ঢাকা | বঙ্গাব্দ

পাঁচ বছরে সব শিক্ষার্থীকে ইন্টার্নশিপের পরিকল্পনা ইউজিসির

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 26, 2026 ইং
পাঁচ বছরে সব শিক্ষার্থীকে ইন্টার্নশিপের পরিকল্পনা ইউজিসির ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে দেশের উচ্চশিক্ষা খাতের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। সেখানে তিনি গবেষণায় সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমতার বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন।

গবেষণা খাতের অনুদান প্রসঙ্গে তিনি জানান, ইউজিসি গবেষণার ক্ষেত্রে কোনো পাবলিক বা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় ভেদাভেদ করে না। সম্পূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই অর্থায়ন করা হয়ে থাকে।

মানসম্মত গবেষণা প্রস্তাব জমা দিলে এবং তা যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই হওয়ার পরই কেবল প্রার্থীরা অনুদান পেয়ে থাকেন। ইউজিসি অ্যাওয়ার্ড এবং স্বর্ণপদকের মতো সম্মানজনক পুরস্কার বিতরণের ক্ষেত্রেও ঠিক একই ধরনের নীতি অনুসরণ করা হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

উচ্চশিক্ষার বিদ্যমান সংকট ও এর সমাধানে করণীয় সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে তিনি একে দেশের উচ্চশিক্ষার অন্যতম বড় সংকট হিসেবে চিহ্নিত করেন। এর একমাত্র সমাধান হিসেবে তিনি কোর্স কারিকুলাম ও সিলেবাস আধুনিকায়নের ওপর জোর দেন।

চাকরির বাজারের প্রকৃত বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে যৌথভাবে এই সিলেবাস সংশোধনের কাজ করতে হবে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন। এতে পরিস্থিতির কিছুটা হলেও উন্নতি ঘটবে বলে তার বিশ্বাস।

তবে তিনি মনে করিয়ে দেন যে, কেবল চাকরির বাজারের উপযোগী গ্র্যাজুয়েট তৈরি করাই বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র কাজ বা লক্ষ্য হতে পারে না।

শিক্ষার্থীদের প্রকৃত জ্ঞান অর্জন, গবেষণার মাধ্যমে নতুন জ্ঞান সৃষ্টি ও সংরক্ষণ করা এবং একই সঙ্গে বাজারের উপযোগী করে গড়ে তোলা—এই সবকিছুর সমন্বয়ই হলো আধুনিক শিক্ষা। বর্তমান সময়ে পাবলিক ও প্রাইভেট নির্বিশেষে সব বিশ্ববিদ্যালয়কেই ঠিক এই কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে গড়ে তোলা হচ্ছে।

তাদের বর্তমান কৌশলগত পরিকল্পনার একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো সিলেবাস ও কারিকুলামের আধুনিকায়ন করা। একজন শিক্ষার্থীকে অবশ্যই জ্ঞান অর্জন করতে হবে, গবেষণার মাধ্যমে নতুন জ্ঞান সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখতে হবে এবং আধুনিক সব দক্ষতা নিয়ে ক্যাম্পাস ছাড়তে হবে।

এর মূল উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীরা যেন দেশ কিংবা বিদেশ—উভয় জায়গাতেই কাজের উপযুক্ত সুযোগ লাভ করতে পারেন।

এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে মাতৃভাষা বাংলা এবং আন্তর্জাতিক ভাষা ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় আরেকটি বাড়তি ভাষা শেখার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

এই উদ্দেশ্যে ইতিমধ্যে দেশের ৫০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাষা শিক্ষা কেন্দ্র স্থাপনের একটি বিশেষ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে, যেগুলোর কার্যক্রম খুব শীঘ্রই আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হবে।

প্রতিটি উচ্চশিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্লেসমেন্ট সেন্টার, ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট সেন্টার, ইনোভেশন সেন্টার এবং ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার গড়ে তোলার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে।

এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তাদের অর্জিত তাত্ত্বিক দক্ষতা বাস্তবে প্রয়োগ করার সুযোগ পাবেন এবং বিভিন্ন বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গেও চমৎকার পারস্পরিক সম্পর্ক তৈরি হবে।

শিল্প প্রতিষ্ঠান বা ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা একাডেমিয়ার মেলবন্ধন তৈরি করতে ইন্টার্নশিপ চালুর জোরালো প্রস্তুতি চলছে।

বর্তমানে চিকিৎসাবিজ্ঞান ও কৃষি খাতের গ্র্যাজুয়েটরাই কেবল এই ইন্টার্নশিপ সুবিধার আওতাভুক্ত রয়েছেন।

তবে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি বিভাগের সব শিক্ষার্থীকে বাধ্যতামূলকভাবে এই ইন্টার্নশিপ ব্যবস্থার আওতায় নিয়ে আসার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

সূত্র: আজকের পত্রিকা


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
১৪ বছর বয়সে বুর্জ খলিফায় এআই প্রতিষ্ঠানের অফিস খুলল জয়নাম

১৪ বছর বয়সে বুর্জ খলিফায় এআই প্রতিষ্ঠানের অফিস খুলল জয়নাম