ঢাকা | বঙ্গাব্দ

জ্বালানি কূটনীতি ও নির্বাচন সামনে রেখে জামনগরে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 21, 2026 ইং
জ্বালানি কূটনীতি ও নির্বাচন সামনে রেখে জামনগরে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

ইরান যুদ্ধের ফলস্বরূপ তৈরি হওয়া অর্থনৈতিক চাপ সামলানো এবং আসন্ন মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রাক্কালে জ্বালানির মূল্যসীমাবদ্ধ রাখার উদ্দেশ্যে ভারত সফরে এসেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। এই কূটনৈতিক যাত্রার অংশ হিসেবে বুধবার তিনি পশ্চিম ভারতীয় রাজ্য গুজরাটের জামনগরে এসে পৌঁছান এবং সেখানে অবস্থিত বিশ্বের বৃহত্তম রিফাইনারি কমপ্লেক্সটি ঘুরে দেখেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের সূত্রে জানা গেছে, পূর্বনির্ধারিত কর্মপদ্ধতিতে পরিবর্তন এনে তিনি রাতে জামনগরেই কাটানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

গুজরাটের জামনগরে দাঁড়িয়ে থাকা এই বিশালকায় তেল শোধন কেন্দ্রটি ভারতীয় শিল্পগোষ্ঠী রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের মালিকানাধীন। শোধনাগার পরিদর্শনের পাশাপাশি মার্কো রুবিও রিলায়েন্সের প্রধান মুকেশ আম্বানি এবং ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসবেন। এর আগে ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গর স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন যে, জামনগরে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রিলায়েন্সের শীর্ষস্থানীয় কিছু কর্মকর্তার সঙ্গে মতবিনিময় করবেন।

সফরের সূচনালগ্নে গত মঙ্গলবারই ভারতের জ্বালানি খাতের বাজারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একটি বিরাট ভূমিকা পালন করবে বলে স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছিলেন মার্কো রুবিও। তিনি উল্লেখ করেন যে, নয়াদিল্লির সঙ্গে ওয়াশিংটনের একটি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি খুব শীঘ্রই সম্পাদিত হতে চলেছে। এর অব্যবহিত পূর্বে তিনি ভারতকে অপরিশোধিত তেল পরিশোধনের ক্ষেত্রে একটি ‘সুপারপাওয়ার’ হিসেবেও ভূয়সী প্রশংসা করেছিলেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মূল্যায়ন অনুযায়ী, আগামী নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে মার্কিন কংগ্রেসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘মিড টার্ম’ বা মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। তার আগেই ডিজেলসহ অন্যান্য জ্বালানি পণ্যের ঊর্ধ্বমুখী দাম স্থিতিশীল রাখা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের জন্য রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত অপরিহার্য। পাশাপাশি, চলমান ইরান সংকটের ভেতরে জ্বালানি সরবরাহের বিকল্প পথ উন্মুক্ত করে রাশিয়ার ওপর অতিরিক্ত অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করাও রুবিওর এই ভারত সফরের অন্যতম মূল উদ্দেশ্য।

অন্যদিকে, রিলায়েন্স সম্প্রতি মার্কিন মুলুকে বিশাল অঙ্কের বিনিয়োগ করার ঘোষণা দিয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে একে নিজেদের নীতিগত সাফল্যের অন্যতম বড় নিদর্শন হিসেবে প্রচার করছে। মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গর গত সপ্তাহে গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, চলতি বছরের শুরুতে রুবিও একবার ভারত সফর করলেও এবারের এই সফরটি তুলনামূলকভাবে অনেকটাই বেশি ব্যবসাকেন্দ্রিক। রুবিওর নিজস্ব কার্যালয় থেকে পূর্বে জারিকৃত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়েছিল যে, বাণিজ্যিক বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের নতুন ক্ষেত্রগুলো প্রসারিত করতে তিনি দেশের শীর্ষ ব্যবসায়িক ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।

বর্তমান সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক তেল বাজারের পুরো কাঠামোগত রূপ বদলে দিতে কাজ করছে। বিশেষ করে, চলতি বছরের শুরুর দিকে ভেনেজুয়েলার তৎকালীন রাষ্ট্রপ্রধান নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর দেশটির অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ চলে যায় ওয়াশিংটনের হাতে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ভেনেজুয়েলার সেই উৎপাদিত তেল আমদানির মাধ্যমে জামনগর শোধনাগারের উৎপাদন সক্ষমতাকে পুনরায় চাঙ্গা করে তোলা হচ্ছে।

গত মঙ্গলবার গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলাপকালে রুবিও স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, ভেনেজুয়েলা থেকে সংগৃহীত অপরিশোধিত তেল আরও বড় পরিমাণে পরিশোধনের প্রক্রিয়া নিয়ে তারা রিলায়েন্সের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করবেন।

বাজার ওোক্তাপণ্য বিশ্লেষণকারী খ্যাতিমান প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অক্টোবরের মাসজুড়ে রিলায়েন্সের শোধনাগার থেকে দৈনিক প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার থেকে ৩ লাখ ৭০ হাজার ব্যারেল তেল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হতে পারে বলে জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।

ভারতীয় শিল্পপতি মুকেশ আম্বানির মালিকানাধীন জামনগর শোধনাগারটি পৃথিবীর একক বৃহত্তম অপরিশোধিত তেল শোধন কারখানা হিসেবে স্বীকৃত। এই বিশাল শিল্প কমপ্লেক্সটির সম্মিলিত দৈনিক প্রক্রিয়াজাতকরণ ক্ষমতা হলো ১৪ লাখ ব্যারেল, যা গোটা বিশ্বের মোট শোধনাগার ক্ষমতার প্রায় ১ দশমিক ৫ শতাংশের সমান। এই সুবিশাল কমপ্লেক্সের ভেতর পৃথক দুটি শোধনাগার পরিচালিত হয়। এর মধ্যে ১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত প্রথম শোধনাগারটির দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা ৬ লাখ ৬০ হাজার ব্যারেল এবং ২০০৮ সালে চালু হওয়া দ্বিতীয় রপ্তানিমুখী শোধনাগারটি একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের অধীনে প্রতিদিন অতিরিক্ত ৫ লাখ ৮০ হাজার ব্যারেল তেল পরিশোধন করে থাকে।

গত মাসেই রিলায়েন্স কর্র্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, তাদের এই কমপ্লেক্সটি ইতিমধ্যে ২১৬টিরও বেশি ভিন্ন ধরনের অপরিশোধিত গ্রেড সাফল্যের সঙ্গে প্রক্রিয়াজাত করেছে। রিলায়েন্সের দাবি অনুযায়ী, সম্ভবত বিশ্বের অন্য কোনো শোধনাগারের এই অনন্য কৃতিত্ব অর্জন করার রেকর্ড নেই।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
শারজায় আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাঁচা-মরার লড়াইয়ে বাংলাদেশের ওয়

শারজায় আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাঁচা-মরার লড়াইয়ে বাংলাদেশের ওয়