নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
রাজধানীর মিরপুর এলাকায় অবস্থিত সরকারি জাতীয় চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ তাদের উদ্বৃত্ত চিত্রা হরিণ আগ্রহী ক্রেতাদের নিকট বিক্রির উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এই প্রক্রিয়া অনুযায়ী প্রতিটি হরিণের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ঠিক পঞ্চাশ হাজার টাকা মাত্র। তবে কোনো একক প্রাণী ক্রয়ের সুযোগ রাখা হয়নি, ক্রেতাকে আবশ্যিকভাবে অন্তত এক জোড়া হরিণ একসঙ্গে ক্রয় করতে হবে।
বর্তমানে এই সরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রায় তিনশো পঞ্চাশটি চিত্রা হরিণ রয়েছে বলে জানা গেছে। প্রাণীগুলোর জন্মহার অত্যন্ত বেশি হওয়ার ফলে নির্দিষ্ট সীমানার মধ্যে তাদের সংখ্যা মাত্রাতিরিক্তভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে কর্তৃপক্ষের জন্য খাঁচায় বা নির্দিষ্ট আবাসে পর্যাপ্ত জায়গা সংকুলানের ক্ষেত্রে তীব্র সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।
সংবাদমাধ্যমকে এই সার্বিক পরিস্থিতির কথা জানিয়েছেন জাতীয় চিড়িয়াখানার সম্মানিত পরিচালক মো. শাহিনুর আলম। তিনি গণমাধ্যমকে পরিষ্কারভাবে জানিয়েছেন যে এই অতিরিক্ত প্রাণীগুলোর সংখ্যা কমানো এবং জায়গার সংকট নিরসনের জন্যই মূলত এই বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
যাঁরা ব্যক্তিগত শৌখিনতা থেকে অথবা বাণিজ্যিক কোনো উদ্দেশ্যে নিজ বাড়িতে হরিণ লালন-পালন করতে ইচ্ছুক, তাঁদের জন্য কঠোর কিছু নিয়মের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে চাইলে বন অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে আগে থেকেই বিশেষ পূর্বানুমতি গ্রহণ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
অনুমতির পাশাপাশি কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্ধারিত সব ধরনের শর্ত যথাযথভাবে মেনে চলাও প্রত্যেক ক্রেতার জন্য অপরিহার্য। বন অধিদপ্তরের এই পূর্বশর্তগুলো পূরণ সাপেক্ষে তবেই শৌখিন বা বাণিজ্যিক পালনের জন্য হরিণ হস্তান্তরের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
পরিচালক আরও নিশ্চিত করেছেন যে এই বন্যপ্রাণীগুলো সবসময় কঠোর রাষ্ট্রীয় নজরদারির আওতাধীন থাকে। কোনো অবস্থাতেই মাংস উৎপাদনের উদ্দেশ্যে বা খাওয়ার জন্য এগুলো বিক্রি কিংবা জবাই করার বিন্দুমাত্র সুযোগ রাখা হয়নি।
সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর