ঢাকা | বঙ্গাব্দ

মস্তিষ্কের সংকেত মাপা এআই ডিভাইস পরে আলোচনায় শুভমান গিল

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Nov 4, 2026 ইং
মস্তিষ্কের সংকেত মাপা এআই ডিভাইস পরে আলোচনায় শুভমান গিল ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

মস্তিষ্কের সংকেত পর্যবেক্ষণে সক্ষম একটি অভিনব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক গ্যাজেট জনসমক্ষে ব্যবহার করে ক্রীড়াঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন ভারতের জাতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক শুভমান গিল। বাজারে আসা এই আধুনিক যন্ত্রটি শরীরের ভেতরের বিভিন্ন পরিবর্তন ও চাপ নিখুঁতভাবে পরিমাপে সহায়তা করে থাকে।

নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই বিশেষ প্রযুক্তির মূল যন্ত্রাংশটি ‘ব্রেনফ্লো’ নামে পরিচিত। এর ভেতরে থাকা উন্নত আলোভিত্তিক বা অপটিক্যাল সেন্সরগুলোর প্রধান কাজ হলো ব্যবহারকারীর মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহের গতিপ্রকৃতির পরিবর্তনগুলো থেকে সংকেত সংগ্রহ করা।

সংগৃহীত এসব সংকেত ও উপাত্ত গভীরভাবে বিশ্লেষণ করে বিভিন্ন পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতিতে মানবদেহ ঠিক কী ধরনের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ধারণা পাওয়ার উদ্দেশ্যে প্রযুক্তিটি তৈরি করা হয়েছে।

উদ্ভাবনী এই ডিভাইসটিতে ‘এন্ট্রপি’ নামক একটি বিশেষ স্কোরিং পদ্ধতিও যুক্ত রয়েছে, যার পরিমাপের পরিসর ১ থেকে সর্বোচ্চ ২৫০ পর্যন্ত নির্ধারিত।

প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা দীপিন্দর গোয়েলের ব্যাখ্যা অনুসারে, এই বিশেষ স্কোর মূলত একজন মানুষের শারীরিক শারীরবৃত্তীয় চাপ কিংবা অতিরিক্ত পরিশ্রমের প্রকৃত মাত্রা স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলে।

দৈনন্দিন জীবনের নানা বিষয় যেমন নিয়মিত ব্যায়াম, গভীর ঘুম, মানসিক চাপ, ক্যাফেইন জাতীয় পানীয় গ্রহণ কিংবা পর্যাপ্ত বিশ্রাম—এসবের মাধ্যমেই মূলত এই স্কোরের মান প্রভাবিত হয়ে থাকে।

বাজারে প্রচলিত সাধারণ স্মার্টওয়াচগুলোর প্রধান কাজ সাধারণত হৃদস্পন্দনের গতি, ঘুমের চক্র এবং সামগ্রিক শারীরিক কার্যক্রমের ওপর নজর রাখা।

পক্ষান্তরে, নতুন এই টেম্পল ডিভাইসের মূল লক্ষ্য সম্পূর্ণ আলাদা; এটি মস্তিষ্কের রক্তপ্রবাহের সূক্ষ্ম পরিবর্তন এবং মানসিক ও শারীরিক চাপের সঙ্গে জড়িত সংকেতগুলো বিশ্লেষণ করতে কাজ করে।

একজন শীর্ষস্থানীয় ক্রিকেটারকে যখন দীর্ঘ সময় ধরে উইকেটে দাঁড়িয়ে ব্যাটিং করতে হয়, কিংবা প্রচণ্ড রোদে ফিল্ডিং ও নেতৃত্ব দেওয়ার গুরুভার সামলাতে হয়, তখন তাঁকে একই সঙ্গে শারীরিক ধকল ও মানসিক চাপের মুখোমুখি হতে হয়।

এই ধরনের অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে খেলোয়াড়দের শরীর কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে, কিংবা তাঁদের বিশ্রাম ও ক্লান্তি দূর করার প্রক্রিয়া কেমন চলছে, সে সম্পর্কে আরও অনেক বাড়তি ও দরকারী তথ্য পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

তবে বর্তমান সময়ে ভারতীয় অধিনায়ক গিল ঠিক কোন সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে এই বিশেষ গ্যাজেটটি নিজের শরীরে ব্যবহার করছেন, সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা বা তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

শুধু ক্রিকেট স্কুয়াইডে নয়, এর আগে তারকা ভারতীয় ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় পিভি সিন্ধুকেও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে এই একই ধরনের ডিভাইস পরে অংশ নিতে দেখা গেছে।

এর মাধ্যমে এটি স্পষ্ট যে, কেবল ক্রিকেট নয়, বরং অন্যান্য বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের ক্রীড়াবিদদের মধ্যেও এই প্রযুক্তির ব্যবহার ও কার্যকারিতা নিয়ে আগ্রহ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

উপলব্ধ তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয় বাজারেই এই টেম্পল যন্ত্রটির প্রথম চালানের বা প্রথম ব্যাচের আনুমানিক মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৮৫ হাজার ভারতীয় রুপি।

গত ১ নভেম্বর তারিখ থেকেই এই ডিভাইসের প্রি-অর্ডার বা অগ্রিম ফরমায়েশ নেওয়া শুরু হবে বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন এর নির্মাতা দীপিন্দর গোয়েল নিজে।

গ্রাহকদের পক্ষ থেকে পাওয়া প্রতিটি অর্ডার আলাদাভাবে যাচাই করে সে অনুযায়ী ডিভাইসটি তৈরি করে সরবরাহের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনাও রয়েছে প্রস্তুতকারক কর্তৃপক্ষের।

তবে এই গ্যাজেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সবার পরিষ্কারভাবে জেনে রাখা দরকার, আর তা হলো টেম্পল কোনো সাধারণ বা প্রচলিত ব্রেন স্ক্যানিং যন্ত্র নয়।

ঐতিহ্যগত ইইজি বা ইলেক্ট্রোএনসেফালোগ্রাফির মতো এটি মস্তিষ্কের ভেতরকার বৈদ্যুতিক কার্যকলাপ বা তরঙ্গ সরাসরি রেকর্ড করার ক্ষমতা রাখে না।

তাছাড়া এই গ্যাজেটটিকে কোনো রোগ নির্ণয় করার বা চিকিৎসাগতভাবে সার্বিক সুস্থতা নিশ্চিত করার উপায় হিসেবেও বিবেচনা করা যাবে না, এটি কেবলই একটি পরিপূরক প্রযুক্তি।

সূত্র: আজকের পত্রিকা


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
নেটফ্লিক্সে রাজত্ব করছে হুমা কুরেশির বেবি ডু ডাই ডু

নেটফ্লিক্সে রাজত্ব করছে হুমা কুরেশির বেবি ডু ডাই ডু