নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
কারাগারে বন্দি থাকা অবস্থায় গত ২৮ অক্টোবর হঠাৎ করে হৃদরোগে আক্রান্ত হন বন্দি মামুন। শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটলে দ্রুত তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় যশোর জেনারেল হাসপাতালে। সেখানে পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় চিকিৎসকদের পরামর্শে তাঁকে স্থানান্তর করা হয় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এই চিকিৎসালয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত রোববার রাত আটটার দিকে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি।
প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় কঠোর পুলিশি পাহারায় মামুনের মৃতদেহ নিয়ে আসা হয় নিজ গ্রামের বাড়িতে। স্থানীয় বাজে দুর্গাপুর আঞ্জুমানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার পূর্বে এক অত্যন্ত আবেগঘন ও ভারাক্রান্ত পরিবেশের সৃষ্টি হয় সেখানে।
নিহত নারীর খুনি হিসেবে পরিচিত হলেও জন্মদাতা সন্তানকে নিঃশর্তভাবে ক্ষমা করে দেওয়ার জনসমক্ষে ঘোষণা প্রদান করেন তাঁর জন্মদাতা পিতা আলতাফ হোসেন এবং জ্যেষ্ঠ ভাই প্রভাষক মঞ্জুর হাসান। পরবর্তী সময়ে এই জানাজার অনুষ্ঠানে স্থানীয় এলাকার শত শত ধর্মপ্রাণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন এবং পরিশেষে পরিবারের সকলের যৌথ সিদ্ধান্তে মৃত মায়ের কবরের পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয় মামুনকে।
ছেলে সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরে পিতা আলতাফ হোসেন জানান যে মামুনের জীবনে দুটি বিবাহ হয়েছিল। সুদূর প্রায় আট থেকে নয় বছর পূর্বে তিনি সদর উপজেলার ভেকুটিয়া গ্রামে প্রথম বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন। পরবর্তীতে পারিবারিক বিভিন্ন দাম্পত্য কলহের জেরে একসময়ে তাঁদের সেই সংসার ভেঙে যায় এবং বিচ্ছেদ ঘটে।
প্রথম বিয়ে ভেঙে যাওয়ার পর ঝিকরগাছা উপজেলার অমৃতবাজার গ্রামে পুনরায় বিবাহ করেন মামুন। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, প্রায় ছয় বছর আগে দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গেও তাঁর সকল সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে বিচ্ছেদ সম্পন্ন হয়।
উভয় স্ত্রীর সঙ্গেই দাম্পত্য সম্পর্ক নষ্ট ও বিচ্ছেদ ঘটার পেছনে মামুন সম্পূর্ণভাবে দায়ী করতেন তাঁর নিজের মাকে। এই পারিবারিক বিষয়টিকে কেন্দ্র করে প্রায় নিয়মিতই মা ও ছেলের মধ্যে তীব্র কথা-কাটাকাটি এবং ঝগড়াঝাঁটি লেগে থাকত।
পিতা আলতাফ হোসেন আরও বর্ণনা করেন যে, এই অনবরত পারিবারিক অশান্তি ও কলহের কারণে মানসিকভাবে মারাত্মক বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন মামুন। এমনকি তাঁর মানসিক অসুস্থতার চিকিৎসার্থে তাঁকে বিশেষায়িত মানসিক হাসপাতালেও নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং সেখানে তাঁর চিকিৎসাকাজ সম্পন্ন করা হয়েছিল।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর