ঢাকা | বঙ্গাব্দ

চার বছর পর গোলের দেখা পেয়ে অভিভূত ইব্রাহিম

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Nov 6, 2026 ইং
চার বছর পর গোলের দেখা পেয়ে অভিভূত ইব্রাহিম ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

দীর্ঘ চার বছরের দীর্ঘ অপেক্ষা ফুরিয়ে জাতীয় দলের জার্সিতে গোলের দেখা পেয়েছেন ফুটবলার মোহাম্মদ ইব্রাহিম। তার করা এই একমাত্র গোলেই ভুটানের বিপক্ষে জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ দল। এমন দারুণ সাফল্যের পর নিজের অনুভূতির কথা প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি জানান, গোল পাওয়ার মুহূর্তটি তার কাছে অত্যন্ত আনন্দের এবং বিশেষ একটি পাওয়া। দীর্ঘ সময় ধরে জাতীয় দলে নিয়মিত খেলার সুযোগ না পাওয়ার পর এই সাফল্য তার আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছে বলে উল্লেখ করেন।

জাতীয় দলে আসা-যাওয়ার এই চক্রে তাকে বেশ কঠিন এক মানসিক লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে বলে জানান ইব্রাহিম। এই সময়ের মধ্যে তাকে ক্লাব পরিবর্তন করতে হয়েছে এবং একাধিক ক্লাবে খেলে নিজের সেরাটা দেওয়ার পাশাপাশি জাতীয় দলে ফেরার চেষ্টা চালিয়ে যেতে হয়েছে। সানমারিনো সফর এবং আসিয়ান কাপের প্রাথমিক দলে থেকেও শেষ মুহূর্তে স্কোয়াড থেকে বাদ পড়ার তিক্ত অভিজ্ঞতা তার হয়েছিল। বর্তমান জাতীয় দলে তীব্র প্রতিযোগিতার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, অনেক প্রবাসী ফুটবলার দলে যুক্ত হয়েছেন। বারবার বাদ পড়ার ফলে মানসিক দিক থেকে সময়টি ভীষণ কষ্টের ছিল বলে জানান এই ফরোয়ার্ড।

দল থেকে বাদ পড়ার পর চারপাশ থেকে নানা ধরনের নেতিবাচক কথা ও অপমানের মুখোমুখি হতে হয়েছিল তাকে। অনেকেই বলাবলি করতেন যে তার ফুটবল ক্যারিয়ার বুঝি এখানেই শেষ হয়ে গেছে। মাঠে নামার সময় এই সমস্ত সমালোচনামূলক কথা তার মাথার মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছিল। তবে তার মনের ভেতরে তীব্র একটি জেদ কাজ করছিল যে তাকে যেকোনো মূল্যে খেলায় ফিরতে হবে, আরও উন্নত পারফরম্যান্স উপহার দিতে হবে এবং গোলের মাধ্যমে সমালোচকদের জবাব দিয়ে প্রমাণ করতে হবে যে তিনি ফুরিয়ে যাননি। তীব্র আবেগ এবং মানসিক কষ্টের সেই জায়গা থেকেই মূলত গোল করার পর নিজের চোখের জল সংবরণ করতে পারেননি তিনি।

ম্যাচের প্রথমার্ধে বাংলাদেশ দলের আক্রমণগুলো থেকে কোনো গোল আসছিল না। ডাগআউটে বসে থাকা অবস্থায় বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামার সুযোগ পেলেই তা পুরোপুরি কাজে লাগানোর তাগিদ অনুভব করছিলেন ইব্রাহিম। একই সঙ্গে সতীর্থদের সামর্থ্যের ওপর পূর্ণ ভরসা ছিল, কারণ দলগত প্রচেষ্টা ছাড়া একা গোল করা সম্ভব নয় বলে তিনি বিশ্বাস করতেন।

মাঠে নামার প্রাক্কালে কোচ তাকে নির্দিষ্ট কিছু কৌশলগত দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন। তাকে মূলত ১০ নম্বর পজিশনে খেলার জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়। মাঠে নেমে তিনি শমিতকে স্ট্রাইকার পজিশনে রেখে নিজে ১০ নম্বর স্থানে চলে যান। কোচের স্পষ্ট নির্দেশ ছিল যেন তিনি আক্রমণভাগে একটু সামনে খেলেন এবং ডি-বক্সের কাছাকাছি এলাকায় বল পাওয়া মাত্রই সুযোগ বুঝে শট নেন। সতীর্থ শমিতের করা হেডার থেকে যখন ডি-বক্সের ভেতর বল তার পায়ে আসে, তখন থেকেই তিনি নিশ্চিত ছিলেন যে শট নিলে জালের দেখা মিলবে। কোচের নির্দেশনা মাঠে শতভাগ বাস্তবায়নের ফলেই গোলের সেই মুহূর্তটি তৈরি হয়েছিল।

ফর্টিস এফসি দলকে এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের মূল পর্বে উন্নীত করা এবং জাতীয় দলের হয়ে বহু প্রতীক্ষিত গোল পাওয়া—সব মিলিয়ে পুরো বিষয়টিকে নিজের ক্যারিয়ারের নতুন একটি সূচনা হিসেবে দেখছেন মোহাম্মদ ইব্রাহিম। দীর্ঘদিন ধরে তিনি এ রকম একটি অনুকূল সুযোগের অপেক্ষায় দিন গুনছিলেন। ফর্টিস এফসিতে নাম লেখানোর পর থেকেই তার একমাত্র লক্ষ্য ছিল কঠোর সাধনা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে সাফের চূড়ান্ত স্কোয়াডে নিজের জায়গা করে নেওয়া এবং মাঠে নেমে গোল আদায় করা। ক্লাব ফুটবলের ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের জন্যই কোচ তাকে দলে নেওয়ার এই সুযোগটি দিয়েছেন। বর্তমানে তাদের সবার সম্মিলিত প্রধান লক্ষ্য আসন্ন সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জয় করা এবং সেই সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য সামনে রেখেই তারা অবিরাম সামনের দিকে এগিয়ে চলেছেন।

সাফ টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে জয় দিয়ে শুভসূচনা করায় দলটির ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা বেশ উজ্জ্বল দেখছেন ইব্রাহিম। উদ্বোধনী ম্যাচে যারা মাঠে নেমে নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দিয়েছেন, তারা সবাই জয়ের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়েছেন। তবে এর পাশাপাশি দলের শক্তি আরও বহুগুণ বেড়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, ফারহান আলী ওয়াহিদ ও হামজা চৌধুরীর মতো দলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুই খেলোয়াড় এখনো দলের সঙ্গে যুক্ত হতে বাকি আছেন। তারা দুজন দলে চলে আসলে মহান আল্লাহর রহমতে বাংলাদেশ দল আরও বেশি ভারসাম্যপূর্ণ এবং শক্তিশালী একটি ইউনিট হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।

সূত্র: আজকের পত্রিকা


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
ইরানে নতুন সামরিক হামলার ইঙ্গিত দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

ইরানে নতুন সামরিক হামলার ইঙ্গিত দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প