ঢাকা | বঙ্গাব্দ

বিয়ে ছাড়াই হলুদ ও ফটোশুট, কাজি ডেকে বললেন ব্যতিক্রমী যুগল

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Nov 8, 2026 ইং
বিয়ে ছাড়াই হলুদ ও ফটোশুট, কাজি ডেকে বললেন ব্যতিক্রমী যুগল ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার সব আয়োজন সম্পন্ন হলেও প্রকৃত বিবাহ সম্পন্ন না করে কেবল ছবি তোলার এক অভিনব ঘটনা ঘটেছে। একটি কমিউনিটি সেন্টারে বড় পর্দার সামনে বসে সবাই গতকালের গায়েহলুদ অনুষ্ঠানের স্থিরচিত্রগুলো গভীর মনোযোগের সঙ্গে অবলোকন করছিলেন। হবু বর ও কনে একে অপরের পাশে উপবিষ্ট ছিলেন, যাদের গায়ে ছিল হলুদ রঙের বিশেষ পোশাক এবং গলায় শোভা পাচ্ছিল সুদৃশ্য ফুলের মালা। সোফায় আরামদারে বসে থাকা বন্ধুরা স্ক্রিনে ভেসে ওঠা ছবিগুলো দেখছিলেন, যেখানে কনেকে সলজ্জ ভঙ্গিতে হাত দিয়ে মুখ ঢেকে রাখতে দেখা যায়।

উপস্থিত বন্ধুদের মধ্যে নাবিলা ছবিগুলো দেখে মন্তব্য করেন যে পুরো বিষয়টি একদম সিনেমার মতো এবং মাথা নষ্ট করা। এর পরের ফ্রেমে দেখা যায় কনের দিকে তাকিয়ে বর মুচকি হাসছেন, যদিও সেই হাসির নির্দিষ্ট কোনো কারণ সহজে অনুমেয় ছিল না। কনের মুখের হাসির ভেতরে একধরনের বিশেষ ইঙ্গিত লুকিয়ে আছে বলে মনে হচ্ছিল এবং বরকে কিছুটা বোকা গোছের বা গাধা টাইপের লাগছে বলে মনে হচ্ছিল।

বন্ধুদের আড্ডায় সাফওয়ান মন্তব্য করেন যে তাদের ভাই তো অবস্থা বেশ খারাপ বা ডাউন ব্যাড পর্যায়ে চলে গেছে। অন্যদিকে রাফি ছবিগুলোর দিকে তাকিয়ে বলে ওঠে যে বরের চোখে ভালোবাসার ভাবটা কম বরং ঘুমের ভাবটাই বেশি দেখা যাচ্ছে। বন্ধুদের এমন সব রসাত্মক মন্তব্যে চারপাশ হাসিতে ফেটে পড়লেও বর নিজে কিন্তু তখন কোনো হাসি হাসছিলেন না।

হাসাহাসির এই পর্বের একপর্যায়ে সেখানে একটি ভিডিও প্রদর্শন করা শুরু হয়, যেখানে দেখা যায় বর অত্যন্ত নিচু স্বরে কনের কানে কানে কিছু একটা বলছেন। সেই কথা শোনার পর কনে হাসতে হাসতে দুই হাত দিয়ে মুখ চেপে ধরে সামনের দিকে ঝুঁকে পড়েন।

বন্ধুদের মাঝে আনজান তখন অনুমান করে বলেন যে বর হয়তো কনেকে ফিসফিস করে বলেছেন যে তিনি তার জীবনের সবচেয়ে অদ্ভুত বা পিকিউলিয়ার ঘটনা। তবে নাবিলার ধারণা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন, সে মত প্রকাশ করে বলে যে বর নিশ্চয়ই কনেকে ক্যামেরার দিকে তাকাতে নিষেধ করে ডাবল চিন বা দ্বৈত থুতনি দেখা যাওয়ার আশঙ্কা এড়াতে বলেছেন।

রাফি উচ্চস্বরে হাসতে হাসতে আরেকটি সম্ভাবনার কথা বলে জানায় যে বর হয়তো কেবল হাসতে থাকার জন্যই বলেছেন কারণ তখন ভিডিও ধারণ করা হচ্ছিল। ঠিক সেই মুহূর্তে সেখানে কাজি সাহেবের আগমন ঘটে, যাঁকে বেশ তাড়াহুড়ো ও ব্যস্ত ভঙ্গির অধিকারী বলে মনে হচ্ছিল।

বর নিজে দ্রুত সামনে এগিয়ে গিয়ে কাজি সাহেবকে নির্ধারিত সামনের চেয়ারটিতে সম্মানের সঙ্গে বসান। কাজি সাহেব উপস্থিত সবাইকে উদ্দেশ করে বলেন যে সবাই যদি উপস্থিত থাকেন তবে তিনি দ্রুত কাবিননামা লেখার কাজ শেষ করে বিবাহ পড়ানোর মূল কার্যক্রম শুরু করতে পারেন, কারণ তাঁর আরেকটি বিবাহ পড়ানোর কাজে অন্য কোথাও যাওয়ার তাড়া রয়েছে।

ছেলের মুখ থেকে এমন কথা শোনা মাত্রই কাজি সাহেব সম্পূর্ণ হতভম্ব হয়ে যান এবং কিংকর্তব্যবিমূঢ় ও চরম বিস্ময় প্রকাশ করে জানতে চান যে তারা কেবল ছবিই তুলবেন কিন্তু বিয়ে করবেন না?

ছেলের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে তাদের দুজনেরই গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন হয়েছে এবং এখন তাদের একজন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মাস্টার্স করতে যাচ্ছেন এবং অন্যজন যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমাচ্ছেন। মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন শেষে তারা স্বদেশে ফিরে এসে আনুষ্ঠানিকভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হবেন।

মেয়েটি ব্যাখ্যা করে বলেন যে সেই সময় যদি হঠাৎ করেই বিয়ের তাড়া পড়ে যায়, তবে তারা ছবি তোলার জন্য পর্যাপ্ত সময় বের করতে পারবেন না। মানুষের জীবনে বিয়ের ছবি তোলার সুযোগ তো মোটে একবারই আসে এবং সেদিনের দিনে গুরুজন বা মুরব্বিরা যদি এই ধরনের আধুনিক ছবি তোলার বিষয়টি দেখতে পান, তবে তারা চরম রাগ করবেন।

মুরব্বিরা তখন ছবি তোলার অনুমতি তো দেবেনই না, উপরন্তু তাদের কাছে মূল বিষয়টি হলো প্রথাগত বিয়ে সম্পন্ন করা, ফলে ছবি তোলার জন্য এত দীর্ঘ সময় ব্যয় করা তাদের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ খামোখা একটি ব্যাপার বলে মনে হবে। এই সমস্ত ঝামেলা এড়ানোর জন্যই তারা আগেভাগে হলুদ, মেহেদি এবং বিয়ের মূল অনুষ্ঠানের সমস্ত ছবি তুলে সংরক্ষণ করে রাখছেন।

কাজি সাহেব এই অদ্ভুত কথা শোনার পর চারপাশের পরিবেশের দিকে একবার চোখ বুলিয়ে নিলেন, যেখানে চোখে পড়ল নান্দনিক ফুলের সাজসজ্জা, সুস্বাদু কেক, আংটির বাক্স, বিয়ের বিশেষ পোশাক এবং প্রফেশনাল ফটোগ্রাফার। পুরো কমিউনিটি সেন্টারে যেন এক পরিপূর্ণ বিয়ের সব আয়োজনই নিখুঁতভাবে উপস্থিত রয়েছে।

পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে কাজি সাহেব মন্তব্য করেন যে তিনি বুঝতে পেরেছেন বিয়ের সমস্ত ব্যবস্থা বা আয়োজনই এখানে মজুত আছে, কেবল প্রকৃত বিবাহটাই অনুপস্থিত রয়েছে। ঠিক সেই মুহূর্তেই ফটোগ্রাফার সাহেব ভীষণ ব্যস্ত হয়ে সবাইকে ডেকে বলেন যে এখন পারিবারিক ছবি তোলার পর্ব শুরু হবে এবং সবাইকে একসঙ্গে লাইনে দাঁড়িয়ে পোজ দেওয়ার অনুরোধ জানান।

কাজি সাহেব অবাক হয়ে লক্ষ্য করলেন যে বর ও কনে ছাড়া সেখানে ছবি ফ্রেমে বন্দি হওয়ার জন্য আরও আটজন ব্যক্তি দাঁড়িয়ে আছেন। অথচ উপস্থিত এই আটজন মানুষের কাউকেই তিনি বর বা কনেপক্ষের আসল পরিবারের সদস্য হিসেবে এর আগে কখনোই দেখেননি।

কাজি সাহেব কৌতূহলী হয়ে তাদের পরিচয় জানতে চাইলে ছেলেটি অকপটে জানায় যে এরা সবাই মূলত ওই কমিউনিটি সেন্টারের কর্মরত দারোয়ান এবং ক্লিনার বা পরিচ্ছন্নতাকর্মী। এই কথা শোনার পর কাজি সাহেব আবারও চরম বিস্ময়ে একেবারে বিমূঢ় হয়ে পড়েন এবং মুখ হা করে তাকিয়ে থেকে শুধু দারোয়ান শব্দটির পুনরাবৃত্তি করেন।

মেয়েটি তাদের এই সিদ্ধান্তের পেছনের যুক্তি দিয়ে বলেন যে প্রকৃত ও আসল আত্মীয়স্বজনদের যদি এই অনুষ্ঠানে ডেকে আনা হতো, তবে তারা নানা বিষয়ে হাজারটা প্রশ্ন করতেন, অকারণে বিরক্ত হতেন এবং তাদের আচরণে বকাঝকা করতেন। সমস্ত ধরনের অনাবশ্যক ঝামেলা এড়ানোর উদ্দেশ্যেই তারা অত্যন্ত সুকৌশলে এই সাধারণ কর্মীদের পরিবারের সদস্য হিসেবে সাজিয়েছেন।

এই লোকজনগুলো ছবিতে বর-কনের ঠিক পেছনে চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকবেন এবং পরবর্তীতে ছবি সম্পাদনার সময় তাদের মুখগুলো ব্লার বা অস্পষ্ট করে দেওয়া হবে, যাতে দূর থেকে তাদের আসল চেহারা বা পরিচয় কারো কাছেই স্পষ্ট হয়ে ধরা না পড়ে।

কাজি সাহেব কিছু সময় সম্পূর্ণ চুপচাপ ও নির্বাক থাকার পর বেশ মজার ছলে অনুরোধ করেন যে তবে তার নিজেরও যেন একটা ছবি তুলে নেওয়া হয়। সেই সঙ্গে তিনি পরামর্শ দেন যে সেই ছবিটি যেন ফেসবুকে আপলোড করে ক্যাপশনে লিখে দেওয়া হয় যে বিয়ে পড়ানো দরকার, বিয়ে নয় এবং নিচে যেন তাঁর পরিচয় হিসেবে কাজি হান্নান নামটি জুড়ে দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে কাজি সাহেবের সেই বিশেষ ছবি ও বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশিত হওয়ার পর তা মুহূর্তের মধ্যে সবার মাঝে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়ে যায়। কাজি সাহেব কেন এমন অদ্ভুত একটি মন্তব্য করেছিলেন, মূলত সেই রহস্য উদ্ঘাটন করতে গিয়েই এই অদ্ভুত ও ভিন্নধর্মী 'বিয়ে নয়, বিয়ের ছবি তোলা দরকার'-এর নেপথ্য ঘটনাটি সবার গোচরে আসে এবং সেই সম্পূর্ণ কাহিনীটিই পরবর্তীতে সকলের সামনে তুলে ধরা হয়েছে।

সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
তাহিরপুরে ফেইসবুক পোস্ট কেন্দ্র করে সাবেক কনস্টেবল গ্রেপ্তার

তাহিরপুরে ফেইসবুক পোস্ট কেন্দ্র করে সাবেক কনস্টেবল গ্রেপ্তার