নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের কারাগারগুলোতে বন্দী থাকা পাঁচশ আটজন দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির প্রাণদণ্ডের আদেশ বাতিল করার মতো একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন সেখানকার শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব গভর্নর গ্যাভিন নিউসম। এই বড় সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়নের পথে আসার প্রাক্কালে তিনি নিজের দীর্ঘ বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের অভিজ্ঞতার কথা গভীরভাবে স্মরণ করেছেন।
প্রশাসনিক দায়িত্বে প্রায় ত্রিশ বছর পার করার পর রাষ্ট্র কাঠামোর আইনি ক্ষমতার সীমারেখা সম্পর্কে নিজের সুনির্দিষ্ট উপলব্ধির কথা তিনি একটি চিঠির মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন। এই বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়ার পেছনের প্রধান কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, সরকার অনুমোদিত মৃত্যুদণ্ডের বিধান কোনোভাবেই তাদের স্থানীয় সাংস্কৃতিক ও সামাজিক আদর্শের সঙ্গে মিলে যায় না।
এই ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বিচার বিভাগের কাঠামোগত ভিতকে অত্যন্ত দুর্বল করে তোলে এবং সমাজের সামগ্রিক মর্যাদাকেও মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করে বলে তিনি মনে করেন। তার মতে, মৃত্যুদণ্ড আদতে একটি সম্পূর্ণ অকার্যকর ব্যবস্থা হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে এবং অত্যন্ত নৃশংস অপরাধের ক্ষেত্রে এটি সঠিক সমাধান মনে হলেও কোনো অবস্থাতেই নৈতিকভাবে রাষ্ট্র কারও জীবন কেড়ে নিতে পারে না।
বিচার প্রক্রিয়ায় ভুল হওয়ার কারণে কোনো নির্দোষ মানুষ কঠোর শাস্তির মুখে পড়ার ঝুঁকি এবং বিচার ব্যবস্থায় বিদ্যমান জাতিগত বৈষম্যের মতো বিষয়গুলোর কারণে এই পদ্ধতি সুষ্ঠুভাবে কার্যকর করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিজের গৃহীত এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের সমস্ত আইনি বাধ্যবাধকতা ও রাজনৈতিক জবাবদিহিতা তিনি নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন।
অঙ্গরাজ্যের সংবিধান প্রদত্ত ক্ষমতার বলে জনকল্যাণের স্বার্থে নিজের বিবেকের তাড়নায় এই কঠোর অথচ সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করাকেই তিনি নিজের মূল কর্তব্য হিসেবে বিবেচনা করেছেন। তবে তার এই চাঞ্চল্যকর ও দূরদর্শী সিদ্ধান্তকে একেবারে চূড়ান্ত রূপ দিতে হলে নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক।
এই পুরো পরিকল্পনাটি বাস্তবে রূপ দিতে হলে ক্যালিফোর্নিয়া সুপ্রিম কোর্টের মোট সাতজন বিচারপতির মধ্যে কমপক্ষে চারজনের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন বা সম্মতি অর্জন করা একান্তভাবে প্রয়োজন হবে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর