ঢাকা | বঙ্গাব্দ

ট্রাম্পের বাধায় স্থগিত ইসরায়েলের তেহরান আক্রমণ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 23, 2026 ইং
ট্রাম্পের বাধায় স্থগিত ইসরায়েলের তেহরান আক্রমণ ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

গত বুধবার ব্রিটিশ গণমাধ্যম ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রকাশনায় উঠে এসেছে যে, গত ১০ অক্টোবরের সপ্তাহজুড়ে ইরানি ভূখণ্ডে বিমান হামলার পূর্ণ প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছিল ইসরায়েল। তাদের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী ওই দফায় দেশটির পরমাণু কেন্দ্র, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র এবং সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় আঘাত হানার কথা নির্ধারিত ছিল।

আসন্ন মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ওই সময় সংঘাতের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কায় তাতে বাধা দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার এমন বিরোধিতার মুখেই পরবর্তীতে সেই সামরিক অভিযানটি আপাতত স্থগিত করা হয়। আগামী ৩ নভেম্বর ওই মধ্যবর্তী নির্বাচন আয়োজিত হওয়ার কথা রয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইসরায়েলের এই প্রস্তাবিত সামরিক পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে তা চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া সংঘর্ষের পূর্বের রূপকে ছাড়িয়ে যেত। তাছাড়া পূর্বের সেই লড়াই খুব দ্রুতই গোটা মধ্যপ্রাচ্যের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল।

আসন্ন এই সম্ভাব্য যৌথ সামরিক কার্যক্রমে ওয়াশিংটন সরাসরি যুক্ত থাকবে কি না, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য এখনো প্রকাশ পায়নি। তবে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর স্ট্র্যাটেজি সম্পর্কে অবগত এক ব্যক্তি জানিয়েছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মিলে আবার যৌথ আক্রমণ শুরু করাটা পুরোপুরি অসম্ভব নয়।

ওই ব্যক্তি আরও যোগ করেন যে বর্তমান পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যেখানে হয় তেহরানের সঙ্গে একটি সুনির্দিষ্ট চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে, নতুবা বড় ধরনের হামলা পরিচালিত হবে। তার মতে, হোয়াইট হাউস বর্তমানে কূটনৈতিক মারপ্যাঁচে তেহরানকে তাদের নিজেদের শর্তে একটি সমঝোতায় রাজি করানোর পাঁয়তারা চালাচ্ছে।

আলোচনার টেবিলে থাকা এই সম্ভাব্য চুক্তির মূল বিষয়বস্তুর মধ্যে রয়েছে কৌশলগত হরমুজ প্রণালি ও ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি। এসবের মূল লক্ষ্য হলো চলমান উত্তেজনার চিরতরে অবসান ঘটানো।

সংবাদমাধ্যম ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, গেল সোমবার মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের ইসরায়েল সফরকালে দেশটির প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা তেহরানের ওপর হামলার একটি সংশোধিত তালিকা মার্কিন প্রশাসনের কাছে উপস্থাপন করেন। সদ্য সংগৃহীত নানা গোপনীয় গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই মূলত এই নতুন তালিকাটি সাজানো হয়েছিল।

তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, এই লক্ষ্যতালিকার মধ্যে বেসামরিক খাতের এমন কিছু স্পর্শকাতর স্থাপনাও স্থান পেয়েছিল, যেগুলোতে চলতি বছরের শুরুর দিকে চালানো অভিযানে কোনো ধরনের আক্রমণ করা হয়নি।

অন্য একটি গোপন সূত্রের বরাতে জানা গেছে, চলতি মাসের শুরুর দিকে তেল আবিবের সামরিক বাহিনী যে আক্রমণের ছক কষেছিল, তা মূলত তেহরানের সঙ্গে চলমান নানা কূটনৈতিক দরকষাকষিতে বাড়তি সুবিধা আদায় ও চাপ সৃষ্টির এক সুদূরপ্রসারী কৌশলও হতে পারত।

ওই একই সূত্র আরও জানিয়েছে যে, ভবিষ্যতে নতুন কোনো সামরিক আগ্রাসন চালানো হবে কি না, সেই বিষয়ে চূড়ান্ত সবুজ সংকেত বা সিদ্ধান্ত দেওয়ার একচ্ছত্র ক্ষমতা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতেই ন্যস্ত রয়েছে।

এদিকে হোয়াইট হাউসের উপমুখপাত্র আনা কেলি অবশ্য আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পূর্বে তেহরানের মাটিতে মার্কিন সামরিক বাহিনী কর্তৃক কোনো ধরনের হামলার সম্ভাবনা সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন।

তিনি ব্রিটিশ সংবাদপত্রটিকে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে, নির্ধারিত মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কোনো অবস্থাতেই ইরানে কোনো সামরিক অভিযান পরিচালনা করবে না। এছাড়া স্বয়ং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও নিশ্চিত করেছেন যে ভোটের এই নির্দিষ্ট সময়ের আগে তিনি ইরানে কোনো ধরনের হামলা চালানোর পক্ষে নন।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
জরিমানা ছাড়া গাড়ি ও লাইসেন্স হালনাগাদের শেষ সুযোগ ২৯ অক্টোবর

জরিমানা ছাড়া গাড়ি ও লাইসেন্স হালনাগাদের শেষ সুযোগ ২৯ অক্টোবর