নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
শুক্রবার এক ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হওয়ার পর শনিবার সকালে হেলারঘাট এলাকায় মুক্তেশ্বরী নদী থেকে বস্তাবন্দী অবস্থায় রঞ্জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতের স্বজন নারায়ণ চন্দ্র জানান, পূর্বনির্ধারিত একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য রঞ্জন ঘর ছেড়েছিলেন।
অনুষ্ঠানে থাকা অবস্থাতেই দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে প্রয়োজনীয় ওষুধ কেনার কথা বলে তিনি স্থানীয় কাটাখালী বাজারের দিকে যান। এরপর থেকে তাঁর কোনো সন্ধান না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন এবং রাত ১০টার পর থেকে তাঁর খোঁজখবর নেওয়া শুরু করেন।
সারাদেশে খোঁজাখুঁজির পরও রাতে তাঁর সন্ধান মেলেনি, অবশেষে শনিবার সকালে হেলারঘাট নামক স্থানে বস্তাবন্দী একটি মরদেহ উদ্ধারের সংবাদ ছড়িয়ে পড়ে। এই খবর পাওয়ার পর রঞ্জনের স্বজনেরা ঘটনাস্থলে দ্রুত উপস্থিত হয়ে উদ্ধারকৃত সেই মরদেহটি রঞ্জনের বলেই শনাক্ত করেন।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে নারায়ণ চন্দ্র আরও উল্লেখ করেন যে, ঘটনার দিন বাসা থেকে যখন রঞ্জন বের হয়েছিলেন, তখন তাঁর গলায় প্রায় এক ভরি ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন এবং দুই হাতে দুটি আংটি পরা ছিল।
উদ্ধার অভিযانের সময় তাঁর হাতে রূপার আংটিটি অক্ষত অবস্থায় পাওয়া গেলেও, গলায় থাকা মূল্যবান স্বর্ণের চেইন এবং হাতের সোনার আংটিটি গায়েব ছিল এবং সেগুলোর কোনো সন্ধান মেলেনি।
পরিবার ও স্বজনদের জোরালো ধারণা, মূলত রঞ্জনের শরীরে থাকা মূল্যবান স্বর্ণালংকারগুলো ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই কোনো দুর্বৃত্ত বা ছিনতাইকারীচক্র তাঁকে ঠান্ডা মাথায় শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে।
পরবর্তীতে হত্যাকাণ্ডের সমস্ত প্রমাণ ও অপরাধ লুকাতে তারা নিহতের মরদেহ একটি বস্তার ভেতরে ভরে খুব সাবধানে মুক্তেশ্বরী নদীতে ফেলে দিয়ে পালিয়ে যায় বলে স্বজনেরা ধারণা করছেন।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর