নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক অঞ্চলে দুটি পৃথক সংগঠনের পক্ষ থেকে আহ্বান করা অবরোধের কারণে সার্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ অচল রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার সংঘটিত আকস্মিক গোলাগুলির ঘটনার পর থেকেই পুরো এলাকায় এক আতঙ্কজনক ও থমথমে পরিবেশ বজায় রয়েছে।
আজ শুক্রবার সকালের দিকে স্থানীয় বাঘাইহাট বাজার এলাকায় গিয়ে জনশূন্য ও নিস্তব্ধ পরিবেশ লক্ষ্য করা গেছে। সাধারণত এই সময়টাতে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের উপস্থিতিতে বাজারটি অত্যন্ত জমজমাট ও প্রাণবন্ত থাকলেও, চলমান পরিস্থিতিতে বাজারের অধিকাংশ দোকানপাটই পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়েছে।
খোলা থাকা গুটিকয়েক দোকানের ক্ষেত্রেও কোনো ক্রেতার উপস্থিতি লক্ষ করা যায়নি এবং চারপাশ প্রায় ফাঁকা ছিল। গ্রামীণ এই জনপদে স্থানীয়দের যাতায়াতও অত্যন্ত সীমিত হয়ে পড়েছে এবং সাধারণ মানুষকে বাধ্য হয়ে পায়ে হেঁটে নিজেদের গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দিতে দেখা গেছে।
পরিবহন ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকার কারণে সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তির মধ্য দিয়ে দিন পার করতে হচ্ছে। বাঘাইহাট স্টেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত লাইনম্যান মো. জসিম টেলিফোনে জানান যে, পিকেটাররা বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নেওয়ায় এই সড়কে সব ধরনের স্থানীয় গাড়ি চলাচল বন্ধ রয়েছে।
সাজেক রিসোর্ট-কটেজ মালিক সমিতির সহসাধারণ সম্পাদক মতিজয় ত্রিপুরা মুঠোফোনে নিশ্চিত করেছেন যে পর্যটকশূন্য হয়ে পড়েছে পুরো সাজেক এলাকা। উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে ভ্রমণপিপাসুদের পূর্বনির্ধারিত সমস্ত রুমের বুকিং ইতোমধ্যে বাতিল করা হয়েছে এবং কোনো ধরনের গাড়িও চলছে না।
গণ অধিকার রক্ষা কমিটি এবং সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন নামের দুটি স্থানীয় সংগঠনের যৌথ ডাকে এই অবরোধ কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটির সদস্যসচিব বিজয় কান্তি চাকমা জানান যে তাদের পূর্বঘোষিত সড়ক অবরোধ কর্মসূচি এখনো বহাল রয়েছে এবং সাজেকের ১০ নম্বর ও ১৪ কিলোমিটার এলাকায় তাদের পিকেটিং অব্যাহত আছে।
সার্বিক বিষয়ে রাঙামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী জানান যে বাঘাইছড়ির উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে তিনি পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত হয়েছেন। তার ভাষ্যমতে, আগের দিনের তুলনায় বর্তমান পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন হলেও প্রশাসন সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখছে।
সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে আহূত তৃতীয় দফার এই অবরোধের প্রথম দিনেই গত বৃহস্পতিবার সাজেকে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। সকালের দিকে সাজек উজো বাজার এলাকায় অবরোধ ঘিরে চরম উত্তেজনা তৈরি হয় এবং পর্যটকদের বহনকারী গাড়িগুলোকে আটকে দেওয়ার চেষ্টা করে পিকেটাররা।
পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অবরোধকারীদের সরিয়ে দিলে পর্যটকবাহী গাড়িগুলো সামনের দিকে অগ্রসর হতে সক্ষম হয়। এরপর বেলা এগারোটার দিকে সেখানে গুলিবিনিময়ের ঘটনা ঘটে বলে নিশ্চিত করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয় যে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) সশস্ত্র কর্মীরা এই গুলিবর্ষণ চালিয়েছে। যদিও পরবর্তীতে ইউপিডিএফের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করা হয়েছে।
এমন উত্তপ্ত ও ভীতিকর পরিস্থিতির মধ্যেই গতকাল দুপুরের দিকে সাজেকে আটকে পড়া প্রায় দুই হাজার নয়শত তেত্রিশজন পর্যটককে নিরাপত্তা বাহিনীর সুনির্দিষ্ট পাহারায় নিরাপদে খাগড়াছড়ি শহরে পৌঁছে দেওয়া হয়। তবে ফেরার পথে আকস্মিক অবরোধ ও গোলাগুলির মুখোমুখি হওয়ায় পর্যটকদের মনে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল।
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর