নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
পরিবেশ সুরক্ষায় ব্যাটারি ব্যবস্থাপনার ওপর কঠোর কড়াকড়ি আরোপ করে নতুন নীতিমালা চূড়ান্ত করেছে প্রশাসন। এই নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে কোনো অবস্থাতেই পুরোনো কিংবা নষ্ট ব্যাটারি, অথবা এর কোনো অংশবিশেষ খোলা প্রান্তর, উর্বর মৃত্তিকা, জলরাশিতে কিংবা সাধারণ ভাগাড়ে ডাম্পিং বা প্রজ্বলন করা যাবে না। বাজারের খুচরা বা পাইকারি বিক্রেতারা যখন নতুন কোনো এনার্জি সেল বা সঞ্চায়ক বিক্রি করবেন, তখন তাদের ক্রেতার কাছ থেকে বাধ্যতামূলকভাবে একটি পরিত্যক্ত ইউনিট বুঝে নিতে হবে। পরবর্তীতে সেই সংগৃহীত পুরোনো সঞ্চায়ক নির্দিষ্টভাবে অনুমোদিত রিসাইক্লিং বা পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ প্ল্যান্টে পাঠানো নিশ্চিত করার আইনি দায়িত্বও বিক্রেতার ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে।
পরিবেশগত ছাড়পত্র বা লাইসেন্স পাওয়ার বিষয়টি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে ব্যাটারি গলানো বা ভাঙার কাজের জন্য। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান পরিবেশ দপ্তরের দাপ্তরিক অনুমতি ছাড়া এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ কার্যক্রম চালাতে পারবে না। অব্যবহৃত বা ব্যবহৃত এসব সঞ্চায়ক কেবল নিবন্ধিত ও অনুমোদিত কোনো ডিলার, পরিবেশক কিংবা নির্দিষ্ট সংগ্রাহকের মাধ্যমেই হস্তান্তর করতে হবে। পরিবেশ দূষণ রোধ এবং বিপজ্জনক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে বলে নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে।
ইলেকট্রনিক রিকশা বা ই-রিকশা তৈরির সঙ্গে যুক্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর লাইসেন্স দেওয়ার প্রক্রিয়া সুনির্দিষ্ট করতে একটি বিশেষ কমিটি গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের একজন অতিরিক্ত সচিবের ওপর এই কমিটির প্রধানের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে। গঠিত এই তদারকি কমিটিতে সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনের প্রতিনিধি, ট্রাফিক পুলিশ বিভাগের প্রতিনিধি, বুয়েট কিংবা অন্য কোনো স্বনামধন্য কারিগরি প্রতিষ্ঠানের মেকানিক্যাল ও ইলেকট্রিক্যাল বিভাগের বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধি এবং জেলা প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা যুক্ত থাকবেন।
উক্ত বিশেষ মূল্যায়ন কমিটির সুনির্দিষ্ট সুপারিশ এবং পরবর্তীতে সরকারের উচ্চপর্যায়ের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট লাইসেন্স প্রদানকারী কর্তৃপক্ষ ই-রিকশা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে উৎপাদন লাইসেন্স প্রদান করবে। নতুন এই কাঠামোর মাধ্যমে দেশে উৎপাদিত থ্রি-হুইলার বা হালকা যানবাহনের মান নিয়ন্ত্রণ এবং সার্বিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
যথাযথ নিবন্ধন বা লাইসেন্স ছাড়া সড়কে কোনো ই-রিকশা পরিচালনা করাকে সম্পূর্ণ বেআইনি ও দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর পাশাপাশি নির্দিষ্ট গতির সীমা লঙ্ঘন করা, গাড়িতে ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি যাত্রী ওঠানো, নিম্নমানের বা অননুমোদিত সঞ্চায়ক বা ব্যাটারি ব্যবহার করা এবং ইঞ্জিনের মূল মোটর কিংবা কাঠামোগগত অবয়ব পরিবর্তন করা অপরাধের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
নিষিদ্ধ ঘোষিত নির্দিষ্ট জোন বা এলাকায় গাড়ি নিয়ে প্রবেশ করা, অত্যন্ত বিপজ্জনক পন্থায় ড্রাইভ করা, ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করার মতো বিষয়গুলোকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। এমনকি কোনো দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ার মতো গুরুতর বিষয়গুলোকেও আইনের দৃষ্টিতে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। উল্লিখিত এই প্রতিটি অপরাধের ক্ষেত্রে কঠোর আইনগত পদক্ষেপ বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর