ঢাকা | বঙ্গাব্দ

১৭৪৭ গুণ দ্রুত ডিএনএ বিশ্লেষণে বাকৃবির নতুন সফটওয়্যার

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Nov 6, 2026 ইং
১৭৪৭ গুণ দ্রুত ডিএনএ বিশ্লেষণে বাকৃবির নতুন সফটওয়্যার ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

মানবদেহসহ বিশ্বের প্রতিটি জীবন্ত প্রাণীর প্রতিটি একক কোষে লুকিয়ে থাকে ডিএনএ। এই ডিএনএর ভেতরেই মূলত সংরক্ষিত থাকে জীবের বংশগতির ধারা সংক্রান্ত যাবতীয় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। কেবল মানবজাতি নয়, উদ্ভিদকুল, প্রাণীকুল কিংবা অতিক্ষুদ্র অণুজীব—সবার শরীরেই ডিএনএ কাঠামোর বিন্যাসে নিজস্ব স্বকীয়তা বজায় থাকে। গবেষক ও বিজ্ঞানীরা জীবের এই অভ্যন্তরীণ বিন্যাস গভীরভাবে পর্যালোচনা করে নির্ধারণ করতে পারেন বিভিন্ন প্রজাতির মাঝে কতটা মিল রয়েছে, তাদের পারস্পরিক বিবর্তনের ধারা কেমন, এমনকি কোন জীবের সঙ্গে কোন জীবের জৈবিক আত্মীয়তার সম্পর্ক কতখানি ঘনিষ্ট। তবে এই বিশাল অংকের উপাত্ত বিশ্লেষণ করা অত্যন্ত দুরূহ ও জটিল একটি প্রক্রিয়া। বিশেষ করে, যখন অনেকগুলো ভিন্ন ডিএনএ সিকোয়েন্স একত্রে মিলিয়ে দেখার প্রয়োজন হয়, তখন প্রচুর সময়ের অপচয় ঘটে। এই জটিলতা দূর করে প্রক্রিয়াটিকে অত্যন্ত সহজ ও ঝটপট সম্পন্ন করার উদ্দেশ্যে নতুন একটি সফটওয়্যার উদ্ভাবন করেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক।

উদ্ভাবক দলটির দাবি অনুযায়ী, তাদের প্রস্তুত করা এই নতুন সফটওয়্যারটি বর্তমানে বহুল ব্যবহৃত ডিএনএ বিশ্লেষণকারী সফটওয়্যার মেগার তুলনায় সর্বোচ্চ ১৭৪৭ গুণ পর্যন্ত অধিক গতিতে কাজ সম্পাদন করতে সক্ষম। সাধারণত প্রচলিত পদ্ধতিতে এই ধরনের তথ্য বিশ্লেষণ করতে প্রায় এক মাস পর্যন্ত দীর্ঘ সময় লেগে যেতে পারে, অথচ এই নতুন ডিজিটাল টুলের সাহায্যে একই কাজ মাত্র কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে সম্পন্ন করা সম্ভব। শুধু গতির দিক থেকেই নয়, বরং কম্পিউটারের নিজস্ব মেমোরি বা র‍্যাম ব্যবহারের ক্ষেত্রেও এটি অত্যন্ত কার্যকরী ও সাশ্রয়ী হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।

এই অ্যাপ্লিকেশনটির আরেকটি বড় ইতিবাচক দিক হলো, এটি চালাতে গেলে কোনো নির্দিষ্ট বা বিশেষ অপারেটিং প্ল্যাটফর্মের ওপর বাধ্যতামূলকভাবে নির্ভর করার প্রয়োজন পড়ে না। ব্যবহারকারীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে সফটওয়্যারটি ডেস্কটপ তথা পিসি সংস্করণ এবং ওয়েব ভিত্তিক সংস্করণ—উভয় মাধ্যমেই সর্বসাধারণের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। যেকোনো আগ্রহী গবেষক বা ব্যবহারকারী নির্ধারিত dnasimlab.com ইন্টারনেট ঠিকানায় প্রবেশ করে খুব সহজেই এটি ব্যবহার করতে পারবেন।

উদ্ভাবিত এই বিশেষ সফটওয়্যারটির নামকরণ করা হয়েছে ডিএসএস। এই নামের পূর্ণরূপ হলো ডিএনএ সিকোয়েন্স সিমিলারিটিজ। বিভিন্ন ধরনের ডিএনএ সিকোয়েন্সের মধ্যকার পারস্পরিক মিল বা সাদৃশ্য খুঁজে বের করা এবং জীবজগতের বিবর্তনীয় সম্পর্ক নিখুঁতভাবে বিশ্লেষণ করাই এই টুলটির মূল কাজ। এই সফটওয়্যারের সাহায্য নিয়ে সহজেই আকর্ষণীয় ও নির্ভুল ফাইলোজেনেটিক ট্রি বা প্রজাতি সম্পর্কের বৃক্ষ প্রস্তুত করা সম্ভব হয়। এই বিশেষ গাছ সদৃশ চিত্রের মাধ্যমে অত্যন্ত পরিষ্কারভাবে বোঝা যায় কোন প্রজাতির সঙ্গে অন্য কোনো প্রগতির জৈবিক সম্পর্ক কতখানি নিকটবর্তী।

গবেষণা দলের প্রদত্ত উপাত্ত বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ডিএসএস সফটওয়্যার ব্যবহার করে উৎপাদিত ফাইলোজেনেটিক ট্রির নিখুঁত হওয়ার হার প্রায় পঁচানব্বই থেকে একশ শতাংশ পর্যন্ত নিশ্চিত করা যায়। জনপ্রিয় মেগা সফটওয়্যারের গতির সঙ্গে তুলনা করলে এটি প্রায় ১৭৪৭ গুণ বেশি দ্রুত ফলাফল প্রদানে সক্ষম। এর পাশাপাশি, প্রচলিত অন্যান্য সনাতন পদ্ধতির তুলনায় এটি কম্পিউটারের মেমোরি বা ধারণক্ষমতা ত্রিশ থেকে নিরানব্বই শতাংশ কম খরচ করে। অর্থাৎ ডিভাইসের ওপর অতিরিক্ত কোনো চাপ সৃষ্টি না করেই অত্যন্ত দ্রুতগতিতে নিখুঁত বিশ্লেষণ করা এখন অনেক বেশি সহজ হবে।

উল্লেখ্য, যুগান্তকারী এই গবেষক দলের পুরো কাজের নেতৃত্ব দিয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ম্যাথমেটিকস বা সিএসএম বিভাগের সম্মানিত সহযোগী অধ্যাপক ড. মেহবুব উদ্দিন। তাঁর এই গবেষণা কার্যক্রমে সহযোগী হিসেবে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন ওই বিশ্ববিদ্যালয়েরই স্নাতকোত্তর কোর্সের শিক্ষার্থী মাহফুজ-উল আসাদ। এছাড়াও এই পুরো প্রক্রিয়ায় আরও যুক্ত ছিলেন বাকৃবির বায়োইনফরমেটিকস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের স্নাতক পর্যায়ের দুই মেধাবী শিক্ষার্থী মুহাম্মদ ইমামুল হক ও মো. আসিফুজ্জামান।

বর্তমান যুগের জীববিজ্ঞানের সামগ্রিক গবেষণার ক্ষেত্রে ডিএনএ সিকোয়েন্সের বিশ্লেষণ অত্যন্ত অপরিহার্য ও গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ হিসেবে বিবেচিত হয়। নতুন আবিষ্কৃত কোনো জীবের শারীরিক বা জৈবিক বৈশিষ্ট্য উদঘাটন করা, বিভিন্ন প্রজাতির মাঝে বিবর্তনীয় আন্তঃসম্পর্ক অনুধাবন করা কিংবা মারাত্মক কোনো রোগজীবাণুর জিনগত বৈশিষ্ট্য সূক্ষ্মভাবে বিচার করা—এমন নানা ক্ষেত্রেই এজাতীয় সফটওয়্যারেরর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তবে গবেষণার কাজ যত বেশি জটিল রূপ ধারণ করে, প্রয়োজনীয় সময় এবং কম্পিউটারের প্রসেসিং ক্ষমতাও ঠিক ততটাই বেশি পরিমাণে বাড়াতে হয়। সেই বিচারে খুব অল্প সময়ে, নগণ্য পরিমাণ মেমোরি খরচ করে সম্পূর্ণ নির্ভুল ফলাফল বের করে আনার এক অভাবনীয় সুযোগ সৃষ্টি করে দিতে পারে এই নতুন ডিএসএস সফটওয়্যার।

সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
পঞ্চম উইকেটের পতন ঘটিয়ে লিডের হাতছানি বাংলাদেশের

পঞ্চম উইকেটের পতন ঘটিয়ে লিডের হাতছানি বাংলাদেশের