নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে। দ্য ন্যাশনাল পত্রিকার তথ্য অনুযায়ী, আঞ্চলিক উত্তেজনার ফলে কৌশলগত হরমুজ প্রণালি দিয়ে জলযান চলাচল মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই বিশ্বজুড়ে প্রতিমাসের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি সরবরাহের প্রায় কুড়ি শতাংশই সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। শেল কোম্পানির সাম্প্রতিক এলএনজি পূর্বাভাস প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, জ্বালানি সরবরাহের এই দীর্ঘসূত্রতা ও ঘাটতির কারণে এশিয়ার বেশ কয়েকটি রাষ্ট্র ইতিমধ্যে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে।
সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতারে। ইরানের নিক্ষিপ্ত ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে দেশটির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাস লাফান এলএনজি উৎপাদন স্থাপনাটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে এই স্থাপনাটিকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় এলএনজি উৎপাদনকেন্দ্র হিসেবে গণ্য করা হয়। এই বিশাল উৎপাদনকেন্দ্রে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটায় নড়েচড়ে বসেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
পরিস্থিতি সামাল দিতে কাতারএনার্জি বাধ্য হয়ে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে। বিশ্বের প্রভাবশালী কয়েকটি দেশের সঙ্গে তাদের পূর্বে সম্পাদিত দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সরবরাহ চুক্তির ক্ষেত্রে ‘ফোর্স মাজর’ বা অনিবার্য পরিস্থিতির ঘোষণা দিয়েছে তারা। কাতারএনার্জির এই সিদ্ধান্তের ফলে চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, ইতালি এবং বেলজিয়ামের মতো দেশগুলোর জ্বালানি আমদানির প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর