নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
অনুমোদিত পদের বিশাল ঘাটতি নিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে সদ্য আত্মপ্রকাশ করা চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস আইসিডি। নির্ধারিত জনবলের কেবল কুড়ি শতাংশ কর্মী দিয়ে দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করায় চরম জটিলতা তৈরি হয়েছে।
বিপুল কাজের চাপ সামাল দিতে গিয়ে মারাত্মক হিমশিম খাচ্ছেন কর্মরত ব্যক্তিরা। জনবল সংকট কতটা তীব্র, তার প্রভাব পড়েছে রাজস্ব আদায়েও; যার ফলে চলতি অর্থবছরটির প্রথম তিন মাসের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হয়নি।
প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনিক তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে মোট অনুমোদিত পদের সংখ্যা ৬৬৪। অথচ বাস্তবে নিয়োজিত আছেন মাত্র ১৩১ জন কর্মী।
এই ঘাটতি কিছুটা পূরণের উদ্দেশ্যে মূল চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস থেকে আরও ৩১ জন কর্মচারীকে সংযুক্ত করা হয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতির বিষয়ে কাস্টম হাউসটির যুগ্ম কমিশনার সাইদ আহমেদ রুবেল গণমাধ্যমকে জানান, শুধু নিচতলার কর্মী নয়, বরং উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা পদের ক্ষেত্রেও তীব্র জনবল সংকট রয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, শূন্যতা পূরণে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির মোট ১৮৬টি খালি পদে লোকবল নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত সবুজ সংকেত বা অনুমোদন পাওয়া মাত্রই এই নিয়োগের প্রশাসনিক কার্যক্রম দ্রুত গতিতে শুরু করা হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
যুগ্ম কমিশনার সাইদ আহমেদ রুবেল পুনরায় জোর দিয়ে বলেন যে, মোট ৬৬৪টি পদের বিপরীতে মোটে ১৩১ জনের উপস্থিতি কাজের বিশাল পরিধি সামলানোর ক্ষেত্রে একটি বিরাট বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর তারিখে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বা এনবিআর এই বিশেষায়িত চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস আইসিডি, অর্থাৎ বেসরকারি কনটেইনার ডিপো কার্যালয়ের জন্য কমিশনারের পদায়ন সম্পন্ন করেছিল।
এরপর ধাপে ধাপে নির্দিষ্ট কার্যালয় নির্ধারণ ও উপযুক্ত কর্মকর্তা পদায়নের যাবতীয় প্রস্তুতি শেষে ২০২৬ সালের আগস্ট মাস থেকে এর পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রমের পথচলা শুরু হয়।
বর্তমানে বন্দরনগরীর আগ্রাবাদ এলাকার বিএসটিআইয়ের নবনির্মিত ভবনের ভেতরেই এই গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরটির সার্বিক কার্যক্রম সফলভাবে পরিচালিত হয়ে আসছে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর