্রে প্রকাশ পায় যে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে বাদী রিফাত কবীর তাঁর মালিকানাধীন ৫৭ শতাংশ জমি উপজেলার সাগরপুর মৌজায় ২২ লাখ ৮০ হাজার টাকায় উজ্জ্বল মিয়ার নিকট রেজিস্ট্রি করে দেন।

উক্ত জমি বিক্রয় চুক্তির বিপরীতে অভিযুক্ত উজ্জ্বল মাত্র ১০ লাখ টাকা নগদে পরিশোধ করলেও বাকি ১২ লাখ ৮০ হাজার টাকা পরিশোধের ক্ষেত্রে নানা টালবাহানা শুরু করেন। জমি সংক্রান্ত এই বকেয়া পাওনার মধ্যেই রিফাতের পশুপালনের খামারের জন্য অর্ধশতাধিক অর্থাৎ ৫০টি গরু সরবরাহ করার প্রলোভন দেখিয়ে উজ্জ্বল নতুন করে ফন্দি আঁটেন।

গত ৮ মার্চ থেকে শুরু করে মে মাসের ২ তারিখ পর্যন্ত বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে অগ্রিম বাবদ ৩০ লাখ টাকা এবং পরবর্তীতে ঋণ হিসেবে আরও ১৮ লাখ টাকা নিজের আয়ত্তে নেন উজ্জ্বল মিয়া। জমি ও গরু বাবদ সর্বমোট এই টাকার পরিমাণ দাঁড়ায় ৪৮ লাখ টাকায়, যা জমি বিক্রির আগের বকেয়ার সঙ্গে যুক্ত হয়।

পরবর্তীতে নির্ধারিত সময়ে একটি গরুও সরবরাহ না করায় বাদী রিফাত কবীর তাঁর পাওনা টাকা ফেরত চাইলে অভিযুক্ত উজ্জ্বল মিয়া সম্পূর্ণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। যোগাযোগের সব পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর গত ৮ জুন এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে এক সালিস বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

উক্ত সালিস বৈঠকে উপস্থিত থেকে বাদী রিফাত কবীর জানান যে, তখন সর্বমোট প্রায় ৬০ লাখ টাকা পাওনা থাকলেও তার বিপরীতে মাত্র ৭ লাখ টাকা পরিশোধ করেছিলেন উজ্জ্বল। অবশিষ্ট বকেয়া অর্থ খুব শীঘ্রই পরিশোধ করবেন মর্মে তিনি সেখানে একটি লিখিত অঙ্গীকারনামাও প্রদান করেছিলেন।

তবে দুঃখের বিষয় হলো, সালিস বৈঠকে নির্ধারিত সেই সময়সীমা অতিক্রান্ত হয়ে গেলেও উজ্জ্বল মিয়া একটি টাকাও পরিশোধ করেননি। পরবর্তীতে বকেয়া পাওনা টাকা আদায়ে বারবার তাগাদা দেওয়া হলে অভিযুক্ত ব্যক্তি সাফ জানিয়ে দেন যে তিনি আর কোনো অর্থ ফেরত দেবেন না। উল্টো তিনি বাদীর কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছেন বলে মামলায় সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে।

অন্যদিকে এই সম্পূর্ণ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে যুবদলের দিনাজপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক এ কে এম মাসুদুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, অপরাধের সাথে যেই জড়িত থাকুক না কেন, তাকে অবশ্যই আইনের মুখোমুখি ও সাজার আওতায় নিয়ে আসতে হবে। তিনি আরও মন্তব্য করেন যে, তাঁরা পুরো বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখছেন এবং উজ্জ্বল মিয়ার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংগঠনের পক্ষ থেকে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
শাহজালালের আগুনে ১২ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি: ইএবি

শাহজালালের আগুনে ১২ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি: ইএবি