নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজের পঞ্চম বর্ষের শিক্ষার্থী আদনান আলতাফ আজ বুধবার সকালে মর্মান্তিক পরিণতির শিকার হয়েছেন। কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার কাবিলার ওই কলেজের নিকটবর্তী একটি পুকুর থেকে পুলিশ তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে। কলেজ প্রাঙ্গণ থেকে প্রায় পাঁচ শ গজ দূরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পার্শ্ববর্তী ওই জলাশয়ে তাঁর মৃতদেহ ভাসমান অবস্থায় পাওয়া যায়। গত সোমবার রাতের পর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন।
নিহত আদনান আলতাফের বাড়ি ভারতের জম্মু-কাশ্মীরের বারামুল্লা জেলার সুপুর এলাকার দাঙ্গালপাড়ার বুনপাড়ায়। তাঁর বাবার নাম আলতাফ হোসাইন রাথার। মূলত চিকিৎসাবিজ্ঞান পড়ার জন্যই তিনি বাংলাদেশে অবস্থান করছিলেন এবং ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজে অধ্যয়নরত ছিলেন।
সংশ্লিষ্ট কলেজ সূত্রে জানা গেছে, আদনান বেশ কিছু দিন ধরে অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমে নিয়মিত অংশ নিতে পারছিলেন না। শারীরিক নানা জটিলতার কারণে তাঁর পক্ষে নিয়মিত ক্লাস করা বা পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। এর ফলে তাঁর শিক্ষাজীবন একধরনের অনিশ্চয়তা ও পিছিয়ে পড়ার মুখে পড়ে।
ছেলের এমন পরিস্থিতি নিয়ে পরিবার অত্যন্ত দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছিল। পরবর্তী সময়ে তাঁর সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে এবং মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তার জন্য তাঁকে নিজ দেশে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।
শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ হয়ে আদনান যেন পুনরায় পড়াশোনায় মন দিতে পারেন এবং ঠিকমতো পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই তাঁর পরিবার তাঁকে আবার বাংলাদেশে পাঠায়।
সন্তানের উচ্চশিক্ষার পথ সুগম করতে এবং পড়াশোনায় যেন কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি না হয়, সেই সুদূরপ্রসারী চিন্তা থেকেই তাঁর মা তাঁর সঙ্গে বাংলাদেশে এসেছিলেন।
গত ৩০ অক্টোবর আসন্ন পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য নিয়ে মায়ের সঙ্গে বাংলাদেশে এসেছিলেন আদনান। সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়ার এই মহৎ উদ্যোগে মায়েরও সিদ্ধান্ত ছিল তাঁর সঙ্গেই বাংলাদেশে অবস্থান করার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পরীক্ষা দিয়ে চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন অধরাই রয়ে গেল, আর জীবিত ছেলের পরিবর্তে নিথর দেহ নিয়ে তাকেই এখন দেশে ফিরতে হচ্ছে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর