নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
বিমানবাহিনীর সাবেক এক কর্মকর্তার রহস্যজনক হত্যাকাণ্ড মামলায় অভিযুক্ত উনিশ বছর বয়সী এক তরুণীকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। টানা দুই ধাপে পুলিশি হেফাজতে রেখে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের পর শুক্রবার বিচারকের সামনে হাজির করা হলে এই আদেশ দেওয়া হয়।
তদন্তকারী কর্মকর্তা ও নৌ পুলিশের টঙ্গী ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন আদালতের কাছে লিখিতভাবে আবেদন জানান যে, মামলার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত যেন ওই তরুণীকে কারাগারেই আটকে রাখা হয়।
শুনানি প্রক্রিয়া শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ আসামিকে কারাগারে আটক রাখার এই নির্দেশ দেন। পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম সাংবাদিকদের কাছে এই আইনি পদক্ষেপের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, আদালত চত্বরে শুনানিকালে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জামিন পাওয়ার কোনো আবেদনই পেশ করেননি।
কারাগারে পাঠানোর জন্য দেওয়া পুলিশের মূল আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, হেফাজতে নিয়ে দফায় দফায় প্রশ্ন করার মুখে ওই নারী নানা গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার বিবরণ প্রকাশ করেছেন।
মামলার তদন্তের স্বার্থে অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে সেই সমস্ত তথ্য এখন গভীরভাবে মিলিয়ে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, জিজ্ঞাসাবাদের সময় অনেকগুলো স্পর্শকাতর প্রশ্নের মুখে ওই তরুণী নানা কৌশলে উত্তর দেওয়া এড়িয়ে গেছেন এবং অধিকাংশ সময় চুপ থেকেছেন।
আবেদনে আরও যোগ করা হয়েছে যে, এই একই হত্যা মামলার অপর সন্দেহভাজন অভিযুক্ত আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপ বর্তমানে পুলিশি রিমান্ডের আওতায় রয়েছেন।
গ্রেপ্তারকৃত দীপ ও ওই তরুণীর বয়ানের মধ্যে কোথায় মিল বা অমিল রয়েছে, তা খুঁজে বের করতে উভয়ের বক্তব্য একসঙ্গে মিলিয়ে দেখা অত্যন্ত জরুরি।
নিহত তাহসিফের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের কললিস্ট বা সংযোগ বিবরণী পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ওই তরুণীর নম্বরের সঙ্গে একাধিকবার তাঁর ফোনে কথা হয়েছিল।
প্রাথমিক পর্যায়ের অনুসন্ধান থেকেও এই তরুণীর সঙ্গে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের সরাসরি যোগসূত্র থাকার জোরালো প্রমাণ বা আলামত পাওয়া যাচ্ছে।
তদন্তের জট খুলতে এবং মূল রহস্য উন্মোচন করতে পরবর্তীতে এই তরুণীকে পুনরায় রিমান্ডে এনে মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদ করার জোরালো প্রয়োজন হতে পারে।
গত মাসের সাতাশ তারিখের সন্ধ্যায় নিজের বাসস্থান থেকে বাইরে বের হওয়ার পর থেকে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যান সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফ সাউরি।
তার পরের দিনই তুরাগ নদের বুক থেকে তাঁর নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়, যা গোটা এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে।
এই মর্মান্তিক ঘটনার পর জিজ্ঞাসাবাদের উদ্দেশ্যে নিহত তাহসিফের বন্ধু শাহরিয়ার রেজা দীপকে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
এরপর গত মাসের ত্রিশ তারিখ রাতে উত্তরখান থানায় গিয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহতের বাবা এ কে এম এনায়েতুল করিম।
মামলা নথিভুক্ত হওয়ার পরপরই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক থাকা বন্ধু শাহরিয়ার রেজা দীপকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
এর ঠিক একদিন পর একتیশ তারিখের রাতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ওই তরুণীকেও সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
তাঁদের দুজনকে বিভিন্ন সময়ে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছিল, যার মধ্যে আজ এই তরুণীকে রিমান্ড মেয়াদ শেষে কারাগারে পাঠানো হলো।
অন্যদিকে, অপর অভিযুক্ত দীপকে গতকাল বৃহস্পতিবার আদালতের মাধ্যমে তৃতীয় দফায় আরও তিন দিনের জন্য রিমান্ডে নেওয়ার নতুন আদেশ দিয়েছেন বিচারক মো. মনিরুল ইসলাম।
সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর