ঢাকা | বঙ্গাব্দ

বীডের আখখেতে নারী শ্রমিকদের জরায়ু অপসারণের সংকট

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 28, 2026 ইং
বীডের আখখেতে নারী শ্রমিকদের জরায়ু অপসারণের সংকট ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

ভারতের বীড অঞ্চলের বহু পরিবারের প্রধান অর্থনৈতিক অবলম্বন হলো মৌসুমি আখ কাটার পেশা। ‘মুক্কাদাম’ উপাধির ঠিকাদারেরা সাধারণত এই শ্রমিকদের একত্রিত করে থাকেন। এই মধ্যস্বত্বভোগী ঠিকাদারেরা চিনিকল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা, যাতায়াত পরিচালনা এবং অগ্রিম টাকা প্রদানের মতো বিষয়গুলো পরিচালনা করেন।

স্থানীয় বুলিতে এক দম্পতিকে ‘কোইটা’ বা দল হিসেবে অভিহিত করা হয়। ঠিকাদারের কাছ থেকে নেওয়া দাদনের অর্থ পরিশোধ করার জন্য এই দম্পতিদের নির্দিষ্ট পরিমাণ আখ কাটার বাধ্যবাধকতা থাকে। সাধারণত প্রতি জুটি শ্রমিককে দৈনিক গড়ে তিন হাজার কেজি আখ কাটার লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে হয়।

একাধিক দলের উৎপাদন ও উপার্জনের হিসাব একসঙ্গে করা হয়। এতে কোনো একটি কোইটা কাজ বন্ধ রাখলে বাকিদের ওপর অতিরিক্ত চাপের সৃষ্টি হয়। এছাড়া কোনো নারী শ্রমিক অসুস্থতার কারণে অনুপস্থিত থাকলে অন্য দলগুলো তাঁর ওপর জরিমানা ধারıp করে।

যদিও অনেক নারী অস্ত্রোপচার করানোর পরও তাঁদের দুর্ভোগ ও শারীরিক যন্ত্রণা থেকে মুক্তি মেলেনি। দীর্ঘদিন এই বিষয়টি নিয়ে আন্দোলন ও কাজ করছেন অধিকারকর্মী সংগীতা চাভান।

মারাঠা অঞ্চলে নারীদের জরায়ু কেটে ফেলার অস্বাভাবিক প্রবণতার বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় আসে ২০১৯ সালে। ওই সময় শিবসেনার (একনাথ শিন্ডে গোষ্ঠী) নেত্রী ও রাজনীতিবিদ ডা. নীলম গোর্হে একটি দাপ্তরিক প্রতিবেদন প্রকাশ করলে বিষয়টি জনসমক্ষে জোরালোভাবে উঠে আসে।

সংগীতা চাভানের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে যে, দরিদ্র নারীদের সুলভ মূল্যে সরকারি প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসার ব্যবস্থা না করিয়ে অনেক সময় নির্দিষ্ট কিছু বেসরকারি ক্লিনিকে পাঠানো হয়। এসব চিকিৎসা কেন্দ্রে সঠিক নিয়ম ও বিধি না মেনেই অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করা হয়, যার ফলে ভুক্তভোগী নারীরা পরবর্তী সময়ে নানা ধরনের জটিল শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত হন।

ভারতের প্রান্তিক এলাকার নারীদের সরকারি স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনতে সরকার ‘আশা’ নামক স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ করেছে। এই কর্মীরা তৃণমূল পর্যায়ে মা ও শিশুর স্বাস্থ্য, চিকিৎসা সহায়তা এবং স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করেন।

অধিকারকর্মী সংগীতার দাবি অনুযায়ী, রোগীদের বিশেষ ক্লিনিকে রেফার করার বিনিময়ে কিছু মানুষ আর্থিক সুবিধা পেয়ে থাকেন। তবে মহারাষ্ট্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত আশা কর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করে এই অভিযোগের কোনো জোরালো সত্যতা পাওয়া যায়নি।

বীডের ওয়াদওয়ানি অঞ্চলের মাঠকর্মী গঙ্গা শেভান্তে জানান, কম বয়সি নারীদের জরায়ু অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ফেলে দেওয়ার ঘটনা তিনি শুনেছেন। তবে এই অপারেশনগুলো সরকারি হাসপাতালে হয়েছে নাকি বেসরকারি ক্লিনিকে, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন। পাশাপাশি, রোগী পাঠানোর দায়ে তিনি নিজে কখনো কোনো আর্থিক লেনদেন করেননি বলেও দাবি করেন।

এদিকে সবিতা নামের এক নারী শ্রমিক জরায়ু অপসারণের দীর্ঘ কয়েক মাস পরেও নিয়মিত রক্তপাত ও তীব্র শারীরিক ব্যথায় ভুগছেন। পুনে শহরে যাওয়ার পর তিনি জানতে পারেন যে তাঁর শরীরে মারাত্মক ইনফেকশন বা সংক্রমণ হয়েছে। চিকিৎসাকেন্দ্র থেকে তাঁর অস্ত্রোপচারের নথিপত্র বা প্রতিবেদন চাইতে গেলে তাঁকে তা প্রদানে অস্বীকৃতি জানানো হয় বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

সূত্র: আজকের পত্রিকা


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
নতুন মন্ত্রিসভার প্রথম কর্মদিবস: সচিবালয়ে উৎসবের আমেজ

নতুন মন্ত্রিসভার প্রথম কর্মদিবস: সচিবালয়ে উৎসবের আমেজ