নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় ঘটে যাওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ মোট সাতজন আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করা হয়েছিল। এই রায়ের প্রেক্ষাপটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আদালত অবমাননার শামিল অবমাননাকর মন্তব্য করার গুরুতর অভিযোগ ওঠে সুপ্রিম কোর্টের দুই আইনজীবীর বিরুদ্ধে।
এই ঘটনার আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর আদালতে হাজির হয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন অভিযুক্ত সেই দুই আইনজীবী। রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউশন বিভাগ তাঁদের বিরুদ্ধে এই আদালত অবমাননার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনেছিল।
সোমবার এই মামলার নির্ধারিত শুনানির দিন ধার্য ছিল। আদালতের কার্যক্রমে অভিযুক্ত দুই আইনজীবীর পক্ষে উপস্থিত হয়ে তাদের আইনজীবি মনসুরুল হক চৌধুরী আদালতকে জানান যে, তাঁর দুই মক্কেল নিজেদের ভুল বুঝতে পেরেছেন এবং ইতিমধ্যে তাঁদের নিজ নিজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে সেই আপত্তিকর পোস্টগুলো মুছে বা ডিলিট করে দিয়েছেন।
আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী আরও ব্যাখ্যা করেন যে, আবেগের তীব্র বশবর্তী হয়েই মূলত তাঁর মক্কেলরা ওই ভুল কাজটি করে ফেলেছিলেন। এ ছাড়া তিনি আদালতকে অবহিত করেন যে, অভিযুক্ত দুই আইনজীবী উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যে পড়াশোনা করেছেন।
আইনজীবীর এই যুক্তির প্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনাল তাৎক্ষণিক মন্তব্য করেন যে, আসামিরা যদি সত্যিই যুক্তরাজ্যে পড়াশোনা করে থাকেন, তবে তাঁদের কাছ থেকে এ ধরনের শিষ্টাচারবহির্ভূত কাজ সংঘটিত হওয়ার কথা ছিল না। কারণ হিসেবে আদালত উল্লেখ করেন যে, সেখানে প্রথমেই মানুষকে ভদ্রতা বা জেন্টেলিটি শিক্ষা দেওয়া হয়।
ট্রাইব্যুনাল আরও বলেন যে, বিচারব্যবস্থা ও বিচারকদের প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা বজায় রাখতে আমাদের সকলেরই যথেষ্ট পোলাইট বা ভদ্র ও নম্র হওয়া উচিত। এই মামলার শুনানিকালে অভিযুক্ত সুপ্রিম কোর্টের দুই আইনজীবী মো. হাসানুজ্জামান তুষার ও মোহাম্মদ হাসান চৌধুরী সশরীরে ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন।
শুনানি চলাকালীন আদালতের একটি বিশেষ পর্যায়ে অভিযুক্ত আইনজীবী মোহাম্মদ হাসান চৌধুরী নিজে ট্রাইব্যুনালের সামনে দাঁড়িয়ে জানান যে, তাঁরা নিজেদের কাজের জন্য গভীরভাবে অনুতপ্ত এবং আদালতের কাছে সসম্মানে ক্ষমা প্রার্থনা করছেন।
এরপর আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী আদালতকে জানান যে, অভিযুক্তরা তাঁদের পক্ষে আত্মপক্ষ সমর্থন করে যথাযথ বক্তব্য উপস্থাপনের জন্য আদালতের কাছে কিছুটা সময় প্রার্থনা করছেন। চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলামও অভিযুক্তদের এই সময়ের আবেদন মঞ্জুর করার পক্ষে নিজের মত প্রকাশ করেন।
সব পক্ষের বক্তব্য ও আইনি প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এই আদালত অবমাননা মামলার পরবর্তী শুনানির দিন আগামী ২৫ জানুয়ারি নির্ধারণ করেন।
সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর