ঢাকা | বঙ্গাব্দ

চলচ্চিত্রের দুর্দিন কাটাতে পাঁচ নির্মাতার ভাবনা প্রকাশ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Nov 4, 2026 ইং
চলচ্চিত্রের দুর্দিন কাটাতে পাঁচ নির্মাতার ভাবনা প্রকাশ ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

চলতি বছরের এগারো মাস প্রায় শেষের পথে রয়েছে। তবে অবাক করার বিষয় হলো, হাতে গোনা মাত্র এক-দুটি ব্যতিক্রম বাদে চলতি বছরে মুক্তি পাওয়া অধিকাংশ সিনেমাই কাঙ্ক্ষিত বাণিজ্যিক সাফল্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। বাজারে নতুন চলচ্চিত্র নিয়মিত মুক্তি পেলেও তা বড় পর্দার দিকে দর্শকদের আকৃষ্ট করতে পারছে না। ঠিক এমন এক অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে ঢাকাই চলচ্চিত্রশিল্প কোন উপায়ে তার আগের গৌরবে ফিরে আসতে পারে এবং এই শিল্পে ঠিক কী ধরনের পরিবর্তন আনা এখনই জরুরি, সে বিষয়ে কথা বলেছেন পাঁচজন অভিজ্ঞ নির্মাতা। তারা মূলত গল্প বলার ধরন, নির্মাণশৈলী, পরিবেশনা থেকে শুরু করে সিনেমা প্রদর্শনের পুরো অবকাঠামো বা পরিসর নিয়ে কথা বলেছেন এবং এই শিল্পটির বর্তমান সংকট ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা তুলে ধরেছেন।

দেশের চলচ্চিত্রশিল্পকে আমূল বদলে দিতে এবং এর সার্বিক উন্নতির পথে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন পর্যাপ্ত বিনিয়োগ। আমাদের দেশে প্রতিভাবান ও ভালো নির্মাতার কোনো ঘাটতি নেই এবং অনেক তরুণ নির্মাতা ভালো কাজ উপহার দেওয়ার জন্য মুখিয়ে আছেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, পর্যাপ্ত আর্থিক বিনিয়োগ না থাকায় তারা নিয়মিত ছবি পরিচালনার সুযোগ পাচ্ছেন না। এই সংকট কাটাতে সরকারের তরফ থেকে কিছু নীতিগত পরিবর্তন আনা অত্যন্ত জরুরি, যার মাধ্যমে নতুন বিনিয়োগকারীরা চলচ্চিত্রে পুঁজি খাটানোর জন্য উৎসাহিত হবেন। বিশেষ করে করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই শিল্পে সরাসরি যুক্ত করা এখন সময়ের দাবি। বিনিয়োগ বাড়লে সামগ্রিকভাবে ছবি নির্মাণের সংখ্যাও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। সরকার যদি দেশি চলচ্চিত্রের ওপর থেকে কর মওকুফ করে দেয়, তবে বিনিয়োগকারীরা আগ্রহ বোধ করবেন এবং এর হাত ধরেই নতুন নির্মাতাদের কাজের নতুন সুযোগ তৈরি হবে।

বাংলাদেশে যে আরও অনেক চমৎকার মানের ছবি নির্মাণের বিশাল সম্ভাবনা লুকিয়ে আছে, সে বিষয়ে আমার মনে কোনো সন্দেহ নেই। এর সবচেয়ে বড় বাস্তব প্রমাণ আমরা খুব সম্প্রতি নিজেদের চোখেই দেখেছি, কারণ গত বছর 'বরবাদ', 'তাণ্ডব' ও 'উৎসব'-এর মতো বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্র বক্স অফিসে দারুণ ব্যবসা করেছে। এর সহজ অর্থ দাঁড়াচ্ছে, দেশের দর্শক আজও সিনেমা দেখতে চান এবং ভালো মানের ছবি মুক্তি পেলে তারা দলে দলে প্রেক্ষাগৃহে যাচ্ছেন। অর্থাৎ, দর্শক নেই—এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল, বরং দর্শকের মনের চাহিদার কথা মাথায় রেখে নিয়মিত ভালো সিনেমা নির্মাণ এবং তা যথাযথভাবে মুক্তির একটি সুস্থ পরিবেশ তৈরি করতে হবে। আমাদের চলচ্চিত্র খাতে বিনিয়োগের পরিমাণও মূলত খুব বেশি নয়; কারণ বছরে সব মিলিয়ে মাত্র ৪০ থেকে ৫০টি ছবি নির্মিত হলেও এই পুরো শিল্পে বিনিয়োগের আর্থিক পরিমাণ অত্যন্ত সীমিত। আমার একান্ত ধারণা, আমাদের দেশে বছরে ৫০ থেকে ৭০ কোটি টাকার বেশি আর্থিক বিনিয়োগ হয় না। এত অল্প পুঁজি নিয়ে একটি টেকসই পূর্ণাঙ্গ চলচ্চিত্রশিল্প গড়ে তোলা অত্যন্ত কঠিন কাজ। তাই নতুন বিনিয়োগকারী ও বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে।

তবে কেবল ঢালাওভাবে বিনিয়োগ এলেই চলবে না, বরং কোন নির্দিষ্ট ছবিতে সেই পুঁজি খাটানো হচ্ছে, সেটিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। আমাদের দেশে অনেক সময় প্রয়োজনীয় কোনো পরিকল্পনা কিংবা সঠিক যাচাই-বাছাই না করেই যেকোনো ছবিতে তাড়াহুড়ো করে বিনিয়োগ করা হয়। এর ফলে কোনো একটি ছবি যখন দর্শকের মন জয় করতে পারে না এবং প্রত্যাশা অনুযায়ী ব্যবসা করতে ব্যর্থ হয়, তখন বিনিয়োগকারীরা বড় অঙ্কের আর্থিক লোকসানের মুখে পড়েন এবং পরবর্তীতে তারা আর এই খাতে পুঁজি বিনিয়োগ করতে চান না। এই সমস্যা সমাধানের জন্য কেবল আর্থিক বিনিয়োগের পাশাপাশি ছবির বিষয়বস্তু, গল্প, সংশ্লিষ্ট নির্মাতা, দর্শক এবং বাজারের সার্বিক সম্ভাবনা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করে সঠিকভাবে ছবি নির্বাচন বা কিউরেশন করার কাজটি সম্পন্ন করতে হবে।

আমরা এখন এমন একটি ইতিবাচক জায়গায় অবস্থান করছি যেখান থেকে ঘুরে দাঁড়ানো সম্পূর্ণ সম্ভব। আমাদের দেশের সিনেমাগুলো বর্তমানে তুলনামূলকভাবে ভালো চলছে এবং ছবির মানও ক্রমান্বয়ে উন্নত হচ্ছে। আমাদের একদম শেষ মুক্তি পাওয়া সিনেমাগুলো তো বেশ ভালোভাবেই কাজ করেছে এবং দেশের সাধারণ দর্শক প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে সিনেমা উপভোগ করছেন। এখন আমাদের মূল লক্ষ্য হওয়া শুধু ঈদের মতো নির্দিষ্ট উৎসবের ওপর নির্ভর না করে সিনেমাগুলোকে সাধারণ সময়েও হলের দিকে নিয়ে আসা। সেই সঙ্গে বেশি বেশি সিনেমা বানাতে হবে, মানসম্মত চলচ্চিত্র নির্মাণ নিশ্চিত করতে হবে এবং সেগুলোকে পুরো বছরজুড়ে মুক্তির সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা করতে হবে। আমি নিজে গত পাঁচ বছর ধরে অত্যন্ত নিয়মিতভাবে ঈদের জন্য সিনেমা নির্মাণ করে আসছি। একটা সময় ছিল যখন ঈদের সিনেমাগুলো মিডিয়া বা সাধারণ মানুষের সেভাবে কোনো আলোচনার জন্মই দিত না, অথচ বর্তমান সময়ে এসে ঢালিউড সিনেমাগুলো ঠিকই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিজেদের শক্ত জায়গা করে নিয়েছে। এগুলো অবশ্যই আমাদের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক দিক। বেশি বেশি ভালো ছবি নির্মাণ করতে পারলেই একমাত্র ইন্ডাস্ট্রি ঘুরে দাঁড়াতে পারে, এছাড়া দ্বিতীয় আর কোনো বিকল্প পথ খোলা নেই। এই উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য পেশাদার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন এবং শুটিং করার জন্য যে ধরনের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা দরকার, সেগুলোর পর্যাপ্ত উপস্থিতি থাকতে হবে। নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, যখনই কোনো নতুন সিনেমার শুটিংয়ের পরিকল্পনা করা হয়, তখন কেবল লোকেশনের অনুমতি পেতেই একটা দীর্ঘ সময় অপচয় হয়ে যায়; কারণ আমাদের দেশে শুটিংয়ের জন্য ভালো লোকেশন পাওয়া বেশ কঠিন কাজ। আর এই পুরো প্রক্রিয়াগুলো অবশ্যই নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী হতে হবে।

আমাদের দেশে সিনেমা নির্মাণ প্রক্রিয়াকে আরও অনেক সহজ করে তুলতে হবে। একজন প্রযোজক কিংবা পরিচালক—যিনি হোন না কেন, তার কাজ যেন সহজ হয় এবং তারা যেন কোনো ঝামেলা ছাড়াই স্বাধীনভাবে সিনেমা নির্মাণ করতে পারেন। এমন পরিবেশ পেলে দেশের তরুণেরাও অনেক বেশি আগ্রহ ও উদ্দীপনা নিয়ে সিনেমা নির্মাণে এগিয়ে আসবে। আমাদের উচিত পবিত্র ঈদুল ফিতর বা আজহার মতো উৎসবে এক ডজন ছবি একসঙ্গে মুক্তি না দিয়ে তার বাইরে ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস, বিভিন্ন পূজা কিংবা আমাদের মহান বিজয় দিবসের মতো গুরুত্বপূর্ণ দিনগুলোতে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে সিনেমা মুক্তি দেওয়া। আমি নিজেও এবার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি ২৬ মার্চ বিশেষ দিনে আমার সিনেমা প্রেক্ষাগৃহে নিয়ে আসার। আমি চাইছি এর মাধ্যমে প্রেক্ষাগৃহে একটি চমৎকার উৎসবের আমেজ তৈরি হোক। অন্যদিকে, সিনেমা হলগুলো কোনো ঘিঞ্জি গলি বা সাধারণ বাসস্ট্যান্ডের কোণায় তৈরি না করে শহরের প্রধান প্রধান জায়গায় স্থাপন করা উচিত। সেখানে দর্শকদের বিনোদনের জন্য সুন্দর একটি আধুনিক পরিবেশ থাকবে, খাবার ও কফি শপ থাকবে এবং কেনাকাটার চমৎকার সুব্যবস্থা রাখা হবে। দর্শক সেখানে গিয়ে সময় কাটাবে এবং ছবি দেখে সেলফি তুলবে। আমাদের দেশের সিনেমার দর্শক সংখ্যা অনেক বিশাল এবং এর বাজারটিও দারুণ বড়। তাই সিনেমাগুলোকে সারা দেশের বিপুল সংখ্যক দর্শকের দোরগোড়ায় নিয়ে যেতে হবে, তাহলেই কেবল ঢাকাই সিনেমার বাজার সত্যিকার অর্থে ঘুরে দাঁড়াবে।

আমাদের চলচ্চিত্রশিল্পের সার্বিক উন্নতির স্বার্থে চলচ্চিত্র–বিষয়ক একটি যথাযথ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকা অত্যন্ত জরুরি। এর মূল কারণ হলো, বর্তমান সময়ে চলচ্চিত্রের কারিগরি দক্ষতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়, অথচ এই কারিগরি জ্ঞান লাভ করার মতো আমাদের দেশে পর্যাপ্ত কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা শেখার জায়গা নেই। আমাদের দেশে পেশাদার ও প্রশিক্ষিত কলাকুশলীরও বেশ অভাব রয়েছে। এর পাশাপাশি আধুনিক পোস্ট-প্রোডাকশনের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধাও আমাদের এখানে অপ্রতুল—যেমন কালার গ্রেডিং করার উন্নত ব্যবস্থা, ৫.১ সাউন্ড মিক্সিং এবং লোকেশন সাউন্ড রেকর্ডিংয়ের আধুনিক সরঞ্জাম। আমার কাছে দৃঢ়ভাবে মনে হয়, এই প্রযুক্তিগত বিষয়গুলো যদি যথাযথভাবে সমাধান করা সম্ভব হয়, তবেই কেবল আমাদের সিনেমাকে ভবিষ্যতের দিকে সফলভাবে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

একটি বাজে বা দুর্বল চিত্রনাট্য থেকে ভালো মানের সিনেমা তৈরি করা প্রায় অসম্ভব একটি ব্যাপার। আমার ব্যক্তিগত অভিমত হলো, আমাদের দেশের চলচ্চিত্রশিল্পের সবচেয়ে বড় দুর্বলতার জায়গাটি লুকিয়ে আছে এর চিত্রনাট্যের মধ্যে। আমরা হরহামেশাই ভালো গল্পের অভাবের কথা বলে থাকি, কিন্তু একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্রনাট্য রচনা করা যে আদতে সম্পূর্ণ আলাদা একটি স্বতন্ত্র শিল্পমাধ্যম, সে বিষয়ে আমাদের দেশের মানুষের মধ্যে এখনো যথেষ্ট উপলব্ধি বা সচেতনতা তৈরি হয়নি। এই নির্দিষ্ট ক্ষেত্রটিতে দক্ষ জনবলেরও বড় ধরনের অভাব রয়েছে। একটি সফল চলচ্চিত্রের মূল ভিত বা শক্তি হচ্ছে একটি শক্তিশালী চিত্রনাট্য। এর কিছু ব্যতিক্রম বা উদাহরণ হয়তো থাকতেই পারে, তবে সামগ্রিক সাধারণ নিয়ম হলো ভালো চিত্রনাট্য থেকেই কেবল ভালো সিনেমা জন্ম নিতে পারে।

আমাদের দেশের লেখক এবং পরিচালকদের চিত্রনাট্য লেখার কলাকৌশল ও এর ব্যাকরণ সম্পর্কে আরও অনেক বেশি দক্ষ ও পারদর্শী হয়ে উঠতে হবে। কারণ, একটি সাধারণ চিত্রনাট্য লেখা আর একটি উপন্যাস লেখার কাজটি কখনোই এক নয়; এই দুটির প্রকাশভঙ্গির ধরন ও লেখার কৌশল একেবারেই আলাদা। আমাদের এই মৌলিক পার্থক্যটি পরিষ্কারভাবে বুঝতে হবে এবং চিত্রনাট্য রচনাকে একটি স্বতন্ত্র শিল্পমাধ্যম হিসেবে গভীর গুরুত্ব দিতে হবে।

এরপর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় সামনে আসে, সেটি হলো সঠিক পরিচালনা। যেকোনো চলচ্চিত্র নির্মাণের আগেই একজন পরিচালককে অত্যন্ত যথাযথ ও সুনির্দিষ্ট প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হয়। সিনেমার জগতে পরিচালককে সবসময়ই বলা হয়ে থাকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সৃজনশীল ব্যক্তি। কারণ তার ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গি ও চিন্তাধারার ওপরই মূলত পুরো সিনেমার নির্মাণশৈলী নির্ভর করে। কিন্তু সেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি কীভাবে গ্রহণ করতে হবে, আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে সে বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা ও নিয়মিত চর্চা কতটুকু রয়েছে, সেটি এবার ঠান্ডা মাথায় ভেবে দেখার সময় এসেছে।

যেকোনো সৃষ্টিশীল শিল্পমাধ্যমে একটি সেরা শিল্পকর্ম উপহার দেওয়ার জন্য দীর্ঘ সাধনা ও অনুশীলনের কোনো বিকল্প নেই, আর চলচ্চিত্র নির্মাণও ঠিক তেমনি একটি শিল্প। এই মাধ্যমটির জন্য দীর্ঘমেয়াদী প্রস্তুতি, নিরলস অনুশীলন এবং সুনির্দিষ্ট দক্ষতা অর্জন আবশ্যক। আমাদের বর্তমান চলচ্চিত্রশিল্পের এই প্রস্তুতির জায়গাটিতে ভবিষ্যতে আরও অনেক বেশি কাজ করার প্রশস্ত সুযোগ রয়ে গেছে।

সবশেষে আরেকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো গতানুগতিক ফর্মুলা থেকে আমাদের অবিলম্বে বেরিয়ে আসতে হবে। কোনো একটি নির্দিষ্ট সিনেমা হুট করে ব্যবসাসফল হলেই ঠিক একই ধরনের আরও কুড়িটি একই ফর্মুলার সিনেমা বানানোর যে পুরোনো প্রবণতা রয়েছে, সেটি থেকে আমাদের বেরিয়ে আসার সময় এসেছে। কারণ আমরা অতীতেও নিজের চোখে দেখেছি যে এই গতানুগতিক কৌশল সবসময় কাজের কাজ হয় না। বরং এর পরিবর্তে আমাদের সম্পূর্ণ মৌলিক ও নতুন গল্প নিয়ে দর্শকের সামনে হাজির হতে হবে। তবে মনে রাখতে হবে, শুধু গল্পের মূল ভাবনা ভালো হলেই চলবে না, সেই ভাবনাকে চিত্রনাট্যের পাতায় অত্যন্ত যথাযথভাবে ফুটিয়ে তুলতে হবে। সর্বপরি, আমাদের চলচ্চিত্রশিল্পের সার্বিক অগ্রগতির জন্য এর বিকেন্দ্রীকরণ এখন সময়ের সবচেয়ে জোরালো দাবি।

সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
টঙ্গীতে নির্যাতিত শিশুর বাবার দেশত্যাগ নিয়ে ধোঁয়াশা

টঙ্গীতে নির্যাতিত শিশুর বাবার দেশত্যাগ নিয়ে ধোঁয়াশা