ঢাকা | বঙ্গাব্দ

রাবিতে ব্যাডমিন্টন কোর্ট দখল নিয়ে দুই বিভাগের সংঘর্ষে আহত ৩

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Nov 6, 2026 ইং
রাবিতে ব্যাডমিন্টন কোর্ট দখল নিয়ে দুই বিভাগের সংঘর্ষে আহত ৩ ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শীতকালীন খেলাধুলার একটি ব্যাডমিন্টন কোর্ট তৈরিকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ এবং নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের মাঝে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা আনুমানিক সাতটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনবহুল সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী ভবনের চত্বরে এই অনাকাঙ্ক্ষিত মারামারির সূত্রপাত হয়। দুই পক্ষের এই বিরোধের জেরে উভয় বিভাগের মোট তিনজন শিক্ষার্থী আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

সংঘর্ষে আহত তিন শিক্ষার্থীর নাম ও পরিচয় নিশ্চিত করা গেছে। তাঁরা হলেন নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আলী চৌধুরী, একই বিভাগের মো. শাওন এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তানভীর হোসাইন।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এবং দুই সংশ্লিষ্ট বিভাগের একাধিক শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে ঘটনার একটি বিস্তারিত বিবরণ পাওয়া গেছে। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সিরাজী ভবনের সামনের ফাঁকা জায়গায় ব্যাডমিন্টন খেলার একটি নতুন কোর্ট স্থাপন করা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দানা বাঁধে। এক পক্ষের জোরালো দাবি ছিল যে, তারা ঘটনার কয়েক দিন আগেই সেখানে বাঁশ পুঁতে সুনির্দিষ্টভাবে খেলার জায়গাটি নির্ধারণ করে রেখেছিল। পরবর্তীতে অন্য বিভাগের ছাত্ররা ঠিক একই জায়গায় নতুন করে কোর্ট নির্মাণের উদ্যোগ নিলে দুই পক্ষের মাঝে তীব্র বিরোধের সৃষ্টি হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে মৌখিক কথা–কাটাকাটি চললেও মুহূর্তের মধ্যে তা হাতাহাতি এবং রক্তক্ষয়ী মারামারিতে রূপ নেয়।

আহত শিক্ষার্থী তানভীর হোসাইন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ছাত্র। তিনি ঘটনার বিবরণ দিয়ে একটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উত্থাপন করেছেন। তাঁর ভাষ্যমতে, সেই সংঘাতের মুহূর্তে প্রতিপক্ষ বিভাগের শিক্ষার্থীরা সংঘবদ্ধ হয়ে তাঁদের ওপর চড়াও হন এবং আক্রমণ চালান। সে সময় তাঁকে জোরপূর্বক ব্যাডমিন্টন কোর্টের জন্য রাখা বাঁশ দিয়েই আঘাত করা হয়। এই আকস্মিক হামলায় তাঁর নাক এবং চোখের নিচের অংশে গুরুতর আঘাত লাগে এবং প্রচুর রক্তপাত ঘটে। পরবর্তী সময়ে তাঁকে দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে তাঁর প্রাথমিক চিকিৎসা সম্পন্ন করা হয়। তানভীরের জোরালো দাবি, তাঁরাই অনেক দিন আগে সেখানে প্রথম কোর্টটি তৈরি করেছিলেন এবং অপর পক্ষের দাবির পক্ষে সেখানে কোনো ধরনের দৃশ্যমান চিহ্ন বা সত্যতার প্রমাণ ছিল না।

অন্যদিকে, সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি দাবি করেছেন নৃবিজ্ঞান বিভাগের এক শিক্ষার্থী। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি ঘটনার পেছনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। তাঁর কথা অনুযায়ী, তাঁরা বেশ কিছুদিন আগেই কোর্ট নির্মাণের উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট স্থানে বাঁশ পুঁতে জায়গাটি আগে থেকেই দখল ও নির্ধারণ করে রেখেছিলেন। তিনি আরও জানান যে, কিছুদিন আগে সেখানে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের একটি অ্যালামনাই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যার কারণে সেখানে আরও কিছু অতিরিক্ত বাঁশ পোঁতা হয়েছিল। অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর আয়োজকরা ওই বিভাগের বাঁশের সঙ্গে তাদের নির্ধারিত বাঁশগুলোও তুলে ফেলেন। পরবর্তী সময়ে সেই খালি জায়গায় আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ছাত্ররা নতুন করে কোর্ট তৈরির ইচ্ছা প্রকাশ করলে তা নিয়ে কিছুটা মনোমালিন্য তৈরি হয় এবং তা মেনে নেওয়ার কথা তখন বলা হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন।

নৃবিজ্ঞান বিভাগের ওই শিক্ষার্থী আরও বর্ণনা করেন যে, তাঁদের বিভাগের কতিপয় জুনিয়র শিক্ষার্থী যখন পুনরায় সেখানে কোর্ট তৈরি করতে যান, তখন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের প্রায় ১৫ থেকে ২০ জন শিক্ষার্থী সেখানে উপস্থিত হয়ে তাঁদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন এবং একপর্যায়ে তাঁদের ওপর মারধর শুরু করেন। সেই মুহূর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মহোদয় ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে মীমাংসা করে দিলে তাঁরা সেখান থেকে চলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু দুঃখজনকভাবে ঠিক সেই মুহূর্তেই তাঁদের ওপর পুনরায় অতর্কিত হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক এ এইচ এম খুরশিদ আলম। তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান যে, এই অনভিপ্রেত মারামারির ঘটনায় মোট তিনজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। তাঁদের শারীরিক আঘাতের বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, আহতদের মধ্যে একজনের নাকে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে, অন্যজনের মাথায় সামান্য ক্ষত তৈরি হয়েছে এবং তৃতীয় জন হাতে গুরুতর ব্যথা পেয়েছেন। এদের সবাইকে তাৎক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে যার হাতে আঘাত লেগেছিল, তাঁর হাতের হাড়ের কোনো ক্ষতি বা ভাঙন ধরেছে কি না তা শতভাগ নিশ্চিত হওয়ার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে এক্স-রে করানো হয়েছিল। তবে সৌভাগ্যবশত এক্স-রে পরীক্ষায় কোনো ধরনের জটিলতা বা সমস্যা ধরা পড়েনি।

চিকিৎসা প্রক্রিয়া সফলভাবে শেষ হওয়ার পর তিনজন আহত শিক্ষার্থীই সুস্থ অবস্থায় নিজ নিজ আবাসিক হলে বা আবাসস্থলে ফিরে গেছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বর্তমানে তাঁদের কারোরই শারীরিক অবস্থা গুরুতর বা আশঙ্কাজনক নয়।

পুরো ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে এবং যথাযথ তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা স্পষ্ট করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, মূলত ব্যাডমিন্টন খেলার কোর্টে কে আগে খুঁটি পুঁতেছে এবং কে পরে পুঁতেছে, এই তুচ্ছ বিষয়টিকে কেন্দ্র করেই দুই বিভাগের ছাত্ররা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছিল। তিনি জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রথম দফায় তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি মীমাংসা করে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে আবারও দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অবশেষে তৃতীয় দফায় দুই বিভাগের সম্মানিত শিক্ষকদের ডেকে এনে আলোচনার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের যার যার মতো চলে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। প্রক্টর আরও জানান, শিক্ষকদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার পর মমতাজউদ্দিন ভবনের সামনে গিয়ে আবারও তারা সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।

সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
চার দশকে সবচেয়ে বাজে সূচনা, অবনমন অঞ্চলে ম্যানচেস্টার ইউনাইট

চার দশকে সবচেয়ে বাজে সূচনা, অবনমন অঞ্চলে ম্যানচেস্টার ইউনাইট